উদ্দীপকের 'ক' পদ্মা, মেঘনা, যমুনা বিধৌত অঞ্চল।
অঞ্চলটিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা ও নদী ভাঙনের নিয়মিত ও ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অন্যান্য দুর্যোগসমূহ যেমন- ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতির প্রভাব এ অঞ্চলে খুব বেশি পরিলক্ষিত হয় না। এছাড়া এ অঞ্চলটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকিও অনেক কম।
নিচে 'ক' অঞ্চলের প্রধান দুর্যোগ বন্যা ও নদী ভাঙনের সম্ভাব্য প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো-
বন্যার প্রভাব: বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বন্যা অন্যতম। এর ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, এমনকি মানুষের প্রাণহানিও ঘটতে পারে। এছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যহত হয়। পশুপাখির জীবন বিনষ্ট ও বিপন্ন হয়। ১৯৭৪, ১৯৭৮, ১৯৮৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮, ২০০০, ২০০৪ সালে অঞ্চলটিতে বন্যার প্রভাব ছিল ভয়াবহ।
নদী ভাঙনের প্রভাব: উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলটিতে পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র প্রভৃতি প্রধান নদীর সম্মিলিত প্রভাবে নদী ভাঙন একটি নিয়মিত ঘটনা। প্রতি বছর এ অঞ্চলে নদী ভাঙনের ফলে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদের মধ্যে প্রায় ৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছাড়ায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা। এছাড়াও প্রতিবছর প্রচুর জমি নদীভাঙনে নিঃশেষ হয়ে যায়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' অঞ্চলটিতে বন্যা ও নদী ভাঙনের ব্যাপক প্রভাব লক্ষ করা যায়।