Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

৬১১

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যখন অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল তখন আফেন্দি বংশের সেলিম নামের বিপ্লবী এক নেতার উত্থান ঘটে। তিনি সরকারের এ সকল জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের কর্মসূচির ডাক দেন। কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য তিনি নানামুখী প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগী শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে উক্ত সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন।

Rajshahi · 2017

ক
ক্রুসেড শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

ক্রুসেড শব্দের অর্থ ধর্মযুদ্ধ।
খ
আবু মুসলিম খোরাসানির পরিচয় দাও।

উত্তর

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামক আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন আবু মুসলিম নিজেকে 'আল হাশিম' (হাশিমীয়দের রক্ষক) বলে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করে নেন। এরপর উমাইয়া শাসক ২য় ইয়াজিদকে পরাজিত করে ইরাকের রাজধানী কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহ্বান জানান এবং খলিফা ঘোষণা করেন। তার এই অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যই আব্বাসিদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবি নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়, অরাজকতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আফেন্দি বংশের সেলিম নামের এক বিখ্যাত নেতা ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনগণকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন আদায় করেন এবং সরকার উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তার আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয় এবং তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় আবুল আব্বাসের আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রে। উমাইয়া বংশীয় শেষ পর্যায়ের দুর্বল শাসকদের অন্যায়-অপকর্ম যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, তখন আব্বাসিরা তাদের উৎখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। উমাইয়াদের পতনে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। আব্বাসিগণ কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। এই সূত্রে তারা মুহাম্মদ (স)-এর নিকটতম এবং খিলাফতের যোগ্য দাবিদার এমন প্রচারণায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদ বিন আলী আব্বাসি আন্দোলন শুরু করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ধরে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সর্বশেষ আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশীয় শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারোয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসি বংশের শাসনপর্ব শুরু করেন। তিনি নানা প্রচারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিয়া, খারেজি, মাওয়ালি, খোরাসানি প্রভৃতি সম্প্রদায়কে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। তারা উমাইয়াদের পতনে আব্বাসিদের সর্বতোভাবে সহায়তা করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডে আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উদ্দীপকের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করেছিল- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই ছিল আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ কর্তৃক উমাইয়া বংশের অবসান ঘটিয়ে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠায় সফলতা অর্জনের মূল কারণ। উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইবনে আব্বাসের নেতৃত্বে তার অপর তিন ভাতা ও অন্যরা আব্বাসি আন্দোলনের সূচনা করেন। তারা মর্মর সাগরের তীরে সেলিম নামক একটি নিরাপদ গ্রামকে উমাইয়াবিরোধী আব্বাসি প্রচারণার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করেন। তাঁরা পূর্ব পুরুষদের উমাইয়াবিরোধী মনোভাবকে কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে লোকজনকে তাদের পক্ষে সমবেত করতে সক্ষম হন। আবুল আব্বাসকে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর কুফা মসজিদে খলিফা বলে ঘোষণা করা হলেও তার শাসনকাল শুরু হয় ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে জাবের যুদ্ধে দ্বিতীয় মারওয়ানের পরাজয় ও পলায়নের পর থেকে। উদ্দীপকে সেলিম যেমন তার কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য জনগণকে নানা ধরনের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি প্রদানের পন্থা অবলম্বন করেছিল, তেমনি উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনকে সফল করে তুলতে আবুল আব্বাসও জনগণকে প্রলোভন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রদানের কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি জনগণকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। জনগণ তাঁর পক্ষ নিয়ে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে উমাইয়া বংশের পতনের মধ্য দিয়ে আব্বাসি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐতিহাসিক ওয়েল বলেন, আবুল আব্বাস শুধু বর্বর ও পাষণ্ডই ছিলেন না, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দানকারী, কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকও ছিলেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যখন অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল তখন আফেন্দি বংশের সেলিম নামের বিপ্লবী এক নেতার উত্থান ঘটে। তিনি সরকারের এ সকল জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের কর্মসূচির ডাক দেন। কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য তিনি নানামুখী প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগী শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে উক্ত সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন।

Rajshahi · 2017

ক
ক্রুসেড শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

ক্রুসেড শব্দের অর্থ ধর্মযুদ্ধ।
খ
আবু মুসলিম খোরাসানির পরিচয় দাও।

উত্তর

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামক আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন আবু মুসলিম নিজেকে 'আল হাশিম' (হাশিমীয়দের রক্ষক) বলে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করে নেন। এরপর উমাইয়া শাসক ২য় ইয়াজিদকে পরাজিত করে ইরাকের রাজধানী কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহ্বান জানান এবং খলিফা ঘোষণা করেন। তার এই অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যই আব্বাসিদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবি নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়, অরাজকতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আফেন্দি বংশের সেলিম নামের এক বিখ্যাত নেতা ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনগণকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন আদায় করেন এবং সরকার উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তার আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয় এবং তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় আবুল আব্বাসের আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রে। উমাইয়া বংশীয় শেষ পর্যায়ের দুর্বল শাসকদের অন্যায়-অপকর্ম যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, তখন আব্বাসিরা তাদের উৎখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। উমাইয়াদের পতনে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। আব্বাসিগণ কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। এই সূত্রে তারা মুহাম্মদ (স)-এর নিকটতম এবং খিলাফতের যোগ্য দাবিদার এমন প্রচারণায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদ বিন আলী আব্বাসি আন্দোলন শুরু করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ধরে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সর্বশেষ আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশীয় শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারোয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসি বংশের শাসনপর্ব শুরু করেন। তিনি নানা প্রচারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিয়া, খারেজি, মাওয়ালি, খোরাসানি প্রভৃতি সম্প্রদায়কে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। তারা উমাইয়াদের পতনে আব্বাসিদের সর্বতোভাবে সহায়তা করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডে আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উদ্দীপকের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করেছিল- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই ছিল আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ কর্তৃক উমাইয়া বংশের অবসান ঘটিয়ে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠায় সফলতা অর্জনের মূল কারণ। উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইবনে আব্বাসের নেতৃত্বে তার অপর তিন ভাতা ও অন্যরা আব্বাসি আন্দোলনের সূচনা করেন। তারা মর্মর সাগরের তীরে সেলিম নামক একটি নিরাপদ গ্রামকে উমাইয়াবিরোধী আব্বাসি প্রচারণার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করেন। তাঁরা পূর্ব পুরুষদের উমাইয়াবিরোধী মনোভাবকে কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে লোকজনকে তাদের পক্ষে সমবেত করতে সক্ষম হন। আবুল আব্বাসকে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর কুফা মসজিদে খলিফা বলে ঘোষণা করা হলেও তার শাসনকাল শুরু হয় ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে জাবের যুদ্ধে দ্বিতীয় মারওয়ানের পরাজয় ও পলায়নের পর থেকে। উদ্দীপকে সেলিম যেমন তার কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য জনগণকে নানা ধরনের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি প্রদানের পন্থা অবলম্বন করেছিল, তেমনি উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনকে সফল করে তুলতে আবুল আব্বাসও জনগণকে প্রলোভন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রদানের কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি জনগণকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। জনগণ তাঁর পক্ষ নিয়ে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে উমাইয়া বংশের পতনের মধ্য দিয়ে আব্বাসি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐতিহাসিক ওয়েল বলেন, আবুল আব্বাস শুধু বর্বর ও পাষণ্ডই ছিলেন না, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দানকারী, কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকও ছিলেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সেতু আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এর পর তিনি নিরস্ত্র 'X′X^{\prime} কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তাঁর গৌরবময় কীর্তি হল একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, যা ছিল তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী। তাঁর নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয়।

Rajshahi · 2017

ক
বাগদাদ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
খ
বায়তুল হিকমা বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা শব্দের অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন-ইসহাক এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক প্রদান করা হতো।
গ
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সেতুর পঠিত কাহিনির সাথে আমার পঠিত আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে। আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা ছিলেন, তবুও আবু জাফরকেই এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কেননা তিনি অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সব বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর অধিষ্ঠিত করেন। তিনি তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন ও আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। এভাবে যাবতীয় বিদ্রোহ দমন করে তিনি আব্বাসি রাজবংশের স্থায়িত্ব বিধান করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক আব্বাসি খেলাফতের প্রথম আমির না হয়েও এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে বিবেচিত। তিনি তার চাচার বিদ্রোহ, পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন করেন এবং একটি সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া নিজের নামে একটি নগরীও প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তার চাচা সিরিয়ার শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আবু মুসলিম খোরাসানিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খোরাসান ও পারস্যবাসীরা বিদ্রোহ করলে তিনি তাদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় খলিফাকে আল্লাহর অবতার বলে ঘোষণা করলে তিনি তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া তিনি বাগদাদে নিজের নামানুসারে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী নির্মাণ করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের জীবনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবীদার- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত আমির অর্থাৎ আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহর মৃত্যুর পর আবু জাফর আল মনসুর ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথে আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি অদম্য সাহস ও দূরদর্শিতার দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে রাজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত, যা তাকে উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় অধিক কৃতিত্বের দাবিদার করে তুলেছে। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে নিজের নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরও বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সমস্ত কার্যাবলি ছাড়াও রাজ্যবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনকে পরাজিত করে বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি তাবারিস্তান ও গিলান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এছাড়া মনসুর স্থাপত্যকলারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যার প্রমাণ বহন করে 'কাসর আল ফুলদ' ও 'বুসাফা' নামক দুটি প্রাসাদ নির্মাণ। উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সেতু আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এর পর তিনি নিরস্ত্র 'X′X^{\prime} কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তাঁর গৌরবময় কীর্তি হল একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, যা ছিল তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী। তাঁর নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয়।

Rajshahi · 2017

ক
বাগদাদ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
খ
বায়তুল হিকমা বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা শব্দের অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন-ইসহাক এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক প্রদান করা হতো।
গ
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সেতুর পঠিত কাহিনির সাথে আমার পঠিত আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে। আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা ছিলেন, তবুও আবু জাফরকেই এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কেননা তিনি অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সব বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর অধিষ্ঠিত করেন। তিনি তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন ও আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। এভাবে যাবতীয় বিদ্রোহ দমন করে তিনি আব্বাসি রাজবংশের স্থায়িত্ব বিধান করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক আব্বাসি খেলাফতের প্রথম আমির না হয়েও এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে বিবেচিত। তিনি তার চাচার বিদ্রোহ, পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন করেন এবং একটি সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া নিজের নামে একটি নগরীও প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তার চাচা সিরিয়ার শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আবু মুসলিম খোরাসানিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খোরাসান ও পারস্যবাসীরা বিদ্রোহ করলে তিনি তাদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় খলিফাকে আল্লাহর অবতার বলে ঘোষণা করলে তিনি তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া তিনি বাগদাদে নিজের নামানুসারে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী নির্মাণ করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের জীবনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
ঘ
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবীদার- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত আমির অর্থাৎ আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহর মৃত্যুর পর আবু জাফর আল মনসুর ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথে আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি অদম্য সাহস ও দূরদর্শিতার দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে রাজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত, যা তাকে উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় অধিক কৃতিত্বের দাবিদার করে তুলেছে। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে নিজের নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরও বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সমস্ত কার্যাবলি ছাড়াও রাজ্যবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনকে পরাজিত করে বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি তাবারিস্তান ও গিলান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এছাড়া মনসুর স্থাপত্যকলারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যার প্রমাণ বহন করে 'কাসর আল ফুলদ' ও 'বুসাফা' নামক দুটি প্রাসাদ নির্মাণ। উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয় সেখানে। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থাও করেন। দেশী-বিদেশী বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করেছে।

Dhaka · 2017

ক
বুরান কে ছিলেন?

উত্তর

বুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা মামুনের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসান বিন সাহলের কন্যা।
খ
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ হলো তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও কুশাসন। আমিনের ব্যক্তিগত চরিত্রই মূলত তার পতনের জন্য দায়ী। তিনি রাজকার্য উপেক্ষা করে হেরেমের আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকতেন। ফলে তার নিষ্ঠুর ও উদ্ধত উজির ফজল-বিন-রাব্বি রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার উচ্ছৃঙ্খল শাসনে আমিন প্রজাসাধারণের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হন। অপরপক্ষে আমিনের সুযোগ্য ভাই মামুনের শাসনে প্রজাগণ পরম সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছিল। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন মামুনের নিকট অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয় আমিন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের জ্ঞান- বিজ্ঞানের পীঠস্থান বায়তুল হিকমার মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা আল মামুনের নির্মিত বায়তুল হিকমা ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এই জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও আমরা এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি গ্রামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভাষার বইয়ের বাংলা অনুবাদ ও গবেষণা বিদ্যোৎসাহী মানুষদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের মতোই আব্বাসি খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ ও গবেষণা কাজে বিশেষ অবদান রাখে। গ্রিক, সংস্কৃতি, পারসিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এতে তিনটি বিভাগ ছিল, যথা- গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামক একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এ অনুবাদক সে আমলের সর্বাপেক্ষা বড় পণ্ডিত ও সর্বাপেক্ষা মহান ছিলেন। তাঁর চেষ্টায় এরিস্টটল, গ্যালিলিও, প্লেটো প্রমুখ পণ্ডিতের গ্রন্থ অনূদিত হয়ে আরবি সাহিত্যের মারফত দেশ-বিদেশে প্রচারিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের পাঠাগারটিতে বায়তুল হিকমার কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র- উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে, যার আংশিক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকের পাঠাগারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকর্মে অবদান রাখলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে এটি বিশেষ উন্নতি সাধন করতে পারছে না। এছাড়া এটি ছিল একটি গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অপরপক্ষে খলিফা মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ছিল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। যার ফলে গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থার চেয়ে বায়তুল হিকমা অনেক বেশি অবদান রাখে। মামুনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংস্থাটি এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনরসহ অনেক স্থান হতে বহু মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তাদের আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর পুস্তকগুলো এবং গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ মনীষীদের বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। এতে অনুবাদকারীদেরকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এ সকল অনুবাদকের সাহায্যে বায়তুল হিকমা গ্রিক পণ্ডিতগণের আজীবনের সাধনা ও গবেষণার ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ইউরোপ যখন গ্রিক চিন্তা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন আরবে এ মহান কার্য সম্পাদিত হয়। বস্তুত মুসলমানগণ অনুবাদের দ্বারা এ সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের গবেষণা রক্ষা না করলে পৃথিবী হতে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বায়তুল হিকমা শুধু প্রাচীন সভ্যতার ধারকই নয়, এটি ছিল ইউরোপে নবজাগরণ সৃষ্টিরও মূল কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমা অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে, যার তুলনায় উদ্দীপকের পাঠাগারের অবদান অতি নগণ্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয় সেখানে। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থাও করেন। দেশী-বিদেশী বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করেছে।

Dhaka · 2017

ক
বুরান কে ছিলেন?

উত্তর

বুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা মামুনের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসান বিন সাহলের কন্যা।
খ
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ হলো তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও কুশাসন। আমিনের ব্যক্তিগত চরিত্রই মূলত তার পতনের জন্য দায়ী। তিনি রাজকার্য উপেক্ষা করে হেরেমের আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকতেন। ফলে তার নিষ্ঠুর ও উদ্ধত উজির ফজল-বিন-রাব্বি রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার উচ্ছৃঙ্খল শাসনে আমিন প্রজাসাধারণের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হন। অপরপক্ষে আমিনের সুযোগ্য ভাই মামুনের শাসনে প্রজাগণ পরম সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছিল। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন মামুনের নিকট অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয় আমিন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
গ
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের জ্ঞান- বিজ্ঞানের পীঠস্থান বায়তুল হিকমার মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা আল মামুনের নির্মিত বায়তুল হিকমা ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এই জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও আমরা এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি গ্রামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভাষার বইয়ের বাংলা অনুবাদ ও গবেষণা বিদ্যোৎসাহী মানুষদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের মতোই আব্বাসি খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ ও গবেষণা কাজে বিশেষ অবদান রাখে। গ্রিক, সংস্কৃতি, পারসিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এতে তিনটি বিভাগ ছিল, যথা- গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামক একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এ অনুবাদক সে আমলের সর্বাপেক্ষা বড় পণ্ডিত ও সর্বাপেক্ষা মহান ছিলেন। তাঁর চেষ্টায় এরিস্টটল, গ্যালিলিও, প্লেটো প্রমুখ পণ্ডিতের গ্রন্থ অনূদিত হয়ে আরবি সাহিত্যের মারফত দেশ-বিদেশে প্রচারিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের পাঠাগারটিতে বায়তুল হিকমার কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
ঘ
উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র- উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে, যার আংশিক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকের পাঠাগারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকর্মে অবদান রাখলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে এটি বিশেষ উন্নতি সাধন করতে পারছে না। এছাড়া এটি ছিল একটি গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অপরপক্ষে খলিফা মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ছিল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। যার ফলে গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থার চেয়ে বায়তুল হিকমা অনেক বেশি অবদান রাখে। মামুনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংস্থাটি এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনরসহ অনেক স্থান হতে বহু মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তাদের আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর পুস্তকগুলো এবং গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ মনীষীদের বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। এতে অনুবাদকারীদেরকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এ সকল অনুবাদকের সাহায্যে বায়তুল হিকমা গ্রিক পণ্ডিতগণের আজীবনের সাধনা ও গবেষণার ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ইউরোপ যখন গ্রিক চিন্তা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন আরবে এ মহান কার্য সম্পাদিত হয়। বস্তুত মুসলমানগণ অনুবাদের দ্বারা এ সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের গবেষণা রক্ষা না করলে পৃথিবী হতে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বায়তুল হিকমা শুধু প্রাচীন সভ্যতার ধারকই নয়, এটি ছিল ইউরোপে নবজাগরণ সৃষ্টিরও মূল কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমা অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে, যার তুলনায় উদ্দীপকের পাঠাগারের অবদান অতি নগণ্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো