উদ্দীপকে উল্লিখিত সম্রাটের এবং আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের মানবিক গুণাবলির মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মিল রয়েছে।
আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদ ছিলেন একজন প্রজারঞ্জক শাসক। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। তিনি একদিকে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দিতেন, অপরদিকে নিষ্ঠার সাথে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন এবং প্রজাদের কল্যাণে প্রচুর দান করতেন। তার এসব গুণ উদ্দীপকের শাসকের চরিত্রেও ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, সম্রাট অন্যায়কারীদের প্রতি কঠোর এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি উদার ও মহানুভব ছিলেন। আরব্য রজনীর রূপ কথার নায়ক হিসেবে পরিচিত খলিফা হারুন-অর- রশীদও এরূপ স্বভাবের ছিলেন। তিনি খারেজি সম্প্রদায় এবং খাজার উপজাতির বিদ্রোহসহ অন্যান্য বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করেন। প্রজাদের কল্যাণে তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা, মসজিদ, স্কুল, মাদ্রাসা, বিমারিস্তান (হাসপাতাল) প্রভৃতি নির্মাণ করেন। পানীয় জল ও সেচ কাজের সুবিধার জন্য হারুন-অর-রশীদ অনেক খাল খনন করেন। সম্রাটের মতো খলিফা হারুন-অর-রশীদও প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বচক্ষে দেখার জন্য রাতে ছদ্মবেশে লোকালয়ে ঘুরে বেড়াতেন। আবার, সম্রাট নিষ্ঠার সাথে ধর্মকর্ম করতেন ও প্রচুর দান- খয়রাত করতেন। একইভাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ এবং প্রত্যেক রাতে একশ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি প্রতিদিন ১০০০ দিরহাম দরিদ্র প্রজাদের দান করতেন। তবে খলিফা কিছুটা সন্দেহ প্রবণ স্বভাবের ছিলেন যা উদ্দীপকের সম্রাটের মধ্যে নেই। এ দিকটি ছাড়া উদ্দীপকের সম্রাটের মানবিক গুণাবলি এবং আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে যথেষ্ট মিল রয়েছে।