➤ "নিপীড়িত, নির্যাতিত মানুষ দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বিদ্রোহে-সংগ্রামে রুখে দাঁড়ায়।"- উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি সত্য।
➤ সমাজে স্বার্থপর লোভী প্রকৃতির মানুষেরা অন্যের অধিকার হরণ করে নিজেরা লাভবান হয়। অনেকে অন্যায়ভাবে অন্যের জমি জবরদখল করে। এদের নির্যাতন ও নিপীড়নে এক সময় মানুষ ঘুরে দাঁড়ায়, অধিকার আদায়ে তৎপর হয়।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পেও সাঁওতালদের প্রতি অন্যায়, নিপীড়ন, নির্যাতনের দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। নিজেদের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার আশঙ্কা যখন তীব্র হয়ে ওঠে তখন বয়সের ভারে ঝিমিয়ে পড়া, বৃদ্ধ কপিলদাস মুর্মু সাহসে উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। উদ্দীপকে নিপীড়িত সাঁওতালদের বিদ্রোহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। ১৮৫৫-৫৬ সালে দরিদ্র সাঁওতালরা জমিদার, মহাজন এবং ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণ, জমির অধিকার হারানো এবং সংস্কৃতিক নিপীড়নের কারণে বিদ্রোহ করে। সিধু, কানু, চাঁদ ও ভৈরব নামের চার ভাই নেতৃত্ব দেয় সেই বিদ্রোহে।
➤ 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পে ম্যানেজার মহাজন সাঁওতালদের উচ্ছেদ করে সেই জমিতে ধানের আবাদ করতে চায়। কপিলদাস মুর্মু এর প্রতিবাদ করে এবং স্বজাতির অন্যদের ভয়-দ্বিধাকে অমূলক প্রমাণিত করে একাই সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপক ও 'কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ' গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে।
সারকথা: উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পের নির্যাতিত মানুষজন অন্যায়কারী, অত্যাচারীদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে-সংগ্রামে সোচ্চার হয়েছে। উদ্দীকের সিধু, কানু, চাঁদ, ভৈরবের মতো গল্পের কপিলদাস মুর্মুও বৃদ্ধ হয়েও নব উদ্যমে যুদ্ধে ব্রতী হয়েছে।