উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, অত্যধিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসার সাথে জাফর বার্মাকির গোপন সম্পর্কসহ নানাবিধ কারণে বার্মাকিদের পতন ঘটে।
আব্বাসি সাম্রাজ্যে বার্মাকিরা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। খলিফার কাছে বার্মাকিদের এরূপ প্রভাব প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল এছাড়া খলিফার বোন আব্বাসার সাথে জাফর বামার্কির গোপন সম্পর্ক, সম্পদের প্রাচুর্য, আরব-পারসিক দ্বন্দ্ব ও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব বার্মাকিদের পতনে প্রভাব রেখেছিল। উদ্দীপকেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার রানিংমেট আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনাটি বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণকে নির্দেশ করে। তবে বার্মাকি পরিবারের পতনের ক্ষেত্রে নানাবিধ কারণ ভূমিকা রেখেছে। বার্মাকিদের প্রভাব ও ঐশ্বর্য এতো বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে, খলিফা হারুন-অর-রশীদ তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে তিনি বার্মাকিদের ক্ষমতার রেশ টানার চেষ্টা করতে থাকেন। এমতবস্থায় জাফর বার্মাকি খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসাকে গোপনে বিয়ে করলে খলিফা বার্মাকিদের প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হন, যা তাদের পতনের দরজা খুলে দেয়। এছাড়া বার্মাকিরা ছিল শিয়া মতাবলম্বী। তাই সুন্নি আব্বাসিদের দরবার ও খিলাফতে তাদের বিপুল প্রতিপত্তি সাম্রাজ্যের সুন্নি অভিজাতদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাই তারা বার্মাকিদের ধ্বংস সাধনে নানাভাবে খলিফাকে প্ররোচিত করে। এ প্রসঙ্গে গৃহাধ্যক্ষ ফজল বিন রাবির ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা বলা যায় । তিনি নিজে প্রধান উজির হবার প্রত্যাশায় বার্মাকিদের বিরুদ্ধে খলিফাকে উস্কানি দেন। এ সব কারণে খলিফা হারুন-অর-রশীদ জাফরের শিরচ্ছেদ করেন এবং বার্মাকি পরিবারের অন্য সদস্যদের কারারুদ্ধ করেন। এভাবে বার্মাকি পরিবারের চূড়ান্ত পতন ঘটে।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আব্বাসি খিলাফতের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বার্মাকিদের অবদান অতুলনীয়। তাই আপাতদৃষ্টিতে বার্মাকিদের প্রতি খলিফার ব্যবহার যৌক্তিক মনে হয় না। কিন্তু তাদের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কাজই তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।