উদ্দীপকে উল্লিখিত বিপ্লবী নেতা সেলিমের সাথে আব্বাসি খলিফা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মালাগার স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায়, অরাজকতা থেকে জনগণকে রক্ষা করতে আফেন্দি বংশের সেলিম নামের এক বিখ্যাত নেতা ভূমিকা পালন করেন। তিনি জনগণকে নানামুখী প্রলোভন দেখিয়ে ও প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনসমর্থন আদায় করেন এবং সরকার উৎখাতে আন্দোলনের ডাক দেন। তার আহ্বানে জনগণ সাড়া দেয় এবং তারা সরকারের পতন ঘটাতে সক্ষম হয়। একই পরিস্থিতি লক্ষ করা যায় আবুল আব্বাসের আব্বাসি আন্দোলনের মাধ্যমে উমাইয়াদের পতনের ক্ষেত্রে।
উমাইয়া বংশীয় শেষ পর্যায়ের দুর্বল শাসকদের অন্যায়-অপকর্ম যখন চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল, তখন আব্বাসিরা তাদের উৎখাতে তৎপর হয়ে ওঠে। উমাইয়াদের পতনে তারা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলন শুরু করে। আব্বাসিগণ কুরাইশ বংশের হাশেমি শাখা থেকে উদ্ভূত। এই সূত্রে তারা মুহাম্মদ (স)-এর নিকটতম এবং খিলাফতের যোগ্য দাবিদার এমন প্রচারণায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদ বিন আলী আব্বাসি আন্দোলন শুরু করেন এবং তা বিভিন্ন ব্যক্তির হাত ধরে চূড়ান্ত পরিণতি লাভ করে। সর্বশেষ আবুল আব্বাস ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত জাবের যুদ্ধে উমাইয়া বংশীয় শেষ খলিফা দ্বিতীয় মারোয়ানকে পরাজিত করে আব্বাসি বংশের শাসনপর্ব শুরু করেন। তিনি নানা প্রচারণা, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিয়া, খারেজি, মাওয়ালি, খোরাসানি প্রভৃতি সম্প্রদায়কে উমাইয়াদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তোলেন। তারা উমাইয়াদের পতনে আব্বাসিদের সর্বতোভাবে সহায়তা করে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিমের গৃহীত কর্মকাণ্ডে আব্বাসি বংশের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর কাজের প্রতিফলন ঘটেছে।