মানচিত্রে 'ক' ও 'খ' হলো যথাক্রমে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চল। ঘনত্বের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম কম জন অধ্যুষিত (প্রতি বর্গ কি.মি. ১০০০ - ১৫০০) এবং সিলেট বিরল জন অধ্যুষিত (প্রতি বর্গ কি.মি. ৫০০ - ১০০ জন) অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। নিচে 'ক' ও 'খ' অঞ্চলের জনসংখ্যার ঘনত্বের ভিন্নতার কারণ ব্যাখ্যা কর।
ভৌগোলিকভাবে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগত কিছু পার্থক্য আছে। এ পার্থক্যের কারণে এ দুই অঞ্চলের জনসংখ্যা ঘনত্বের মধ্যে কিছুটা তারতম্য হয়।পর্বতময় অঞ্চল হওয়ার কারণে চট্টগ্রামের জনবসতি কিছুটা কম। কিন্তু প্রচুর শিল্প প্রতিষ্ঠান, সমুদ্রবন্দর, ব্যবসায় বাণিজ্যে উন্নত হওয়ায় এ অঞ্চলের জনবসতি সিলেটের চেয়ে বেশি। সিলেট অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু বসতি স্থাপনের জন্য তেমন অনুকূল নয়। অধিক বৃষ্টিপাত, অনুর্বর মৃত্তিকা, রাস্তাঘাট কম থাকায় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কম শিল্প প্রতিষ্ঠান থাকায় সিলেট অঞ্চলের বসতি চট্টগ্রাম থেকে অনেক কম। অন্যদিকে পর্বতময় অঞ্চল হলেও বৃহৎ সমুদ্র বন্দর ও প্রচুর শিল্প কারখানা থাকায় এ অঞ্চলে জনবসতি সিলেটের চেয়ে বেশি।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, ভূপ্রকৃতি, আবহাওয়া, নদনদীর অবস্থান, মৃত্তিকা, ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প কারখানা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ব্যবস্থা, চিকিৎসা, যেগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতির পার্থক্যের কারণে চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের মধ্যে জনবসতির ঘনত্বের কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।