খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতিতে বহুমুখী অবদান রেখেছে, যার আংশিক কাজের প্রতিফলন উদ্দীপকের পাঠাগারের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই যে, হেমায়েত উদ্দিন তালুকদারের প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা ও গবেষণাকর্মে অবদান রাখলেও সরকারি প্রতিষ্ঠান না হওয়ায় নতুন নতুন গবেষণায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার অভাবে এটি বিশেষ উন্নতি সাধন করতে পারছে না। এছাড়া এটি ছিল একটি গ্রামভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। অপরপক্ষে খলিফা মামুন প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ছিল একটি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান। তিনি এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা দান করেন। যার ফলে গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও সাম্রাজ্যের সাংস্কৃতিক উন্নয়নে এটি বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হয়। আর এ কারণেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়নে উদ্দীপকের সংস্থার চেয়ে বায়তুল হিকমা অনেক বেশি অবদান রাখে।
মামুনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই সংস্থাটি এথেন্স, আলেকজান্দ্রিয়া, সিরিয়া, এশিয়া মাইনরসহ অনেক স্থান হতে বহু মূল্যবান প্রাচীন গ্রন্থ সংগ্রহ করে তাদের আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক এরিস্টটল ও প্লেটোর পুস্তকগুলো এবং গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ মনীষীদের বৈজ্ঞানিক গ্রন্থাবলি আরবিতে অনূদিত হয়। এতে অনুবাদকারীদেরকে গ্রন্থের ওজনে স্বর্ণমুদ্রা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো। এ সকল অনুবাদকের সাহায্যে বায়তুল হিকমা গ্রিক পণ্ডিতগণের আজীবনের সাধনা ও গবেষণার ফলাফল ধরে রাখতে সক্ষম হয়। ইউরোপ যখন গ্রিক চিন্তা ও বিজ্ঞান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন আরবে এ মহান কার্য সম্পাদিত হয়। বস্তুত মুসলমানগণ অনুবাদের দ্বারা এ সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত পণ্ডিতদের গবেষণা রক্ষা না করলে পৃথিবী হতে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যেত। এক্ষেত্রে বলা যায় যে, বায়তুল হিকমা শুধু প্রাচীন সভ্যতার ধারকই নয়, এটি ছিল ইউরোপে নবজাগরণ সৃষ্টিরও মূল কারণ।
উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, আব্বাসি খিলাফতে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে বায়তুল হিকমা অনন্যসাধারণ ভূমিকা পালন করে, যার তুলনায় উদ্দীপকের পাঠাগারের অবদান অতি নগণ্য।