এ উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত দেশদ্বয় হলো যথাক্রমে বাংলাদেশ ও জাপান। নিচে দেশদ্বয়ের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ভিন্ন হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
১ . জন্মহার: বাংলাদেশে জন্মহার তুলনামূলকভাবে উচ্চ। ২০২২ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২২% এবং মোট প্রজনন হার নারী প্রতি ২.৩৩ শিশু।
২০২২ সালে জাপানে জন্মহার রেকর্ড নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিবছর যে পরিমাণ শিশু জন্মগ্রহণ করে তার থেকে প্রায় ৮ লাখ শিশুর কম জন্ম হয়েছে। মোট প্রজনন হার ১.৩ এর নিচে।
২. মৃত্যুহার: বাংলাদেশে মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে কমেছে। চিকিৎসা সুবিধার উন্নতি ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৩ সালে প্রতি হাজারে মৃত্যুহার ছিল ৬.১। গড় আয়ু ৭২.৩ বছর। তরুণ জনসংখ্যার প্রাধান্য (৬০%, ০-২৫ বয়েসি) জন্মহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
জাপানে গড় আয়ু বেশি (৮৫ বছর)। এবং বয়স্ক জনসংখ্যার আধিক্য জন্মহার হ্রাসের অন্যতম কারণ।
৩. অর্থনৈতিক কাঠামো: বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ, যেখানে দারিদ্র্য, নিম্ন জীবনযাত্রার মান এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারকে প্রভাবিত করে। জাপান একটি উন্নত দেশ, যেখানে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, উচ্চ শিক্ষাহার এবং শহুরে জীবনধারা জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস করেছে।
৪.শিক্ষা ও সাক্ষরতা: ২০২২ সালে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৭৪.৬৬%। কিন্তু গ্রামীণ এলাকায় তুলনামূলক কম ছিল। নারী শিক্ষার অভাব জন্মহার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
জাপানে সাক্ষরতার হার প্রায় ১০০% এবং নারী-পুরুষ উভয়ের উচ্চ শিক্ষা জন্মহার হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতএব, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি জনমিতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে দুই দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ভিন্ন।