জনমিতিক ট্রানজিশনাল মডেলের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে বাংলাদেশ জনসংখ্যা উত্তরণের দ্বিতীয় পর্যায়ে অবস্থান করছে।
চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রভৃতি কারণে এ পর্যায়ে মৃত্যুহার হ্রাস পায়। পক্ষান্তরে, অর্থনৈতিক উন্নতি সত্ত্বে সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের অভাবে প্রকৃত আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন না হওয়ায় জন্মহার হ্রাস না পেয়ে পূর্বগতিতেই চলতে থাকে। অর্থাৎ জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার দ্রুতগতিতে হ্রাস পায়। ফলে উচ্চ জন্মহার ও নিম্ন মৃত্যুহারের কারণে এ স্তরে জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে। জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ অনুযায়ী, এদেশে প্রতি হাজারে জন্মহার ১৮.৫ জন এবং মৃত্যুহার ৫.১ জন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। ২০২২ সালের জনশুমারি বাংলাদেশের জনসংখ্যা হয় সাড়ে ১৬ কোটি। বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মৃত্যুহার হ্রাস পেয়েছে কিন্তু জন্মহার সেই তুলনায় হ্রাস পায়নি । ফলে জনসংখ্যা দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অতএব বলা যায়, বর্তমানে জনসংখ্যা উত্তরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জনমিতিক অবস্থান্তর প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে।