উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসকের মানবিক গুণাবলির সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।রূপকথার রাজা, কিংবদন্তির নায়ক, ইতিহাসের গৌরব, ইসলামের মুকুটমণি খলিফা হারুন-অর-রশিদ দীর্ঘ তেইশ বছর ছয় মাস আব্বাসি খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতা অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন ছিলেন কঠোর; গরিব ও দুঃখীদের প্রতি তিনি তেমনি ছিলেন পুষ্পের মতো কোমল। তার মতো ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব, দানবীর ও বিচক্ষণ নরপতি সে যুগে ছিল না বললেও অত্যুক্তি হয় না। ঐতিহাসিক আমীর আলী বলেন, "তিনি ধর্মীয় কর্তব্য পালনে নিষ্ঠাবান, জীবনযাপনে মিতভাষী, সাধুতা ও দানশীলতায় অনাড়ম্বর ছিলেন; অথচ রাজকীয় আড়ম্বর ও জাঁকজমকে পরিবেষ্টিত থাকতে তিনি পছন্দ করতেন।” ব্যক্তিগত জীবনে হারুন ছিলেন দয়ালু, দানবীর এবং ধর্মভীরু। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়াও তিনি প্রত্যেক রাত্রিতে একশ রাকাত নফল (অতিরিক্ত) নামাজ পড়তেন। ঐতিহাসিকগণ বলেন যে, ধর্মোপদেশ ও ওয়াজ নসিহত শ্রবণ করতে করতে কোনো কোনো দিন চক্ষু ভিজিয়ে ফেলতেন। তিনি প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম করে দান-খয়রাত করতেন।পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের শাসকের সাথে আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশিদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই সবচেয়ে সংগতিপূর্ণ।