উদ্দীপকে উল্লিখিত সুলতান মুরাদের সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন অর রশিদের মিল রয়েছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, অটোমান সুলতান মুরাদ অত্যন্ত জনপ্রিয় শাসক ছিলেন। একজন শৈল্পিক, মার্জিত ও রুচিশীল শাসক হিসেবেও তিনি খ্যাতিলাভ করেন। বিদ্রোহ দমন, বৈদেশিক অভিযান পরিচালনা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্যের সম্প্রসারণে তিনি উদার ভূমিকা পালন করেন। তিনি রাতের বেলা ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করে প্রজাদের দুঃখ-দুর্দশা প্রত্যক্ষ করে সে সব দূর করতেন। একজন প্রজাহিতৈষী সুলতান হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন, যা খলিফা হারুন অর রশিদকে নিদের্শ করে। খলিফা হারুন অর রশিদ ৭৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ২৫ বছর তিনি আব্বাসি খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচারক, প্রজারঞ্জক শাসক হিসেবে বিশ্বে সমধিক খ্যাতি অর্জন করেন। অরাজকতা দমন করতে এবং প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য তিনি ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করতেন। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন কঠোর ছিলেন তেমনি গরিব ও দুঃখীদের প্রতি ছিলেন সদয়, পুষ্পের মতো কোমল। তার মতো ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব ও দানবীর নরপতি সে যুগে ছিল না বললেই চলে। তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করতেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি রাজকোষ থেকে অতিরিক্ত খরচ করতেন না। রাজ্যের কোনো কাজও তিনি ফেলে রাখতেন না। জনসাধারণের উন্নতি এবং জনস্বার্থ রক্ষা করাই ছিল তার প্রধান কাজ।