Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত Islamic History 1st paper

HSC Islamic History 1st paper এর Chapter 5 : আব্বাসি খিলাফত অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৫২

প্রশ্ন

Islamic History 1st paper

বিষয়

HSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যখন অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল তখন আফেন্দি বংশের সেলিম নামের বিপ্লবী এক নেতার উত্থান ঘটে। তিনি সরকারের এ সকল জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের কর্মসূচির ডাক দেন। কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য তিনি নানামুখী প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগী শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে উক্ত সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন।

Rajshahi · 2017

ক্রুসেড শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

ক্রুসেড শব্দের অর্থ ধর্মযুদ্ধ।
আবু মুসলিম খোরাসানির পরিচয় দাও।

উত্তর

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামক আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন আবু মুসলিম নিজেকে 'আল হাশিম' (হাশিমীয়দের রক্ষক) বলে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করে নেন। এরপর উমাইয়া শাসক ২য় ইয়াজিদকে পরাজিত করে ইরাকের রাজধানী কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহ্বান জানান এবং খলিফা ঘোষণা করেন। তার এই অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যই আব্বাসিদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবি নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়, অরাজকতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আফেন্দি বংশের সেলিম নামের এক বিখ্যাত নেতা ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনগণকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন আদায় করেন এবং সরকার উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তার আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয় এবং তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় আবুল আব্বাসের আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রে। উমাইয়া বংশীয় শেষ পর্যায়ের দুর্বল শাসকদের অন্যায়-অপকর্ম যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, তখন আব্বাসিরা তাদের উৎখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। উমাইয়াদের পতনে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। আব্বাসিগণ কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। এই সূত্রে তারা মুহাম্মদ (স)-এর নিকটতম এবং খিলাফতের যোগ্য দাবিদার এমন প্রচারণায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদ বিন আলী আব্বাসি আন্দোলন শুরু করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ধরে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সর্বশেষ আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশীয় শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারোয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসি বংশের শাসনপর্ব শুরু করেন। তিনি নানা প্রচারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিয়া, খারেজি, মাওয়ালি, খোরাসানি প্রভৃতি সম্প্রদায়কে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। তারা উমাইয়াদের পতনে আব্বাসিদের সর্বতোভাবে সহায়তা করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডে আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করেছিল- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই ছিল আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ কর্তৃক উমাইয়া বংশের অবসান ঘটিয়ে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠায় সফলতা অর্জনের মূল কারণ। উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইবনে আব্বাসের নেতৃত্বে তার অপর তিন ভাতা ও অন্যরা আব্বাসি আন্দোলনের সূচনা করেন। তারা মর্মর সাগরের তীরে সেলিম নামক একটি নিরাপদ গ্রামকে উমাইয়াবিরোধী আব্বাসি প্রচারণার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করেন। তাঁরা পূর্ব পুরুষদের উমাইয়াবিরোধী মনোভাবকে কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে লোকজনকে তাদের পক্ষে সমবেত করতে সক্ষম হন। আবুল আব্বাসকে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর কুফা মসজিদে খলিফা বলে ঘোষণা করা হলেও তার শাসনকাল শুরু হয় ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে জাবের যুদ্ধে দ্বিতীয় মারওয়ানের পরাজয় ও পলায়নের পর থেকে। উদ্দীপকে সেলিম যেমন তার কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য জনগণকে নানা ধরনের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি প্রদানের পন্থা অবলম্বন করেছিল, তেমনি উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনকে সফল করে তুলতে আবুল আব্বাসও জনগণকে প্রলোভন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রদানের কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি জনগণকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। জনগণ তাঁর পক্ষ নিয়ে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে উমাইয়া বংশের পতনের মধ্য দিয়ে আব্বাসি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐতিহাসিক ওয়েল বলেন, আবুল আব্বাস শুধু বর্বর ও পাষণ্ডই ছিলেন না, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দানকারী, কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকও ছিলেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রমে সাধারণ মানুষ যখন অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল তখন আফেন্দি বংশের সেলিম নামের বিপ্লবী এক নেতার উত্থান ঘটে। তিনি সরকারের এ সকল জনবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার উৎখাতের কর্মসূচির ডাক দেন। কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য তিনি নানামুখী প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে বিভিন্ন ভুক্তভোগী শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের সমর্থন পেয়ে উক্ত সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হন।

Rajshahi · 2017

ক্রুসেড শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

ক্রুসেড শব্দের অর্থ ধর্মযুদ্ধ।
আবু মুসলিম খোরাসানির পরিচয় দাও।

উত্তর

আব্বাসি আন্দোলনকে বিপ্লবে পরিণত করার সেরা কারিগর ছিলেন আবু মুসলিম নামক আরব বংশোদ্ভূত এক পারসিক মাওয়ালি। আবু মুসলিমের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে খোরাসান উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়। ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দের ৯ জুন আবু মুসলিম নিজেকে 'আল হাশিম' (হাশিমীয়দের রক্ষক) বলে ঘোষণা করেন এবং আব্বাসিদের কালো পতাকা উত্তোলন করে খোরাসানের রাজধানী মার্ভ ও ফারগানাসহ সমগ্র খোরাসান দখল করে নেন। এরপর উমাইয়া শাসক ২য় ইয়াজিদকে পরাজিত করে ইরাকের রাজধানী কুফা দখল করেন। ৭৪৯ খ্রিস্টাব্দের ২৯ নভেম্বর তিনি আবুল আব্বাসকে কুফা মসজিদে আহ্বান জানান এবং খলিফা ঘোষণা করেন। তার এই অতুলনীয় সাংগঠনিক দক্ষতার জন্যই আব্বাসিদের সিংহাসন লাভ সম্ভব হয়েছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবি নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি কোন খলিফার মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়, অরাজকতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আফেন্দি বংশের সেলিম নামের এক বিখ্যাত নেতা ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনগণকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন আদায় করেন এবং সরকার উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তার আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয় এবং তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় আবুল আব্বাসের আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রে। উমাইয়া বংশীয় শেষ পর্যায়ের দুর্বল শাসকদের অন্যায়-অপকর্ম যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, তখন আব্বাসিরা তাদের উৎখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। উমাইয়াদের পতনে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। আব্বাসিগণ কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। এই সূত্রে তারা মুহাম্মদ (স)-এর নিকটতম এবং খিলাফতের যোগ্য দাবিদার এমন প্রচারণায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদ বিন আলী আব্বাসি আন্দোলন শুরু করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ধরে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সর্বশেষ আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশীয় শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারোয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসি বংশের শাসনপর্ব শুরু করেন। তিনি নানা প্রচারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিয়া, খারেজি, মাওয়ালি, খোরাসানি প্রভৃতি সম্প্রদায়কে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। তারা উমাইয়াদের পতনে আব্বাসিদের সর্বতোভাবে সহায়তা করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডে আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করেছিল- মূল্যায়ন করো।

উত্তর

প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই ছিল আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ কর্তৃক উমাইয়া বংশের অবসান ঘটিয়ে আব্বাসি বংশ প্রতিষ্ঠায় সফলতা অর্জনের মূল কারণ। উমাইয়া সাম্রাজ্যের বিশৃঙ্খলার সুযোগে ইবনে আব্বাসের নেতৃত্বে তার অপর তিন ভাতা ও অন্যরা আব্বাসি আন্দোলনের সূচনা করেন। তারা মর্মর সাগরের তীরে সেলিম নামক একটি নিরাপদ গ্রামকে উমাইয়াবিরোধী আব্বাসি প্রচারণার কেন্দ্রভূমিতে পরিণত করেন। তাঁরা পূর্ব পুরুষদের উমাইয়াবিরোধী মনোভাবকে কার্যসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে লোকজনকে তাদের পক্ষে সমবেত করতে সক্ষম হন। আবুল আব্বাসকে ৭৪৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ নভেম্বর কুফা মসজিদে খলিফা বলে ঘোষণা করা হলেও তার শাসনকাল শুরু হয় ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের জানুয়ারিতে জাবের যুদ্ধে দ্বিতীয় মারওয়ানের পরাজয় ও পলায়নের পর থেকে। উদ্দীপকে সেলিম যেমন তার কর্মসূচিকে বেগবান ও সফল করার জন্য জনগণকে নানা ধরনের প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতি প্রদানের পন্থা অবলম্বন করেছিল, তেমনি উমাইয়াবিরোধী আন্দোলনকে সফল করে তুলতে আবুল আব্বাসও জনগণকে প্রলোভন ও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রদানের কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি জনগণকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। জনগণ তাঁর পক্ষ নিয়ে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে থাকে। ফলশ্রুতিতে উমাইয়া বংশের পতনের মধ্য দিয়ে আব্বাসি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ঐতিহাসিক ওয়েল বলেন, আবুল আব্বাস শুধু বর্বর ও পাষণ্ডই ছিলেন না, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দানকারী, কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতকও ছিলেন। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, প্রলোভন ও প্রতিশ্রুতিই আব্বাসি আন্দোলনকে সফল করে তুলেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সেতু আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এর পর তিনি নিরস্ত্র 'XX^{\prime} কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তাঁর গৌরবময় কীর্তি হল একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, যা ছিল তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী। তাঁর নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয়।

Rajshahi · 2017

বাগদাদ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
বায়তুল হিকমা বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা শব্দের অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন-ইসহাক এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক প্রদান করা হতো।
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সেতুর পঠিত কাহিনির সাথে আমার পঠিত আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে। আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা ছিলেন, তবুও আবু জাফরকেই এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কেননা তিনি অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সব বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর অধিষ্ঠিত করেন। তিনি তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন ও আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। এভাবে যাবতীয় বিদ্রোহ দমন করে তিনি আব্বাসি রাজবংশের স্থায়িত্ব বিধান করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক আব্বাসি খেলাফতের প্রথম আমির না হয়েও এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে বিবেচিত। তিনি তার চাচার বিদ্রোহ, পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন করেন এবং একটি সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া নিজের নামে একটি নগরীও প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তার চাচা সিরিয়ার শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আবু মুসলিম খোরাসানিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খোরাসান ও পারস্যবাসীরা বিদ্রোহ করলে তিনি তাদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় খলিফাকে আল্লাহর অবতার বলে ঘোষণা করলে তিনি তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া তিনি বাগদাদে নিজের নামানুসারে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী নির্মাণ করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের জীবনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবীদার- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত আমির অর্থাৎ আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহর মৃত্যুর পর আবু জাফর আল মনসুর ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথে আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি অদম্য সাহস ও দূরদর্শিতার দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে রাজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত, যা তাকে উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় অধিক কৃতিত্বের দাবিদার করে তুলেছে। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে নিজের নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরও বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সমস্ত কার্যাবলি ছাড়াও রাজ্যবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনকে পরাজিত করে বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি তাবারিস্তান ও গিলান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এছাড়া মনসুর স্থাপত্যকলারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যার প্রমাণ বহন করে 'কাসর আল ফুলদ' ও 'বুসাফা' নামক দুটি প্রাসাদ নির্মাণ। উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

সেতু আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠার কাহিনি পড়ছিল। নতুন খিলাফতের প্রথম আমির নির্বাচিত না হওয়া সত্ত্বেও তাকেই এই বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। খিলাফত লাভের পরপরই তিনি তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এর পর তিনি নিরস্ত্র 'XX^{\prime} কে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এছাড়াও তিনি পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন এবং একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বহু লোককে কারারুদ্ধ করেন। তাঁর গৌরবময় কীর্তি হল একটি নতুন নগর প্রতিষ্ঠা, যা ছিল তাঁর সাম্রাজ্যের রাজধানী। তাঁর নাম অনুসারে এই নতুন নগরীর নামকরণ করা হয়।

Rajshahi · 2017

বাগদাদ নগর কে প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
বায়তুল হিকমা বলতে কী বুঝ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা শব্দের অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন-ইসহাক এর তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক প্রদান করা হতো।
সেতুর পঠিত ঘটনার সাথে তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন আব্বাসি খলিফার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের সেতুর পঠিত কাহিনির সাথে আমার পঠিত আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের সাদৃশ্য রয়েছে। আবুল আব্বাস আস-সাফফাহ আব্বাসি বংশের প্রথম খলিফা ছিলেন, তবুও আবু জাফরকেই এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয়। কেননা তিনি অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার দ্বারা অভ্যন্তরীণ ও বাইরের সব বিদ্রোহ দমন করে আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর অধিষ্ঠিত করেন। তিনি তার চাচা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন ও আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। এভাবে যাবতীয় বিদ্রোহ দমন করে তিনি আব্বাসি রাজবংশের স্থায়িত্ব বিধান করেন। উদ্দীপকেও এমনি একটি ঘটনা পরিলক্ষিত হয়। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক আব্বাসি খেলাফতের প্রথম আমির না হয়েও এ রাজবংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলে বিবেচিত। তিনি তার চাচার বিদ্রোহ, পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন করেন এবং একটি সম্প্রদায়ের ২০০ লোককে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া নিজের নামে একটি নগরীও প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে খলিফা আবু জাফর আল মনসুর তার চাচা সিরিয়ার শাসনকর্তা আব্দুল্লাহ ইবনে আলীর বিদ্রোহ দমন করেন। তিনি আবু মুসলিম খোরাসানিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। আর এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে খোরাসান ও পারস্যবাসীরা বিদ্রোহ করলে তিনি তাদেরকেও কঠোর হস্তে দমন করেন। রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায় খলিফাকে আল্লাহর অবতার বলে ঘোষণা করলে তিনি তাদের ২০০ জনকে কারারুদ্ধ করেন। এছাড়া তিনি বাগদাদে নিজের নামানুসারে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী নির্মাণ করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের জীবনের ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে তোমার পঠিত আমির অধিক কৃতিত্বের দাবীদার- উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

হ্যাঁ আমি মনে করি, উদ্দীপকের সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত আমির অর্থাৎ আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার। আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস সাফফাহর মৃত্যুর পর আবু জাফর আল মনসুর ক্ষমতায় আরোহণ করেন। তার ক্ষমতায় আরোহণের সাথে সাথে আব্বাসি খিলাফতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। তিনি অদম্য সাহস ও দূরদর্শিতার দ্বারা বিভিন্ন বিদ্রোহ দমন ও রাজধানী প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আব্বাসি খিলাফতকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন। তবে রাজ্য বিস্তার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান ও স্থাপত্যশিল্পের পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত, যা তাকে উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় অধিক কৃতিত্বের দাবিদার করে তুলেছে। উদ্দীপকের সেতুর পঠিত শাসক তার চাচার বিদ্রোহ দমন করেন। এছাড়া পারস্য ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে নিজের নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরও বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের পাশাপাশি বাগদাদে 'মনসুরিয়া' নামে একটি নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। তবে এ সমস্ত কার্যাবলি ছাড়াও রাজ্যবিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রোমান সম্রাট কনস্টানটাইনকে পরাজিত করে বার্ষিক কর প্রদানে বাধ্য করেন। তিনি তাবারিস্তান ও গিলান স্বীয় সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনূদিত হয়। এছাড়া মনসুর স্থাপত্যকলারও উদার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, যার প্রমাণ বহন করে 'কাসর আল ফুলদ' ও 'বুসাফা' নামক দুটি প্রাসাদ নির্মাণ। উপর্যুক্ত আলোচনায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, সেতুর পঠিত শাসকের তুলনায় আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয় সেখানে। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থাও করেন। দেশী-বিদেশী বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করেছে।

Dhaka · 2017

বুরান কে ছিলেন?

উত্তর

বুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা মামুনের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসান বিন সাহলের কন্যা।
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ হলো তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও কুশাসন। আমিনের ব্যক্তিগত চরিত্রই মূলত তার পতনের জন্য দায়ী। তিনি রাজকার্য উপেক্ষা করে হেরেমের আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকতেন। ফলে তার নিষ্ঠুর ও উদ্ধত উজির ফজল-বিন-রাব্বি রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার উচ্ছৃঙ্খল শাসনে আমিন প্রজাসাধারণের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হন। অপরপক্ষে আমিনের সুযোগ্য ভাই মামুনের শাসনে প্রজাগণ পরম সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছিল। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন মামুনের নিকট অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয় আমিন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের জ্ঞান- বিজ্ঞানের পীঠস্থান বায়তুল হিকমার মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা আল মামুনের নির্মিত বায়তুল হিকমা ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এই জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও আমরা এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি গ্রামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভাষার বইয়ের বাংলা অনুবাদ ও গবেষণা বিদ্যোৎসাহী মানুষদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের মতোই আব্বাসি খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ ও গবেষণা কাজে বিশেষ অবদান রাখে। গ্রিক, সংস্কৃতি, পারসিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এতে তিনটি বিভাগ ছিল, যথা- গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামক একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এ অনুবাদক সে আমলের সর্বাপেক্ষা বড় পণ্ডিত ও সর্বাপেক্ষা মহান ছিলেন। তাঁর চেষ্টায় এরিস্টটল, গ্যালিলিও, প্লেটো প্রমুখ পণ্ডিতের গ্রন্থ অনূদিত হয়ে আরবি সাহিত্যের মারফত দেশ-বিদেশে প্রচারিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের পাঠাগারটিতে বায়তুল হিকমার কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র- উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে, যার আংশিক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকের পাঠাগারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকর্মে অবদান রাখলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে এটি বিশেষ উন্নতি সাধন করতে পারছে না। এছাড়া এটি ছিল একটি গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অপরপক্ষে খলিফা মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ছিল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। যার ফলে গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থার চেয়ে বায়তুল হিকমা অনেক বেশি অবদান রাখে। মামুনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংস্থাটি এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনরসহ অনেক স্থান হতে বহু মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তাদের আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর পুস্তকগুলো এবং গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ মনীষীদের বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। এতে অনুবাদকারীদেরকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এ সকল অনুবাদকের সাহায্যে বায়তুল হিকমা গ্রিক পণ্ডিতগণের আজীবনের সাধনা ও গবেষণার ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ইউরোপ যখন গ্রিক চিন্তা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন আরবে এ মহান কার্য সম্পাদিত হয়। বস্তুত মুসলমানগণ অনুবাদের দ্বারা এ সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের গবেষণা রক্ষা না করলে পৃথিবী হতে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বায়তুল হিকমা শুধু প্রাচীন সভ্যতার ধারকই নয়, এটি ছিল ইউরোপে নবজাগরণ সৃষ্টিরও মূল কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমা অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে, যার তুলনায় উদ্দীপকের পাঠাগারের অবদান অতি নগণ্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

হেমায়েত উদ্দিন তালুকদার তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয় সেখানে। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থাও করেন। দেশী-বিদেশী বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করেছে।

Dhaka · 2017

বুরান কে ছিলেন?

উত্তর

বুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা মামুনের স্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হাসান বিন সাহলের কন্যা।
ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

ভ্রাতৃদ্বন্দ্বে আমিনের পরাজয়ের একটি কারণ হলো তার চারিত্রিক দুর্বলতা ও কুশাসন। আমিনের ব্যক্তিগত চরিত্রই মূলত তার পতনের জন্য দায়ী। তিনি রাজকার্য উপেক্ষা করে হেরেমের আমোদ-আহলাদে মত্ত থাকতেন। ফলে তার নিষ্ঠুর ও উদ্ধত উজির ফজল-বিন-রাব্বি রাজ্যের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। তার উচ্ছৃঙ্খল শাসনে আমিন প্রজাসাধারণের সহানুভূতি থেকে বঞ্চিত হন। অপরপক্ষে আমিনের সুযোগ্য ভাই মামুনের শাসনে প্রজাগণ পরম সুখ ও শান্তিতে বসবাস করছিল। অসাধারণ প্রতিভাসম্পন্ন মামুনের নিকট অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয় আমিন ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যাওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের কোন প্রতিষ্ঠানের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকে উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসি খিলাফতের জ্ঞান- বিজ্ঞানের পীঠস্থান বায়তুল হিকমার মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা আল মামুনের নির্মিত বায়তুল হিকমা ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এই জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও আমরা এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করি। উদ্দীপকে দেখা যায়, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি গ্রামের জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন ভাষার বইয়ের বাংলা অনুবাদ ও গবেষণা বিদ্যোৎসাহী মানুষদের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে। এ প্রতিষ্ঠানের মতোই আব্বাসি খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা নামক প্রতিষ্ঠানটি প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ ও গবেষণা কাজে বিশেষ অবদান রাখে। গ্রিক, সংস্কৃতি, পারসিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এতে তিনটি বিভাগ ছিল, যথা- গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামক একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এ অনুবাদক সে আমলের সর্বাপেক্ষা বড় পণ্ডিত ও সর্বাপেক্ষা মহান ছিলেন। তাঁর চেষ্টায় এরিস্টটল, গ্যালিলিও, প্লেটো প্রমুখ পণ্ডিতের গ্রন্থ অনূদিত হয়ে আরবি সাহিত্যের মারফত দেশ-বিদেশে প্রচারিত হয়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের পাঠাগারটিতে বায়তুল হিকমার কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটেছে।
উদ্দীপকের পাঠাগারটি উক্ত প্রতিষ্ঠানের একটি আংশিক রূপমাত্র- উক্তিটির সত্যতা যাচাই করো।

উত্তর

খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে, যার আংশিক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকের পাঠাগারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকর্মে অবদান রাখলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে এটি বিশেষ উন্নতি সাধন করতে পারছে না। এছাড়া এটি ছিল একটি গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অপরপক্ষে খলিফা মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ছিল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। যার ফলে গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থার চেয়ে বায়তুল হিকমা অনেক বেশি অবদান রাখে। মামুনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংস্থাটি এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনরসহ অনেক স্থান হতে বহু মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তাদের আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর পুস্তকগুলো এবং গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ মনীষীদের বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। এতে অনুবাদকারীদেরকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এ সকল অনুবাদকের সাহায্যে বায়তুল হিকমা গ্রিক পণ্ডিতগণের আজীবনের সাধনা ও গবেষণার ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ইউরোপ যখন গ্রিক চিন্তা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন আরবে এ মহান কার্য সম্পাদিত হয়। বস্তুত মুসলমানগণ অনুবাদের দ্বারা এ সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের গবেষণা রক্ষা না করলে পৃথিবী হতে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বায়তুল হিকমা শুধু প্রাচীন সভ্যতার ধারকই নয়, এটি ছিল ইউরোপে নবজাগরণ সৃষ্টিরও মূল কারণ। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমা অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে, যার তুলনায় উদ্দীপকের পাঠাগারের অবদান অতি নগণ্য।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন।

Dhaka · 2017

'আল-মনসুর' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

আল-মনসুর শব্দের অর্থ 'বিজয়ী'।
আল-মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার জন্য খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বাগদাদ দজলা (টাইগ্রিস) নদীর পশ্চিম তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এটা ছিল সুস্বাস্থ্যকর, সাম্রাজ্যের মধ্যস্থলে এবং অধিকতর নিরাপদ স্থান। নদীর তীরে অবস্থানের ফলে এ নগরীর সাথে নৌপথে সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া, আর্মেনিয়া ও সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ সহজতর ছিল। এছাড়া এখান থেকে বহির্বিশ্বের এমনকি সুদূর চীনের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন সম্ভবপর হয়েছিল। তাছাড়া এতে আন্তঃবাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে প্রভৃত সাফল্যেরও সম্ভাবনা ছিল। এসব কারণে খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুরের কোন কর্মকান্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের হযরত আলী (রা)-এর বংশধরদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অনুরূপ। হযরত আলী ও ফাতিমার বংশধরগণ আব্বাসি বংশের উত্থানের সময় যথাসাধ্য সাহায্য করলেও খলিফা মনসুর তাদেরকে সুনজরে দেখেননি। আলীর বংশধরদের ওপর জনসাধারণের অসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধার জন্য খলিফা মনসুর বিচলিত হয়ে ওঠেন এবং তাদের ধ্বংস সাধনে তৎপর হন। খলিফা মনসুরের এই হিংস্র কর্মকান্ডের প্রতিফলন উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও লক্ষণীয়। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। খলিফা মনসুরের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। উমাইয়াদের পতনের পর ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণের ন্যায়সংগত অধিকারী ছিলেন। এ কারণে আলী ও ফাতেমীয় বংশের লোকদের ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে মনসুর তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান। ফলে মুহাম্মদ ও তার ভাই ইব্রাহীম মদিনা ও বসরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কিন্তু খলিফা মনসুরের ভ্রাতুষ্পুত্র তাদেরকে পরাজিত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। খলিফা মনসুর মদিনায় বসবাসরত ইমাম হাসান (রা) ও হুসেন (রা) এর পরিবারবর্গের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এমনকি সুফিসাধক ইমাম জাফর সাদিক, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। সুতরাং দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সাদ্দাম হোসেনের আচরণ খলিফা মনসুরের আলী বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারকেই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল-মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর

খলিফা আল মনসুর নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক। খলিফা আল মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে আব্বাসি আন্দোলনের মূল নেতা আব্দুল্লাহ আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। তিনি সমস্ত বিদ্রোহ ও বিরোধীদের কঠোরভাবে দমন করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। তিনি তাবারিস্তান, গিলান, এশিয়া মাইনর ও আফ্রিকায় আব্বাসি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ তিনি সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সাম্রাজ্যের যথেষ্ট বিস্তৃতি সাধন করেন। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তৃতির দিকটি অনুপস্থিত রয়েছে। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। তিনি অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরাকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তার এ দিকগুলো খলিফা আল মনসুরের গৃহীত পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। তবে খলিফা মনসুর এক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী ও দূরদর্শী সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। আব্বাসি শাসক আল মনসুর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিরোধিতার মূলোৎপাটন করে তার বংশকে শত্রুমুক্ত করেন। প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তিনি দজলা নদীর পশ্চিম তীরে ৪৮ লক্ষ ৮৩ হাজার দিরহাম ব্যয় করে সুন্দর ও সুপরিকল্পিত বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া সামরিক শক্তিই যে সাম্রাজ্যের মূলভিত্তি- এ সত্যকে অনুধাবন করে আল মনসুর একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শক্তিশালী নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করেন। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে তিনি উদার ছিলেন। তার রাজত্বকালে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের উন্নয়নে তিনি নানাবিধ-পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বহু নগর, সরাইখানা, রাজপথ ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এভাবে আল মনসুর খিলাফতে একটি নতুন সভ্যতার সূচনা করেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা আল মনসুর তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা ও দমন করার মাধ্যমে নিজ বংশকে নিষ্কণ্টক করে আব্বাসীয় শাসনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ পদক্ষেপে উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্যোগের থেকে অধিক দূরদর্শিতা ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাবের অধিকারী প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। আসলে ইরাকের জটিল রাজনৈতিক, জাতিগত বিদ্বেষ, বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের আত্মকলহ তাকে কঠোর হতে বাধ্য করেছিল। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন কৌশলে শতধাবিভক্ত ইরাকিদের একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েম করতে সক্ষম হন।

Dhaka · 2017

'আল-মনসুর' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

আল-মনসুর শব্দের অর্থ 'বিজয়ী'।
আল-মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার জন্য খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। বাগদাদ দজলা (টাইগ্রিস) নদীর পশ্চিম তীরে মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশে অবস্থিত। এটা ছিল সুস্বাস্থ্যকর, সাম্রাজ্যের মধ্যস্থলে এবং অধিকতর নিরাপদ স্থান। নদীর তীরে অবস্থানের ফলে এ নগরীর সাথে নৌপথে সিরিয়া, মেসোপটেমিয়া, আর্মেনিয়া ও সাম্রাজ্যের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ সহজতর ছিল। এছাড়া এখান থেকে বহির্বিশ্বের এমনকি সুদূর চীনের সাথেও যোগাযোগ স্থাপন সম্ভবপর হয়েছিল। তাছাড়া এতে আন্তঃবাণিজ্য ও বহির্বাণিজ্যে প্রভৃত সাফল্যেরও সম্ভাবনা ছিল। এসব কারণে খলিফা মনসুর বাগদাদে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন।
উদ্দীপকে প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ খলিফা আল মনসুরের কোন কর্মকান্ডের অনুরূপ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি আচরণ আব্বাসি খলিফা আল মনসুরের হযরত আলী (রা)-এর বংশধরদের প্রতি দুর্ব্যবহারের অনুরূপ। হযরত আলী ও ফাতিমার বংশধরগণ আব্বাসি বংশের উত্থানের সময় যথাসাধ্য সাহায্য করলেও খলিফা মনসুর তাদেরকে সুনজরে দেখেননি। আলীর বংশধরদের ওপর জনসাধারণের অসীম ভক্তি ও শ্রদ্ধার জন্য খলিফা মনসুর বিচলিত হয়ে ওঠেন এবং তাদের ধ্বংস সাধনে তৎপর হন। খলিফা মনসুরের এই হিংস্র কর্মকান্ডের প্রতিফলন উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের মধ্যেও লক্ষণীয়। সাদ্দাম হোসেন বিভিন্ন গুণাবলির অধিকারী হলেও তার মধ্যে প্রবল সন্দেহপ্রবণতা ছিল। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য অনেক ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীকে তিনি নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। খলিফা মনসুরের ক্ষেত্রেও এমনটি দৃষ্টিগোচর হয়। উমাইয়াদের পতনের পর ইমাম হাসানের প্রপৌত্র মুহাম্মদ সিংহাসনে আরোহণের ন্যায়সংগত অধিকারী ছিলেন। এ কারণে আলী ও ফাতেমীয় বংশের লোকদের ভবিষ্যৎ প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে মনসুর তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালান। ফলে মুহাম্মদ ও তার ভাই ইব্রাহীম মদিনা ও বসরায় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। কিন্তু খলিফা মনসুরের ভ্রাতুষ্পুত্র তাদেরকে পরাজিত করে নির্মমভাবে হত্যা করেন। খলিফা মনসুর মদিনায় বসবাসরত ইমাম হাসান (রা) ও হুসেন (রা) এর পরিবারবর্গের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন। এমনকি সুফিসাধক ইমাম জাফর সাদিক, ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিকের সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। সুতরাং দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রতি সাদ্দাম হোসেনের আচরণ খলিফা মনসুরের আলী বংশীয়দের প্রতি দুর্ব্যবহারকেই মনে করিয়ে দেয়।
দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমে সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে আল-মনসুর আরও দূরদর্শী ছিলেন- উক্তিটি মূল্যায়ন করো।

উত্তর

খলিফা আল মনসুর নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক। খলিফা আল মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে আব্বাসি আন্দোলনের মূল নেতা আব্দুল্লাহ আবু মুসলিমকে হত্যা করেন। তিনি সমস্ত বিদ্রোহ ও বিরোধীদের কঠোরভাবে দমন করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। তিনি তাবারিস্তান, গিলান, এশিয়া মাইনর ও আফ্রিকায় আব্বাসি শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। অর্থাৎ তিনি সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সাম্রাজ্যের যথেষ্ট বিস্তৃতি সাধন করেন। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের মধ্যে সাম্রাজ্য বিস্তৃতির দিকটি অনুপস্থিত রয়েছে। উদ্দীপকে আমরা লক্ষ করি যে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন ঘনিষ্ঠ প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্মমভাবে সরিয়ে দেন। তিনি অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরাকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। তার এ দিকগুলো খলিফা আল মনসুরের গৃহীত পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। তবে খলিফা মনসুর এক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী ও দূরদর্শী সিন্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন। আব্বাসি শাসক আল মনসুর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিরোধিতার মূলোৎপাটন করে তার বংশকে শত্রুমুক্ত করেন। প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। তিনি দজলা নদীর পশ্চিম তীরে ৪৮ লক্ষ ৮৩ হাজার দিরহাম ব্যয় করে সুন্দর ও সুপরিকল্পিত বাগদাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া সামরিক শক্তিই যে সাম্রাজ্যের মূলভিত্তি- এ সত্যকে অনুধাবন করে আল মনসুর একটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শক্তিশালী নিয়মিত সেনাবাহিনী গঠন করেন। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে তিনি উদার ছিলেন। তার রাজত্বকালে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের উন্নয়নে তিনি নানাবিধ-পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বহু নগর, সরাইখানা, রাজপথ ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এভাবে আল মনসুর খিলাফতে একটি নতুন সভ্যতার সূচনা করেন। উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রতীয়মান হয় যে, খলিফা আল মনসুর তার সকল প্রতিদ্বন্দ্বীকে হত্যা ও দমন করার মাধ্যমে নিজ বংশকে নিষ্কণ্টক করে আব্বাসীয় শাসনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেন। তার এ পদক্ষেপে উদ্দীপকে বর্ণিত উদ্যোগের থেকে অধিক দূরদর্শিতা ছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদের রানিংমেট। তথাপি সন্দেহবশত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে অজুহাত করে মাহাথির তাকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন । পরবর্তীতে মাহাথিরের ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা লোপ পায়।

Rajshahi · 2018

খায়জুরান কে ছিলেন?

উত্তর

খায়জুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা হারুন অর-রশীদের মাতা।
'বায়তুল হিকমা' কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ- এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন ইসহাক এর প্রথম তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।
উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বার্মাকি পরিবারের কোন মসদস্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বার্মাকি পরিবারের সদস্য জাফর বিন ইয়াহিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে এ বংশের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরিতে যে বংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেটি হলো বার্মাকি বংশ। এ বংশের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন জাফর বিন ইয়াহিয়া। তিনি খলিফা হারুন-অর-রশীদের নিত্যসহচর ছিলেন। তিনি আব্বাসি খিলাফতে দীর্ঘদিন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু জাফরকে শেষ পর্যন্ত হারুন-অর-রশীদের রোষানলে পড়ে জীবন দিতে হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত আনোয়ার ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা লক্ষ করা যায় ৷ উদ্দীপকে বর্ণিত আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন মালেয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের রানিংমেট। তবুও সন্দেহবশত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে মাহাথির তাকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। অনুরূপ ঘটনা খলিফা হারুন-অর রশীদ ও জাফর বিন ইয়াহিয়ার মধ্যেও দেখা যায়। জাফর বিন ইয়াহিয়া ছিলেন খলিফার বন্ধু। খলিফা তাকে তার ছেলে- মামুনের অভিভাবক নিযুক্ত করেন। জাফর যোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে কয়েকটি প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন মন্ত্রিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার প্রশাসনে আব্বাসি খিলাফতের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জাফর হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসাকে গোপনে বিয়ে করলে খলিফা অত্যন্ত ক্ষুধ্ব হন এবং এক সময়ের প্রিয়সহচর ও প্রধানমন্ত্রী জাফরকে হত্যার আদেশ দেন। হারুন অর- রশীদের নির্দেশে জাফরের শিরচ্ছেদ করা হয়। এভাবে জাফরের ক্ষমতা চ্যুতি ও জীবনবসান ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিম জাফর বিন ইয়াহিয়ার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের আলোকে বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণ মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, অত্যধিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসার সাথে জাফর বার্মাকির গোপন সম্পর্কসহ নানাবিধ কারণে বার্মাকিদের পতন ঘটে। আব্বাসি সাম্রাজ্যে বার্মাকিরা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। খলিফার কাছে বার্মাকিদের এরূপ প্রভাব প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল এছাড়া খলিফার বোন আব্বাসার সাথে জাফর বামার্কির গোপন সম্পর্ক, সম্পদের প্রাচুর্য, আরব-পারসিক দ্বন্দ্ব ও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব বার্মাকিদের পতনে প্রভাব রেখেছিল। উদ্দীপকেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার রানিংমেট আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনাটি বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণকে নির্দেশ করে। তবে বার্মাকি পরিবারের পতনের ক্ষেত্রে নানাবিধ কারণ ভূমিকা রেখেছে। বার্মাকিদের প্রভাব ও ঐশ্বর্য এতো বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে, খলিফা হারুন-অর-রশীদ তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে তিনি বার্মাকিদের ক্ষমতার রেশ টানার চেষ্টা করতে থাকেন। এমতবস্থায় জাফর বার্মাকি খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসাকে গোপনে বিয়ে করলে খলিফা বার্মাকিদের প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হন, যা তাদের পতনের দরজা খুলে দেয়। এছাড়া বার্মাকিরা ছিল শিয়া মতাবলম্বী। তাই সুন্নি আব্বাসিদের দরবার ও খিলাফতে তাদের বিপুল প্রতিপত্তি সাম্রাজ্যের সুন্নি অভিজাতদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাই তারা বার্মাকিদের ধ্বংস সাধনে নানাভাবে খলিফাকে প্ররোচিত করে। এ প্রসঙ্গে গৃহাধ্যক্ষ ফজল বিন রাবির ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা বলা যায় । তিনি নিজে প্রধান উজির হবার প্রত্যাশায় বার্মাকিদের বিরুদ্ধে খলিফাকে উস্কানি দেন। এ সব কারণে খলিফা হারুন-অর-রশীদ জাফরের শিরচ্ছেদ করেন এবং বার্মাকি পরিবারের অন্য সদস্যদের কারারুদ্ধ করেন। এভাবে বার্মাকি পরিবারের চূড়ান্ত পতন ঘটে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আব্বাসি খিলাফতের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বার্মাকিদের অবদান অতুলনীয়। তাই আপাতদৃষ্টিতে বার্মাকিদের প্রতি খলিফার ব্যবহার যৌক্তিক মনে হয় না। কিন্তু তাদের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কাজই তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদের রানিংমেট। তথাপি সন্দেহবশত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে অজুহাত করে মাহাথির তাকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন । পরবর্তীতে মাহাথিরের ক্ষমতা ও জনপ্রিয়তা লোপ পায়।

Rajshahi · 2018

খায়জুরান কে ছিলেন?

উত্তর

খায়জুরান ছিলেন আব্বাসি খলিফা হারুন অর-রশীদের মাতা।
'বায়তুল হিকমা' কী? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

আব্বাসি খলিফা আল মামুন প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জ্ঞানগৃহ হলো বায়তুল হিকমা। বায়তুল হিকমা অর্থ জ্ঞানগৃহ। খলিফা আল মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ বিভাগ- এ তিন ভাগে বিভক্ত ছিল। সুপণ্ডিত হুনায়ন বিন ইসহাক এর প্রথম তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত হয়েছিলেন। এখানে গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, পল প্রমুখ মনীষীদের প্রাচীন গ্রন্থাবলি অনুবাদ করা হতো এবং অনুবাদকারীকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রায় পারিশ্রমিক দেওয়া হতো।
উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বার্মাকি পরিবারের কোন মসদস্যের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে বার্মাকি পরিবারের সদস্য জাফর বিন ইয়াহিয়ার সাদৃশ্য রয়েছে। আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে শুরু করে এ বংশের সুদৃঢ় অবস্থান তৈরিতে যে বংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সেটি হলো বার্মাকি বংশ। এ বংশের প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন জাফর বিন ইয়াহিয়া। তিনি খলিফা হারুন-অর-রশীদের নিত্যসহচর ছিলেন। তিনি আব্বাসি খিলাফতে দীর্ঘদিন মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। কিন্তু জাফরকে শেষ পর্যন্ত হারুন-অর-রশীদের রোষানলে পড়ে জীবন দিতে হয়। উদ্দীপকে বর্ণিত আনোয়ার ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা লক্ষ করা যায় ৷ উদ্দীপকে বর্ণিত আনোয়ার ইব্রাহিম ছিলেন মালেয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের রানিংমেট। তবুও সন্দেহবশত একটি তুচ্ছ ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে মাহাথির তাকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। অনুরূপ ঘটনা খলিফা হারুন-অর রশীদ ও জাফর বিন ইয়াহিয়ার মধ্যেও দেখা যায়। জাফর বিন ইয়াহিয়া ছিলেন খলিফার বন্ধু। খলিফা তাকে তার ছেলে- মামুনের অভিভাবক নিযুক্ত করেন। জাফর যোগ্যতা ও কর্তব্যনিষ্ঠার সাথে কয়েকটি প্রদেশের শাসনকার্য পরিচালনা করেন। এছাড়া তিনি দীর্ঘদিন মন্ত্রিত্ব করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার প্রশাসনে আব্বাসি খিলাফতের প্রভাব ও প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায়। কিন্তু জাফর হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসাকে গোপনে বিয়ে করলে খলিফা অত্যন্ত ক্ষুধ্ব হন এবং এক সময়ের প্রিয়সহচর ও প্রধানমন্ত্রী জাফরকে হত্যার আদেশ দেন। হারুন অর- রশীদের নির্দেশে জাফরের শিরচ্ছেদ করা হয়। এভাবে জাফরের ক্ষমতা চ্যুতি ও জীবনবসান ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আনোয়ার ইব্রাহিম জাফর বিন ইয়াহিয়ার ঘটনা একই সূত্রে গাঁথা।
উদ্দীপকের আলোকে বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণ মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের আলোকে বলা যায়, অত্যধিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসার সাথে জাফর বার্মাকির গোপন সম্পর্কসহ নানাবিধ কারণে বার্মাকিদের পতন ঘটে। আব্বাসি সাম্রাজ্যে বার্মাকিরা অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। খলিফার কাছে বার্মাকিদের এরূপ প্রভাব প্রতিপত্তি ও জনপ্রিয়তা অসহনীয় হয়ে উঠেছিল এছাড়া খলিফার বোন আব্বাসার সাথে জাফর বামার্কির গোপন সম্পর্ক, সম্পদের প্রাচুর্য, আরব-পারসিক দ্বন্দ্ব ও শিয়া-সুন্নি দ্বন্দ্ব বার্মাকিদের পতনে প্রভাব রেখেছিল। উদ্দীপকেও এ ধরনের ঘটনা লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার রানিংমেট আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিরতরে ক্ষমতার বাইরে পাঠিয়ে দেন। এ ঘটনাটি বার্মাকি পরিবারের পতনের কারণকে নির্দেশ করে। তবে বার্মাকি পরিবারের পতনের ক্ষেত্রে নানাবিধ কারণ ভূমিকা রেখেছে। বার্মাকিদের প্রভাব ও ঐশ্বর্য এতো বেশি বেড়ে গিয়েছিল যে, খলিফা হারুন-অর-রশীদ তাদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। ফলে তিনি বার্মাকিদের ক্ষমতার রেশ টানার চেষ্টা করতে থাকেন। এমতবস্থায় জাফর বার্মাকি খলিফা হারুন-অর-রশীদের বোন আব্বাসাকে গোপনে বিয়ে করলে খলিফা বার্মাকিদের প্রতি খুবই ক্ষুব্ধ হন, যা তাদের পতনের দরজা খুলে দেয়। এছাড়া বার্মাকিরা ছিল শিয়া মতাবলম্বী। তাই সুন্নি আব্বাসিদের দরবার ও খিলাফতে তাদের বিপুল প্রতিপত্তি সাম্রাজ্যের সুন্নি অভিজাতদের ক্ষুব্ধ করে তোলে। তাই তারা বার্মাকিদের ধ্বংস সাধনে নানাভাবে খলিফাকে প্ররোচিত করে। এ প্রসঙ্গে গৃহাধ্যক্ষ ফজল বিন রাবির ব্যক্তিগত আক্রোশের কথা বলা যায় । তিনি নিজে প্রধান উজির হবার প্রত্যাশায় বার্মাকিদের বিরুদ্ধে খলিফাকে উস্কানি দেন। এ সব কারণে খলিফা হারুন-অর-রশীদ জাফরের শিরচ্ছেদ করেন এবং বার্মাকি পরিবারের অন্য সদস্যদের কারারুদ্ধ করেন। এভাবে বার্মাকি পরিবারের চূড়ান্ত পতন ঘটে। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, আব্বাসি খিলাফতের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বার্মাকিদের অবদান অতুলনীয়। তাই আপাতদৃষ্টিতে বার্মাকিদের প্রতি খলিফার ব্যবহার যৌক্তিক মনে হয় না। কিন্তু তাদের পতনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, কাজই তাদের পতনকে ত্বরান্বিত করেছিল।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। তার স্ত্রীও তীর্থযাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য দূরাঞ্জল থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বাদশাহ তার পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্রু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও তাকে ক্ষমা করে দেন।

Rajshahi · 2018

আব্বাসিদের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর

আব্বাসিদের রাজধানী ছিল বাগদাদে।
আব্বাসি কারা? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মহানবি (স) এর চাচা আল আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেমের বংশধররাই আব্বাসি নামে পরিচিত। আব্বাসিরা মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। কুরাইশ বংশের অন্য শাখাটি উমাইয়া নামে খ্যাত। আল আব্বাসের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র সিফফিনের যুদ্ধের (৬৫৭ খ্রি.) সময় উমাইয়া গোত্রের মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে হাশেমি গোত্রের হযরত আলী (রা) এর পক্ষাবলম্বন করেন। আত্মীয়তার দিক থেকে উমাইয়াদের তুলনায় আব্বাসিরা মহানবি (স) এর নিকটতর হওয়ায় তারা নিজেদেরকে মুসলিম খিলাফতের বৈধ দাবিদার বলে দাবি করত। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে উমাইয়াদের পরাজিত করে আব্বাসিরা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকের নারীর সাথে আব্বাসি কোন মহীয়সী নারীর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর

উদ্দীপকের নারীর সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন অর-রশীদের স্ত্রী জুবাইদার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদের স্ত্রী জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন। খলিফা হারুন অর রশীদ যেমন প্রজাদের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তেমনি তার এ সব কাজে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী জুবাইদা। উদ্দীপকে বর্ণিত বাদশা হাসানের স্ত্রীর কাজে জুবাইদার কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসানের স্ত্রী প্রজাকল্যাণকামী পানির কষ্ট করার জন্য দূরাঞ্চল থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেন। অনুরূপ কাজ করে প্রজারঞ্জক খলিফা হারুন অর রশীদের স্ত্রী জুবাইদা ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি হজব্রত পালনে মক্কায় অবস্থানকারী মুসলমানদের পানির কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে ২০ লাখ দিনার খরচ করে ফোরাত নদী থেকে মক্কার উপকূল পর্যন্ত একটি নহর খনন করে মক্কা নগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চত করেন। এটি নহর-ই জুবাইদা নামে পরিচিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা হাসানের স্ত্রীর কাজের সাথে খলিফা হারুন-অর-রশীদের স্ত্রী জুবাইদার জনকল্যাণমূলক কাজের মিল রয়েছে।
'উদ্দীপকের শাসক ও আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদ-এর শাসন বৈশিষ্ট্য একই রূপ'— মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসক ও আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদের শাসন বৈশিষ্ট্য একই রূপ-মন্তব্যটি যথার্থ। আরব্য উপন্যাসের নায়ক আব্বাসি খলিফা হারুন-রশীদের শাসনকাল ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তার রাজত্বকালে (৭৮৬-৮০৯ খ্রি.) আব্বাসি সাম্রাজ্যে সুখ-শান্তি বিরাজিত ছিল। সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে ও বৈদেশিক ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ নীতি গ্রহণ করার ফলে তার সময়ে সাম্রাজ্যের গৌরব বৃদ্ধি পায়। তবে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে হারুন-অর রশীদ প্রভাবশালী শত্রু পক্ষকে বারবার ক্ষমা প্রদর্শন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের কাজেও হারুন-অর-রশীদের এ শাসননীতি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইতিহাসখ্যাত শাসক বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। কিন্তু তিনি তার পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্ৰু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও তাকে ক্ষমা করে দেন। অনুরূপভাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ প্রজাদের মঙ্গল ও সাম্রাজ্যের স্থিতীশীলতার কথা চিন্তা করে কল্যাণধর্মী শাসননীতি গ্রহণ করেন। তার শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রজাকল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি প্রজাদের উন্নয়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন। প্রজাদের সুবিধার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসা, খাল ও হাসপাতাল নির্মান করেন। কিন্তু বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে খলিফা-বাইজান্টাইনদের বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও ক্ষমা করে দেন। বাইজান্টাইন কোষাধ্যক্ষ নাইসিফোরাস খলিফাকে বারবার কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভঙ্গ করলে খলিফা হারুন-অর-রশীদ ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং সন্ধি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর প্রদানে বাধ্য করেন। কিন্তু ধূর্ত নাইসিফোরাস সন্ধি ভঙ্গ করে পুনরায় মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে। খলিফা পুনরায় তাকে পরাজিত করেন এবং কর প্রদানের শর্তে ক্ষমা প্ৰদৰ্শন করে সন্ধি স্বাক্ষর করেন। এভাবে নাইফোরাস বারবার কর প্রদানের সন্ধি ভঙ্গ করেন এবং খলিফা হারুন অর রশীদ চূড়ান্ত শাস্তি না দিয়ে তাকে বারবার ক্ষমা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জনকল্যাণ ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসক এবং খলিফা হারুন অর-রশীদের শাসননীতির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

HSCIslamic History 1st paperসৃজনশীল

উদ্দীপক

ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। তার স্ত্রীও তীর্থযাত্রীদের পানির কষ্ট দূর করার জন্য দূরাঞ্জল থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বাদশাহ তার পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্রু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও তাকে ক্ষমা করে দেন।

Rajshahi · 2018

আব্বাসিদের রাজধানী কোথায় ছিল?

উত্তর

আব্বাসিদের রাজধানী ছিল বাগদাদে।
আব্বাসি কারা? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

মহানবি (স) এর চাচা আল আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশেমের বংশধররাই আব্বাসি নামে পরিচিত। আব্বাসিরা মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। কুরাইশ বংশের অন্য শাখাটি উমাইয়া নামে খ্যাত। আল আব্বাসের মৃত্যুর পর তার চার পুত্র সিফফিনের যুদ্ধের (৬৫৭ খ্রি.) সময় উমাইয়া গোত্রের মুয়াবিয়ার বিরুদ্ধে হাশেমি গোত্রের হযরত আলী (রা) এর পক্ষাবলম্বন করেন। আত্মীয়তার দিক থেকে উমাইয়াদের তুলনায় আব্বাসিরা মহানবি (স) এর নিকটতর হওয়ায় তারা নিজেদেরকে মুসলিম খিলাফতের বৈধ দাবিদার বলে দাবি করত। ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে জাবের যুদ্ধে উমাইয়াদের পরাজিত করে আব্বাসিরা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করে।
উদ্দীপকের নারীর সাথে আব্বাসি কোন মহীয়সী নারীর কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর

উদ্দীপকের নারীর সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন অর-রশীদের স্ত্রী জুবাইদার কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে। আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদের স্ত্রী জনকল্যাণমূলক কাজে বিশেষ অবদান রেখেছেন। খলিফা হারুন অর রশীদ যেমন প্রজাদের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তেমনি তার এ সব কাজে সহযোগিতা করেছেন তার স্ত্রী জুবাইদা। উদ্দীপকে বর্ণিত বাদশা হাসানের স্ত্রীর কাজে জুবাইদার কর্মকাণ্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইতিহাসখ্যাত বাদশা হাসানের স্ত্রী প্রজাকল্যাণকামী পানির কষ্ট করার জন্য দূরাঞ্চল থেকে পানি আনার ব্যবস্থা করেন। অনুরূপ কাজ করে প্রজারঞ্জক খলিফা হারুন অর রশীদের স্ত্রী জুবাইদা ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন। তিনি হজব্রত পালনে মক্কায় অবস্থানকারী মুসলমানদের পানির কষ্ট দূর করার লক্ষ্যে ৮০২ খ্রিষ্টাব্দে ২০ লাখ দিনার খরচ করে ফোরাত নদী থেকে মক্কার উপকূল পর্যন্ত একটি নহর খনন করে মক্কা নগরীতে পানি সরবরাহ নিশ্চত করেন। এটি নহর-ই জুবাইদা নামে পরিচিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বাদশা হাসানের স্ত্রীর কাজের সাথে খলিফা হারুন-অর-রশীদের স্ত্রী জুবাইদার জনকল্যাণমূলক কাজের মিল রয়েছে।
'উদ্দীপকের শাসক ও আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদ-এর শাসন বৈশিষ্ট্য একই রূপ'— মূল্যায়ন করো।

উত্তর

উদ্দীপকের শাসক ও আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশীদের শাসন বৈশিষ্ট্য একই রূপ-মন্তব্যটি যথার্থ। আরব্য উপন্যাসের নায়ক আব্বাসি খলিফা হারুন-রশীদের শাসনকাল ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। তার রাজত্বকালে (৭৮৬-৮০৯ খ্রি.) আব্বাসি সাম্রাজ্যে সুখ-শান্তি বিরাজিত ছিল। সাম্রাজ্যের অভ্যন্তরে ও বৈদেশিক ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ নীতি গ্রহণ করার ফলে তার সময়ে সাম্রাজ্যের গৌরব বৃদ্ধি পায়। তবে বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে হারুন-অর রশীদ প্রভাবশালী শত্রু পক্ষকে বারবার ক্ষমা প্রদর্শন করেন। উদ্দীপকে বর্ণিত শাসকের কাজেও হারুন-অর-রশীদের এ শাসননীতি প্রতিফলিত হয়েছে। উদ্দীপকে বলা হয়েছে, ইতিহাসখ্যাত শাসক বাদশা হাসান প্রজাদের জন্য অন্তঃপ্রাণ ছিলেন। কিন্তু তিনি তার পার্শ্ববর্তী প্রতাপশালী শত্ৰু সাম্রাজ্যের অধিপতিকে বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও তাকে ক্ষমা করে দেন। অনুরূপভাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ প্রজাদের মঙ্গল ও সাম্রাজ্যের স্থিতীশীলতার কথা চিন্তা করে কল্যাণধর্মী শাসননীতি গ্রহণ করেন। তার শাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রজাকল্যাণ নিশ্চিত করা। তিনি প্রজাদের উন্নয়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতেন। প্রজাদের সুবিধার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে মসজিদ, মাদ্রাসা, খাল ও হাসপাতাল নির্মান করেন। কিন্তু বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে খলিফা-বাইজান্টাইনদের বারবার যুদ্ধে পরাজিত করেও ক্ষমা করে দেন। বাইজান্টাইন কোষাধ্যক্ষ নাইসিফোরাস খলিফাকে বারবার কর প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভঙ্গ করলে খলিফা হারুন-অর-রশীদ ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে তার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন এবং সন্ধি স্বাক্ষরের মাধ্যমে কর প্রদানে বাধ্য করেন। কিন্তু ধূর্ত নাইসিফোরাস সন্ধি ভঙ্গ করে পুনরায় মুসলিম সাম্রাজ্য আক্রমণ করে। খলিফা পুনরায় তাকে পরাজিত করেন এবং কর প্রদানের শর্তে ক্ষমা প্ৰদৰ্শন করে সন্ধি স্বাক্ষর করেন। এভাবে নাইফোরাস বারবার কর প্রদানের সন্ধি ভঙ্গ করেন এবং খলিফা হারুন অর রশীদ চূড়ান্ত শাস্তি না দিয়ে তাকে বারবার ক্ষমা করেন। উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, জনকল্যাণ ও বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে উদ্দীপকের শাসক এবং খলিফা হারুন অর-রশীদের শাসননীতির মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো