জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় আব্বাসীয়দের অবদান অপরিসীম।
জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিকাশে খলিফা আব্বাসীয় শাসনামলের অবদান অনস্বীকার্য। বিশেষ করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে খলিফা মামুনের কৃতিত্ব ব্যাপক। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি তার শাসনামলকে ইসলামের অগাস্টান যুগে পরিণত করেছে। আব্বাসীয় আমলে গণিত, রসায়ন, ভুগোল, ইতিহাস ইত্যাদি ব্যাপক উন্নতি লাভ করে। খলিফা মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমাহ ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম নিদর্শন। ৮৩০ খ্রি. প্রতিষ্ঠিত এ জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো- এ তিনটি পৃথক বিভাগ ছিল। হুনাইন ইবনে ইসহাক ছিলেন বায়তুল হিকমার মহাপরিচালক। তিনি বায়তুল হিকমার অনুবাদ দপ্তরে গ্রিক, সিরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত মূল্যবান গ্রন্থাবলি এবং লিউক, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, এরিস্টটল, প্লেটো প্রমুখ রচিত মৌলিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন। মামুনের শাসনামলে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চার এক নবদিগন্তের সূচনা হয়। জ্যোতির্বিদ্যার গবেষণার জন্য মামুন তাদমিরে শামসিয়া নামক স্থানে একটি মানমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। খলিফা মামুনের শাসনামলে গণিতশাস্ত্রের চরম উৎকর্ষ সাধিত হয়। এ সময়কার বিখ্যাত গণিতজ্ঞ ছিলেন হিসাবুল-জবর ওয়াল মুকাবিলাহ রচয়িতা মুহাম্মদ বিন মুসা আল খাওয়ারিজমি। তাছাড়া তার পৃষ্ঠপোষকতায় রসায়ন, চিকিৎসাশাস্ত্র ও ভূগোলশাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়। মামুনের দরবারে ইউহান্না বিন মোসাওয়াহ, হাসান ছিলেন যথাক্রমে শ্রেষ্ঠ রসায়নবিদ এবং ভূগোলবিদ। খলিফা আল মামুনের শাসনামলে ইতিহাসশাস্ত্র, সাহিত্য ও হাদিস শাস্ত্রেরও প্রকৃত উন্নতি সাধিত হয়। আল ওয়াকিন্দির 'মাগাবী', ইবনে সাদের 'তাবাফাত' বিখ্যাত ঐতিহাসিক গ্রন্থ। সিহাহ-সিত্তাহ বা ছয়টি নির্ভুল হাদিস গ্রন্থ সংকলন এবং বুখারি শরিফ খলিফা মামুনের যুগেই প্রণীত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন ও পৃষ্ঠপোষকতায় আব্বাসীয় শাসনকালের অবদান ব্যাপক।