উদ্দীপকে উল্লিখিত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমনের ফলে বেশ কিছু প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। নিচে তা আলোচনা করা হলো-
অর্থনৈতিক প্রভাব: রোহিঙ্গারা এদেশে আগমন করার ফলে তাদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া তাদের বাসস্থান দিতে গিয়ে কৃষি জমি, বনভূমি নষ্ট হচ্ছে।
জনসংখ্যার ওপর প্রভাব: রোহিঙ্গারা টেকনাফ ও কক্সবাজারে বসতি স্থাপন করায় ঐসব এলাকায় বাড়তি জনসংখ্যার চাপ সহ্য করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের আবাসনজনিত সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সামাজিক প্রভাব: রোহিঙ্গারা এদেশে আগমন করায় সামাজিকভাবে
উক্ত অঞ্চল কিংবা পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে কিছুটা সামাজিক অবক্ষয়জনিত ঘর্টনা ঘটছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইয়াবা, মাদক, চোরাচালান ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ অসামাজিক ও অনৈতিক কাজের সাথে লিপ্ত হয়ে সমাজকে কলুষিত করছে।
পরিবেশগত প্রভাব রোহিঙ্গাদের এদেশের টেকনাফ ও কক্সবাজার অন্যলে অবস্থান করতে দেয়ায় উক্ত অঞ্চলের পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব ফুটে উঠেছে। যেমন- প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া, বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অনিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি সমস্যা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সুতরাং বলা যায় যে, বাংলাদেশ একটি ক্ষুদ্র আয়তনের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশ। এদেশের জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা মেটাতে গিয়েই সরকার হিমশিম খাচ্ছে। এমতাবস্থায় বাড়তি প্রায় ১০ লক্ষ রোহিঙ্গাদের এদেশে অবস্থান অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত সমস্যা প্রভৃতি মারাত্মক আকার ধারণ করছে বলে মনে করি।