দৃশ্যকল্প-২ এ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আগমন উল্লেখ করা হয়েছে যা বলপূর্বক আন্তর্জাতিক অভিগমনের অন্তর্ভূক্ত।
আন্তর্জাতিক অভিগমন মূলত দুই কারণে সংঘটিত হয়। যেমন- আকর্ষণ ও বিকর্ষণজনিত কারণ। যেসব উপাদান স্বদেশ ত্যাগ করে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য বাধ্য করে তাকে বিকর্ষণজনিত কারণ বলে। উদ্দীপকে রোহিঙ্গাদের অভিগমন বলপূর্বক সংঘটিত হয়েছে। এ ধরনের অভিগমন গৃহযুদ্ধ, সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের কারণে সংঘটিত হয়। রোহিঙ্গারা নিজের ইচ্ছায় বাংলাদেশে আসেনি বরং সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের কারণে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে অস্থায়ীভাবে আবাস স্থাপন করেছে।
সুতরাং বলা যায়, রোহিঙ্গাদের অভিগমনটি আন্তর্জাতিক বিকৰ্ষণজনিত বা বলপূর্বক অভিগমন।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বলপূর্বক বাংলাদেশে আগমনের নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়। যথা-
i. এ ধরনের অভিগমনের ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা প্রভাবিত হবে। চাকরি, কাজকর্ম, ব্যবসা, বাসস্থানের ওপর অধিক চাপ পড়বে।
ii. রোহিঙ্গাদের বলপূর্বক ও অপ্রত্যাশিত অভিগমন অধিক জনসংখ্যার বাংলাদেশে জনসংখ্যা সমস্যা প্রকট করে তুলবে।
iii. অভিগমনকৃত জনগোষ্ঠীর মানুষদের পরস্পর সামাজিক বন্ধন শিথিল হয়ে হতাশা বৃদ্ধি পাবে। তারা বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হবে। ফলে বাংলাদেশের সামাজিক শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।
iv. পরিবেশের ওপর অভিগমনের বিশেষ প্রভাব রয়েছে। রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে এদেশের সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অধিক জনসংখ্যার ফলে অপরিকল্পিতভাবে বাসস্থান ও স্থাপনা তৈরি হওয়ায় ঘিঞ্জি বসতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এছাড়াও প্রাকৃতিক সম্পদের (ভূমি, বন) ওপর অধিক চাপ পড়ছে।
সুতরাং বলা যায়, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আগমনের ফলে তাদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।