HSCGeography 2nd Paperসৃজনশীল
উদ্দীপক

Dinajpur · 2017
ক
অভিগমনের সংজ্ঞা দাও।
উত্তর
মানুষের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থায়ী বা অস্থায়ীভাবে গমন করাকে অভিগমন (Migration) বলে। যেমন- ঢাকা থেকে রাজশাহী গমন।
খ
শিল্পোন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে- ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
শহর এলাকায় শিল্পের উন্নয়নের ফলে অভ্যন্তরীণ অভিগমন ঘটে থাকে। শিল্পের উন্নতি একটি দেশের অভিগমনের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উপাদান। শহর এলাকায় শিল্প প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং কৃষিভিত্তিক নয় (যেমন- সেবা, বিনোদন, শিক্ষা সুবিধা) এমন সুবিধা বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষ গ্রাম থেকে শিল্প এলাকায় অভ্যন্তরীণ অভিগমন করে থাকে।
গ
উদ্দীপকের আলোকে 'ক' দেশসমূহের জনসংখ্যার জনমিতিক উপাদান ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
চিত্র 'ক' এ উন্নত বিশ্বের দেশ সমূহের জনমিতিক উপাদান দেখানো হয়েছে।
জনমিতিক উপাদান বলতে কোনো দেশের বয়স কাঠামো, উৎপাদনশীলতা, জন্মহার, মৃত্যুহার, লিঙ্গ অনুপাত প্রভৃতিকে বোঝানো হয়। উপরিউক্ত উপাদানগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কারণেই একটি দেশের উন্নত বা অনুন্নত হওয়া নির্ভর করে থাকে।
'ক' তথা উন্নত দেশসমূহের চিত্রটি লক্ষ করলে দেখা যায় যে, চিত্রটির নিম্ন ও উপরের দিক কম প্রশস্ত এবং এর মাঝামাঝি অংশটি তুলনামূলক প্রশস্ত বা স্ফীত। অর্থাৎ চিত্রটির ভূমি কম প্রশস্ত, মাঝের দিকে প্রশস্ততা বৃদ্ধি পেয়ে উপরের দিকে আবার হ্রাস পেয়েছে। সুতরাং বলা যায় যে, এ অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস পেয়েছে এবং জনসংখ্যা তুলনামূলক স্থিতিশীল। উন্নত দেশসমূহে নারী ও পুরুষের শতকরা বৃদ্ধির হারে খুব বেশি পার্থক্য দেখা যায় না। এখানে নির্ভরশীল জনসংখ্যার (১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের উর্ধ্বে) হার কম এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যার (১৮ থেকে ৬৫ বছর) পরিমাণ অনেক বেশি। ফলে দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলিতে তারা যথেষ্ট অবদান রাখতে পারে।
ঘ
উদ্দীপকে 'খ' দেশসমূহের বয়স-লিঙ্গ কাঠামো ক-এর অনুরূপ আনতে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর
চিত্রে 'ক' ও 'খ' এ যথাক্রমে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের বয়স- লিঙ্গ কাঠামো লেখচিত্রের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
উন্নত দেশসমূহে জন্মহার ও মৃত্যুহার উভয়ই কম। অন্যদিকে অনুন্নত দেশে মৃত্যুহার কম থাকলেও জন্মহার অনেক বেশি। এছাড়াও 'ক' ও 'খ' দেশগুলোতে নারী-পুরুষের অনুপাত, কর্মক্ষম ও নির্ভরশীল জনসংখ্যার অনুপাত প্রভৃতিতে তারতম্য দেখা যায়। তাই চিত্রে- 'খ' দেশসমূহের বয়সলিঙ্গ কাঠামো 'ক' এর অনুরূপ আনতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেয়া যেতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যার পরিমাণ ও বৃদ্ধির হার হ্রাস করার জন্য কিছু নীতি গ্রহণ করতে পারে। এক্ষেত্রে জনসংখ্যা সংকোচন প্রধানত দুইভাবে কার্যকর করা যেতে পারে। যেমন-
১। জন্মহার হ্রাস করার মাধ্যমে এবং
২। উদ্বাস্তু আগমন বন্ধ অথবা বহির্গমন বৃদ্ধি করে।
প্রকৃতপক্ষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যতীত কোনো দেশের জন্মহার হ্রাস করা সম্ভব নয়। সামাজিক-অর্থনেতিক উন্নয়ন হলে কোনো দেশের জন্মহার স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। এছাড়া জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার ও জন্মনিয়ন্ত্রণের সামগ্রীসমূহ জনসাধারণের নিকট সহজলভ্য করা প্রয়োজন। এ ছাড়াও অন্যান্য আরও কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে:
১। আইন করে বিবাহের বয়স বৃদ্ধি করা।
২। সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখার জন্য জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করা।
৩। সামাজিক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৪। মহিলাদের জন্য অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা।
৫। বৃদ্ধ বয়স, সংকট ও দুর্দশার সময়ে সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা।
উপরিউক্ত পদক্ষেপগুলো গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশসমূহ তাদের জনসংখ্যাকে একটি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখতে সক্ষম হবে। এ অবস্থায় 'খ' দেশগুলোর বয়স-লিঙ্গ কাঠামো 'ক'- এর অনুরূপ হবে।
সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো
