উদ্দীপকের উল্লিখিত পাঠাগারের সাথে আব্বাসীয় খিলাফতের বায়তুল হিকমার সাদৃশ্য রয়েছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ফেরদৌস হাসান তার গ্রামে নিজ উদ্যোগে একটি বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলেন। সেখানে প্রতিদিন প্রচুর পাঠক সমাবেশ হয়। তিনি বিভিন্ন ভাষার গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলির বাংলা অনুবাদ ও গবেষণার ব্যবস্থা করেন। দেশি-বিদেশি বহু বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তির সহযোগিতায় পাঠাগারটি উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি লাভ করে। যা খলিফা আল মামুন কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমার অনুরূপ। খলিফা আল মামুন ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে আব্বাসি সিংহাসনে আরোহণ করেন। আব্বাসি খলিফাদের মধ্যে মামুন ছিলেন অন্যতম বিদ্বান এবং রাজ্য লিপ্সা অপেক্ষা জ্ঞানচর্চায় বেশি আগ্রহী। তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানকে, প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে বায়তুল হিকমা বা জ্ঞানগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এ প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এ তিনটি বিভাগ স্থাপন করেন। হুনায়ন বিন ইসহাক বায়তুল হিকমার মহাপরিচালক ছিলেন। দেশ-বিদেশের বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করে আল মামুন এ প্রতিষ্ঠানটিকে সমৃদ্ধ করে তোলেন। তিনি গ্রিক, মিশরীয়, পারসিক, সংস্কৃত ভাষায় লিখিত মূল্যবান গ্রন্থসমূহ এবং লিউক, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি, এরিস্টটল ও প্লেটো রচিত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন মৌলিক গ্রন্থাদি সংগ্রহ করে সেগুলো আরবিতে অনুবাদের ব্যবস্থা করেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের ফেরদৌস হাসানের কর্মকান্ডের সাথে আব্বাসি খলিফা আল মামুনের কর্মকান্ডের সাদৃশ্য রয়েছে।