উদ্দীপকের আবদুর রহমানের মতো প্রজাবাৎসল্যের উদাহরণ খলিফা হারুন অর রশীদের বেলায়ও প্রযোজ্য মন্তব্যটি যথার্থ।
উদ্দীপকের আবদুর রহমান সিংহাসন আরোহণ করে আমজনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে সচেষ্ট হন। কে, কোথায় অন্নহীন-বস্ত্রহীন হয়ে পড়ে আছে, নিজে গিয়ে তার সাহায্য করে আসতেন। অনুরূপ কর্মকান্ড খলিফা হারুন অর রশিদের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। খলিফা হারুন অর রশিদ ৭৮৬ সালে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। ২৫ বছর তিনি আব্বাসি খিলাফতে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ন্যায়বিচারক, প্রজারঞ্জক শাসক হিসেবে বিশ্বে সমধিক খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি জনগণের অবস্থা দেখার জন্য রাতের বেলা ছদ্মবেশে রাজ্যজুড়ে বেড়াতেন। অরাজকতা দমন করতে এবং প্রজাসাধারণের অবস্থা স্বয়ং অবগত হওয়ার জন্য তিনি ছদ্মবেশে নগর ভ্রমণ করতেন। তার চরিত্রে কঠোরতা ও কোমলতার অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছিল। অন্যায়কারী ও বিদ্রোহীদের প্রতি তিনি যেমন কঠোর ছিলেন তেমনি গরিব ও দুঃখীদের প্রতি ছিলেন সদয়, পুষ্পের মতো কোমল। তার মতো ন্যায়পরায়ণ, মহানুভব ও দানবীর নরপতি সে যুগে ছিল না বললেই চলে। তিনি দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করতেন। এছাড়াও তিনি প্রত্যেক রাতে ১০০ রাকাত নফল নামাজ আদায় করতেন। তিনি রাজকোষ থেকে অতিরিক্ত খরচ করতেন না। রাজ্যের কোনো কাজও তিনি ফেলে রাখতেন না। জনসাধারণের উন্নতি এবং জনস্বার্থ রক্ষা করাই ছিল তার প্রধান কাজ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের আবদুর রহমানের মতো প্রজাবাৎসল্যের উদাহরণ খলিফা হারুন অর রশীদের বেলায়ও প্রযোজ্য।