উদ্দীপকে রাশেদ ও টিপু দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসের ব্যাপারে মন্তব্য করেছিল তা যুক্তিযুক্ত।
দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতি বলতে দুর্যোগপূর্ব সময়ে দুর্যোগের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থাসমূহকে বোঝায়। আগে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ, দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই। কিছু উপরিউল্লিখিত বিষয়গুলোকে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারলে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি থেকে অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। এজন্য দুর্যোগ এলাকা চিহ্নিত করে দুর্যোগের পূর্বেই নিরাপদ স্থানে আশ্রয়গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিতে হবে। গবাদিপশুগুলোকে নিরাপদে রাখার জন্য স্থান নির্বাচন করে সেখানে রেখে আসতে হবে। নিরাপদ পানি সঙ্গে নিতে হবে যাতে দুর্যোগের সময় পানীয় জলের অভাব না দেখা দেয়। দুর্যোগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ধৈর্যের সাথে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করতে হবে। উপরোল্লিখিত কার্যাবলি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে দুর্যোগের ভয়াবহ ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাবে যা উদ্দীপকের দুই বন্ধুর মন্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রাশেদ ও টিপুর মন্তব্য পুরোপুরি যুক্তিযুক্ত।