এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিরাই সফলতা লাভ করে। মন্তব্যটি যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ।
কেননা উদ্দীপকে বর্ণিত যুদ্ধে স্ফূর্তিবাজ ও শাসনকাজে অমনোযোগী রাহাত কিছু দুষ্ঠু লোকের পরামর্শে ভাইয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেও অপুর কাছে পরাজিত হন। তেমনি আমিন ও মামুনের যুদ্ধে মামুন যোগ্যতাবলে জয়ী হয়। আল-মামুন মার্জিত ও রুচিশীল চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন সৎ, ন্যায়বান ও আদর্শবান। তার চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাকে বিজয়ী হতে সহায়তা করেছিল। পক্ষান্তরে, আল-আমিন ছিলেন অযোগ্য ও বিলাসপ্রিয়। তিনি রাজকার্য অপেক্ষা হেরেম নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতেন। তার চারিত্রিক ও নৈতিক অধঃপতনই ছিল তার পরাজয়ের মূল কারণ। মামুনের সামরিক দক্ষতা ও রণকৌশলের কাছে আমিনের অযোগ্য ও অপরিণামদর্শী রণকৌশল পরাজিত হয়। তাছাড়া মামুন তার চারিত্রিক মাধুর্য ও দক্ষ শাসনে জনগণের হৃদয় জয় করেন, ফলে গণসমর্থন তার দিকে ঝুঁকে পড়ে। অন্যদিকে চারিত্রিক অধঃপতন ও সুশাসনের অভাবে গণসমর্থন আমিনের পক্ষে ছিল না। মামুনের সেনাপতি তাহির বিন হুসাইন, হারসামা ও জুহাইর ছিলেন দক্ষ রণনায়ক। তাদের যুদ্ধকৌশল ও দক্ষতায় মামুনের বিজয় ত্বরান্বিত হয়। অপরপক্ষে, আমিনের অযোগ্য ও অদূরদর্শী সেনাপতি আলী ইবনে ইসা ও আব্দুর রহমানের দুর্বল সেনাপতিত্বে বারবার আমিনের বাহিনী পরাজয় বরণ করে। তাছাড়া মামুনের পরামর্শদাতা উজির ফজল বিন সাহল তাকে সঠিক পরামর্শ দিয়ে বিজয়ী হতে সহায়তা করেন। অন্যদিকে আমিনে উজির ফজল বিন রাবির অযোগ্যতা ও অদূরদর্শিতা এবং তার কুশাসন আমিনের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করে।
অতএব বলা যায়, অপুর মতো আল মামুনও নিজ যোগ্যতা ও দক্ষতা দ্বারা বিজয়ী হয়ে প্রমাণ করেন এ ধরনের দ্বন্দ্বে যোগ্য ও দক্ষরাই বিজয়ী করে।