Chapter 2 : জনসংখ্যা Geography 2nd Paper

HSC Geography 2nd Paper এর Chapter 2 : জনসংখ্যা অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৩৮৭

প্রশ্ন

Geography 2nd Paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dinajpur · 2017

ক
অভিগমনের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গমন করাকে অভিগমন (Migration) বলে। যেমন- ঢাকা থেকে রাজশাহী গমন।
খ
শিল্পোন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

শহর এলাকায় শিল্পের উন্নয়নের ফলে অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে থাকে। শিল্পের উন্নতি একটি দেশের অভিগমনের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উপাদান। শহর এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং কৃষিভিত্তিক নয় (যেমন- সেবা, বিনোদন, শিক্ষা সুবিধা) এমন সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ গ্রাম থেকে শিল্প এলাকায় অভ্যন্তরীণ অভিগমন করে থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে 'ক' দেশসমূহের জনসংখ্যার জনমিতিক উপাদান ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

চিত্র 'ক' এ উন্নত বিশ্বের দেশ সমূহের জনমিতিক উপাদান দেখানো হয়েছে। জনমিতিক উপাদান বলতে কোনো দেশের বয়স কাঠামো, উৎপাদনশীলতা, জন্মহার, মৃত্যুহার, লিঙ্গ অনুপাত প্রভৃতিকে বোঝানো হয়। উপরিউক্ত উপাদানগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কারণেই একটি দেশের উন্নত বা অনুন্নত হওয়া নির্ভর করে থাকে। 'ক' তথা উন্নত দেশসমূহের চিত্রটি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, চিত্রটির নিম্ন ও উপরের দিক কম প্রশস্ত এবং এর মাঝামাঝি অংশটি তুলনামূলক প্রশস্ত বা স্ফীত। অর্থাৎ চিত্রটির ভূমি কম প্রশস্ত, মাঝের দিকে প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়ে উপরের দিকে আবার হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে এবং জনসংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল। উন্নত দেশসমূহে নারী ও পুরুষের শতকরা বৃদ্ধির হারে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। এখানে নির্ভরশীল জনসংখ্যার (১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে) হার কম এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৮ থেকে ৬৫ বছর) পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলিতে তারা যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে।
ঘ
উদ্দীপকে 'খ' দেশসমূহের বয়স-লিঙ্গ কাঠামো ক-এর অনুরূপ আনতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

চিত্রে 'ক' ও 'খ' এ যথাক্রমে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বয়স- লিঙ্গ কাঠামো লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। উন্নত দেশসমূহে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই কম। অন্যদিকে অনুন্নত দেশে মৃত্যুহার কম থাকলেও জন্মহার অনেক বেশি। এছাড়াও 'ক' ও 'খ' দেশগুলোতে নারী-পুরুষের অনুপাত, কর্মক্ষম ও নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাত প্রভৃতিতে তারতম্য দেখা যায়। তাই চিত্রে- 'খ' দেশসমূহের বয়সলিঙ্গ কাঠামো 'ক' এর অনুরূপ আনতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারে। উন্নয়নশীল দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যার পরিমাণ ও বৃদ্ধির হার হ্রাস করার জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা সংকোচন প্রধানত দুইভাবে কার্যকর করা যেতে পারে। যেমন- ১। জন্মহার হ্রাস করার মাধ্যমে এবং ২। উদ্বাস্তু আগমন বন্ধ অথবা বহির্গমন বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত কোনো দেশের জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব নয়। সামাজিক-অর্থনেতিক উন্নয়ন হলে কোনো দেশের জন্মহার স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার ও জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রীসমূহ জনসাধারণের নিকট সহজলভ্য করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও অন্যান্য আরও কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে: ১। আইন করে বিবাহের বয়স বৃদ্ধি করা। ২। সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখার জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা। ৩। সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৪। মহিলাদের জন্য অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ৫। বৃদ্ধ বয়স, সংকট ও দুর্দশার সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা। উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যাকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হবে। এ অবস্থায় 'খ' দেশগুলোর বয়স-লিঙ্গ কাঠামো 'ক'- এর অনুরূপ হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dinajpur · 2017

ক
অভিগমনের সংজ্ঞা দাও।

উত্তর

মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গমন করাকে অভিগমন (Migration) বলে। যেমন- ঢাকা থেকে রাজশাহী গমন।
খ
শিল্পোন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

শহর এলাকায় শিল্পের উন্নয়নের ফলে অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে থাকে। শিল্পের উন্নতি একটি দেশের অভিগমনের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উপাদান। শহর এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং কৃষিভিত্তিক নয় (যেমন- সেবা, বিনোদন, শিক্ষা সুবিধা) এমন সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ গ্রাম থেকে শিল্প এলাকায় অভ্যন্তরীণ অভিগমন করে থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে 'ক' দেশসমূহের জনসংখ্যার জনমিতিক উপাদান ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

চিত্র 'ক' এ উন্নত বিশ্বের দেশ সমূহের জনমিতিক উপাদান দেখানো হয়েছে। জনমিতিক উপাদান বলতে কোনো দেশের বয়স কাঠামো, উৎপাদনশীলতা, জন্মহার, মৃত্যুহার, লিঙ্গ অনুপাত প্রভৃতিকে বোঝানো হয়। উপরিউক্ত উপাদানগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কারণেই একটি দেশের উন্নত বা অনুন্নত হওয়া নির্ভর করে থাকে। 'ক' তথা উন্নত দেশসমূহের চিত্রটি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, চিত্রটির নিম্ন ও উপরের দিক কম প্রশস্ত এবং এর মাঝামাঝি অংশটি তুলনামূলক প্রশস্ত বা স্ফীত। অর্থাৎ চিত্রটির ভূমি কম প্রশস্ত, মাঝের দিকে প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়ে উপরের দিকে আবার হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে এবং জনসংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল। উন্নত দেশসমূহে নারী ও পুরুষের শতকরা বৃদ্ধির হারে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। এখানে নির্ভরশীল জনসংখ্যার (১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে) হার কম এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৮ থেকে ৬৫ বছর) পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলিতে তারা যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে।
ঘ
উদ্দীপকে 'খ' দেশসমূহের বয়স-লিঙ্গ কাঠামো ক-এর অনুরূপ আনতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

চিত্রে 'ক' ও 'খ' এ যথাক্রমে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বয়স- লিঙ্গ কাঠামো লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে। উন্নত দেশসমূহে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই কম। অন্যদিকে অনুন্নত দেশে মৃত্যুহার কম থাকলেও জন্মহার অনেক বেশি। এছাড়াও 'ক' ও 'খ' দেশগুলোতে নারী-পুরুষের অনুপাত, কর্মক্ষম ও নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাত প্রভৃতিতে তারতম্য দেখা যায়। তাই চিত্রে- 'খ' দেশসমূহের বয়সলিঙ্গ কাঠামো 'ক' এর অনুরূপ আনতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারে। উন্নয়নশীল দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যার পরিমাণ ও বৃদ্ধির হার হ্রাস করার জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা সংকোচন প্রধানত দুইভাবে কার্যকর করা যেতে পারে। যেমন- ১। জন্মহার হ্রাস করার মাধ্যমে এবং ২। উদ্বাস্তু আগমন বন্ধ অথবা বহির্গমন বৃদ্ধি করে। প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত কোনো দেশের জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব নয়। সামাজিক-অর্থনেতিক উন্নয়ন হলে কোনো দেশের জন্মহার স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার ও জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রীসমূহ জনসাধারণের নিকট সহজলভ্য করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও অন্যান্য আরও কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে: ১। আইন করে বিবাহের বয়স বৃদ্ধি করা। ২। সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখার জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা। ৩। সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। ৪। মহিলাদের জন্য অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। ৫। বৃদ্ধ বয়স, সংকট ও দুর্দশার সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা। উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যাকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হবে। এ অবস্থায় 'খ' দেশগুলোর বয়স-লিঙ্গ কাঠামো 'ক'- এর অনুরূপ হবে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
CDR এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর

CDR এর পূর্ণরূপ হলো Crude Death Rate।
খ
জনসংখ্যার ঘনত্ব কিভাবে নির্ণয় করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কত জন লোক বাস করে তা বোঝায়। কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে সে দেশের আয়তন দ্বারা ভাগ করলেই প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাসকারী জনসংখ্যার ঘনত্ব পাওয়া যায়। জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি নিম্নরূপ: মোটজনসংখ্যামোটআয়তনমোট জনসংখ্যা \over মোট আয়তন।
গ
'A′A^{\prime} অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

চিত্রের 'A′A^{\prime} ঢাকা অঞ্চলকে নির্দেশ করে। ঢাকা অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাংলাদেশে সর্বাধিক। এ অঞ্চলে অধিক জনঘনত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বেশ কয়েকটি নিয়ামক রয়েছে। যেমন- i. ঢাকা অঞ্চলের সমতল ভূপ্রকৃতিতে কৃষি ও শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, যা মানুষের বসবাসকে আকৃষ্ট করে। ii. নদী তীরবর্তী ঢাকা অঞ্চলে (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর) মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য কৃষিকাজের অনুকূল হওয়ায় এখানে নিবিড় বসতি গড়ে উঠেছে। iii. ঢাকা অঞ্চলে পানি সহজলভ্য। নদী ছাড়াও গভীর মৃত্তিকা স্তরে পানির মজুদ রয়েছে। iv. এখানে দেশের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি রয়েছে। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। V. বর্তমান সময়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শহরের যেমন- (নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর) অবস্থান, আধুনিক প্রগতিশীল সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক হয়েছে। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। vi. ঢাকা অঞ্চলে ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটেছে। যেমন- এ অঞ্চলে দেশের সিংহভাগ তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান। আবার ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরে শিল্পের পাশাপাশি নগরায়ন প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল। ফলে জনঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। vii. সর্বোপরি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এ অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলে শিক্ষা, প্রশাসনিক কাজ, চিকিৎসা এবং সেবাখাতের সর্বোচ্চ সুবিধা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়ামকের আনুকূল্যে ঢাকা অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হয়েছে।
ঘ
'B′B^{\prime} ও 'C′C^{\prime} অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মানচিত্রে 'C′C^{\prime} ও 'B′B^{\prime} যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নির্দেশ করে। এ দুই অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্বে বেশ তারতম্য রয়েছে। এর পিছনে প্রাকৃতিক ও সামাজিক কারণ ক্রিয়াশীল। সমুদ্রতীরবর্তী চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশ বিস্তৃত সমভূমি (তীর ভূমি) রয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বন্ধুর ভূপ্রকৃতির অঞ্চল। উঁচু পার্বত্য এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর বলে জনসংখ্যার ঘনত্ব সেখানে অনেক কম। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের জলবায়ু সমুদ্র সান্নিধ্যের কারণে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী ও উঁচু পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে আরামদায়ক। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অধিক জনঘনত্ব দেখা যায়। সমুদ্রের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং প্রধানতম সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, সেবা সুবিধাও এখানে অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে জনঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম এদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। সেখানে যোগাযোগ ও পরিবহনও কষ্টসাধ্য। তাই বনজ সম্পদে বেশ সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে পারে নি এবং স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলে জনঘনত্ব কম। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, নানা প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ অনুকূল না হওয়ায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনঘনত্বে ব্যাপক পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image

Dhaka · 2017

ক
CDR এর পূর্ণরূপ কী?

উত্তর

CDR এর পূর্ণরূপ হলো Crude Death Rate।
খ
জনসংখ্যার ঘনত্ব কিভাবে নির্ণয় করা হয়? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

জনসংখ্যার ঘনত্ব বলতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কত জন লোক বাস করে তা বোঝায়। কোনো দেশের মোট জনসংখ্যাকে সে দেশের আয়তন দ্বারা ভাগ করলেই প্রতি বর্গ কিলোমিটারে বসবাসকারী জনসংখ্যার ঘনত্ব পাওয়া যায়। জনসংখ্যার ঘনত্ব নির্ণয়ের সূত্রটি নিম্নরূপ: মোটজনসংখ্যামোটআয়তনমোট জনসংখ্যা \over মোট আয়তন।
গ
'A′A^{\prime} অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী নিয়ামকসমূহ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

চিত্রের 'A′A^{\prime} ঢাকা অঞ্চলকে নির্দেশ করে। ঢাকা অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাংলাদেশে সর্বাধিক। এ অঞ্চলে অধিক জনঘনত্বের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী বেশ কয়েকটি নিয়ামক রয়েছে। যেমন- i. ঢাকা অঞ্চলের সমতল ভূপ্রকৃতিতে কৃষি ও শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, যা মানুষের বসবাসকে আকৃষ্ট করে। ii. নদী তীরবর্তী ঢাকা অঞ্চলে (নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর) মৃত্তিকার বৈশিষ্ট্য কৃষিকাজের অনুকূল হওয়ায় এখানে নিবিড় বসতি গড়ে উঠেছে। iii. ঢাকা অঞ্চলে পানি সহজলভ্য। নদী ছাড়াও গভীর মৃত্তিকা স্তরে পানির মজুদ রয়েছে। iv. এখানে দেশের যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি রয়েছে। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। V. বর্তমান সময়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতি মানুষকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ঢাকা অঞ্চলে বেশ কয়েকটি শহরের যেমন- (নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর) অবস্থান, আধুনিক প্রগতিশীল সংস্কৃতির বিকাশে সহায়ক হয়েছে। ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। vi. ঢাকা অঞ্চলে ব্যাপকভাবে শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটেছে। যেমন- এ অঞ্চলে দেশের সিংহভাগ তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান। আবার ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরে শিল্পের পাশাপাশি নগরায়ন প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল। ফলে জনঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। vii. সর্বোপরি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এ অঞ্চলে অবস্থিত। এ অঞ্চলে শিক্ষা, প্রশাসনিক কাজ, চিকিৎসা এবং সেবাখাতের সর্বোচ্চ সুবিধা রয়েছে। সুতরাং বলা যায়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক নিয়ামকের আনুকূল্যে ঢাকা অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অধিক হয়েছে।
ঘ
'B′B^{\prime} ও 'C′C^{\prime} অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্যের কারণ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

মানচিত্রে 'C′C^{\prime} ও 'B′B^{\prime} যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল নির্দেশ করে। এ দুই অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্বে বেশ তারতম্য রয়েছে। এর পিছনে প্রাকৃতিক ও সামাজিক কারণ ক্রিয়াশীল। সমুদ্রতীরবর্তী চট্টগ্রাম অঞ্চলে বেশ বিস্তৃত সমভূমি (তীর ভূমি) রয়েছে। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বন্ধুর ভূপ্রকৃতির অঞ্চল। উঁচু পার্বত্য এলাকায় মানুষের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টকর বলে জনসংখ্যার ঘনত্ব সেখানে অনেক কম। এছাড়া চট্টগ্রাম অঞ্চলের জলবায়ু সমুদ্র সান্নিধ্যের কারণে অপেক্ষাকৃত দূরবর্তী ও উঁচু পার্বত্য চট্টগ্রাম হতে আরামদায়ক। ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে অধিক জনঘনত্ব দেখা যায়। সমুদ্রের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ এবং প্রধানতম সমুদ্র বন্দর গড়ে উঠেছে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে। শিক্ষা, চিকিৎসা, সেবা সুবিধাও এখানে অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিকভাবেই এখানে জনঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। অথচ পার্বত্য চট্টগ্রাম এদিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। সেখানে যোগাযোগ ও পরিবহনও কষ্টসাধ্য। তাই বনজ সম্পদে বেশ সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে পারে নি এবং স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলে জনঘনত্ব কম। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, নানা প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক কারণ অনুকূল না হওয়ায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জনঘনত্বে ব্যাপক পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

২০১৭ সালে ৬ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করে বাংলাদেশ বিশ্বসমাজে প্রশংসিত হলেও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

Rajshahi · 2018

ক
জন্মহার কাকে বলে?

উত্তর

প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে বছরে যতজন জীবন্ত শিশুর জন্ম হয় তাকে জন্মহার বলে।
খ
ঘনত্বের বিচারে রাঙ্গামাটি কোন ধরনের জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ঘনত্বের বিচারে রাঙামাটি বিরল জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি. এ ১,০০০ জনের কম সেসব অঞ্চলকে বিরল জনবসতিযুক্ত অঞ্চল বলে। চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার জনসংখ্যা প্রতি বর্গ কি.মি. এ ১,০০০ জনের কম। তাই বলা যায় রাঙামাটি জেলা বিরল জবসতির অন্তর্ভুক্ত।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আগমন কোন ধরনের অভিগমন- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠী অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণ বলপূর্বক অভিগমনের আওতায় পড়ে। মানুষ একস্থান হতে অন্যস্থানে গমন করে স্থায়িভাবে বাস করলে তাকে অভিগমন বলে। এ অভিগমন একদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যেও হতে পারে আবার একদেশ থেকে অন্যদেশেও হতে পারে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসা এক ধরনের অভিগমনের আওতাভুক্ত। অভিগমন আবার দুই ধরনের। অবাধ-অভিগমন ও বলপূর্বক অভিগমন। তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ বলপূর্বক অভিগমনের অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক চাপের মুখে কিংবা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে যে অভিগমন করে, তাকে বলপূর্বক অভিগমন বলে। গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের কারণে বা যুদ্ধের কারণে কেউ যদি অভিগমন করে তবে তাকেও বলপূর্বক অভিগমন বলে। যেমন সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানগণ কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়। এ কারণে এদেরকে বলপূর্বক, অভিগমনের আওতাভুক্ত করা হয়।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আগমনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মায়ানমার থেকে মুসলিম রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিগমনের ফলে এসব অঞ্চলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জনবৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হবে। অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্যই মানুষ অভিবাসনে আগ্রহী হয়।রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে এসব অঞ্চলে ভূমি ও সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, জীবনযাত্রার মান নিম্ন হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এ অভিগমনের ফলে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগই বেশি হয়। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে প্রবেশের ফলে এ অঞ্চলে সামাজিক ও আচার- আচরণের অনেক পরিবর্তন হবে। সামাজিক অনেক রীতিনীতি একদেশ থেকে অন্যদেশে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটবে। অধিক হারে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের ফলে এ অঞ্চলে ঐ দেশের সংস্কৃতি রপ্ত করার কারণে নিজের দেশের সামাজিক বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ণ হবে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা এদেশে প্রবেশের ফলে তাদের মৌলিক চাহিদা সহজে মিটাতে পারে না। এমনকি তারা মানবেতর জীবনযাপন করে। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুকূল পরিবেশ থেকে এরা বঞ্চিত হয়। ফলে রোগ-শোক, অভাব-অনটন এদেরকে গ্রাস করে ফেলে। সর্বোপরি বলা যায়, রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমান সময়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ এ সমস্যার জন্য সার্বিক পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

২০১৭ সালে ৬ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গা তাদের নিজ দেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদান করে বাংলাদেশ বিশ্বসমাজে প্রশংসিত হলেও নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

Rajshahi · 2018

ক
জন্মহার কাকে বলে?

উত্তর

প্রতি এক হাজার লোকের মধ্যে বছরে যতজন জীবন্ত শিশুর জন্ম হয় তাকে জন্মহার বলে।
খ
ঘনত্বের বিচারে রাঙ্গামাটি কোন ধরনের জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

ঘনত্বের বিচারে রাঙামাটি বিরল জনবসতি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। বাংলাদেশে যেসব অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কি.মি. এ ১,০০০ জনের কম সেসব অঞ্চলকে বিরল জনবসতিযুক্ত অঞ্চল বলে। চট্টগ্রাম বিভাগের রাঙামাটি জেলার জনসংখ্যা প্রতি বর্গ কি.মি. এ ১,০০০ জনের কম। তাই বলা যায় রাঙামাটি জেলা বিরল জবসতির অন্তর্ভুক্ত।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আগমন কোন ধরনের অভিগমন- ব্যাখ্যা কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠী অর্থাৎ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় গ্রহণ বলপূর্বক অভিগমনের আওতায় পড়ে। মানুষ একস্থান হতে অন্যস্থানে গমন করে স্থায়িভাবে বাস করলে তাকে অভিগমন বলে। এ অভিগমন একদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যেও হতে পারে আবার একদেশ থেকে অন্যদেশেও হতে পারে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রোহিঙ্গাদের মায়ানমার ছেড়ে বাংলাদেশে আসা এক ধরনের অভিগমনের আওতাভুক্ত। অভিগমন আবার দুই ধরনের। অবাধ-অভিগমন ও বলপূর্বক অভিগমন। তবে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ বলপূর্বক অভিগমনের অন্তর্ভুক্ত। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক চাপের মুখে কিংবা পরোক্ষভাবে অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ সৃষ্টির ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে যে অভিগমন করে, তাকে বলপূর্বক অভিগমন বলে। গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের কারণে বা যুদ্ধের কারণে কেউ যদি অভিগমন করে তবে তাকেও বলপূর্বক অভিগমন বলে। যেমন সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ মায়ানমারের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ও সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গার কারণেই রোহিঙ্গা মুসলমানগণ কক্সবাজারের উখিয়ায় আশ্রয় নেয়। এ কারণে এদেরকে বলপূর্বক, অভিগমনের আওতাভুক্ত করা হয়।
ঘ
উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে আগমনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত জনগোষ্ঠী অর্থাৎ মায়ানমার থেকে মুসলিম রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের উখিয়ায় অভিগমনের ফলে এসব অঞ্চলে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও জনবৈশিষ্ট্যগত পরিবর্তন সাধিত হবে। অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্যই মানুষ অভিবাসনে আগ্রহী হয়।রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে এসব অঞ্চলে ভূমি ও সম্পত্তির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়, জীবনযাত্রার মান নিম্ন হয় এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এ অভিগমনের ফলে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগই বেশি হয়। রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারে প্রবেশের ফলে এ অঞ্চলে সামাজিক ও আচার- আচরণের অনেক পরিবর্তন হবে। সামাজিক অনেক রীতিনীতি একদেশ থেকে অন্যদেশে স্থানান্তরিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন রোগের বিস্তার ঘটবে। অধিক হারে রোহিঙ্গাদের প্রবেশের ফলে এ অঞ্চলে ঐ দেশের সংস্কৃতি রপ্ত করার কারণে নিজের দেশের সামাজিক বৈশিষ্ট্য ক্ষুণ্ণ হবে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা এদেশে প্রবেশের ফলে তাদের মৌলিক চাহিদা সহজে মিটাতে পারে না। এমনকি তারা মানবেতর জীবনযাপন করে। খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ব্যবস্থার অনুকূল পরিবেশ থেকে এরা বঞ্চিত হয়। ফলে রোগ-শোক, অভাব-অনটন এদেরকে গ্রাস করে ফেলে। সর্বোপরি বলা যায়, রোহিঙ্গা সমস্যা বর্তমান সময়ের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। কারণ এ সমস্যার জন্য সার্বিক পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো