হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত আমির অর্থাৎ আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।
আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহর মৃত্যুর পর আবু জাফর আল মনসুর ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথে আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি অদম্য সাহস ও দূরদর্শিতার দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে রাজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত, যা তাকে উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় অধিক কৃতিত্বের দাবিদার করে তুলেছে।
উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে নিজের নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরও বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সমস্ত কার্যাবলি ছাড়াও রাজ্যবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনকে পরাজিত করে বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি তাবারিস্তান ও গিলান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এছাড়া মনসুর স্থাপত্যকলারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যার প্রমাণ বহন করে 'কাসর আল ফুলদ' ও 'বুসাফা' নামক দুটি প্রাসাদ নির্মাণ।
উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।