আমিন ও মামুনের মধ্যকার গৃহযুদ্ধ এবং এতে আমিনের পরাজিত ও নিহত হওয়ার ঘাঁটনা ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এর ফলে ইসলামের ইতিহাসে আরব প্রাধান্য তথা আরব জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি ঘটে। আব্বাসি খিলাফতে আরবি ভাষা ও তাদের ইসলাম ধর্মই কেবল বেঁচে থাকে। প্রশাসনের সর্বত্র পারসিক চিন্তা-চেতনা ও রীতি-নীতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এস এম ইমামুদ্দীন বলেন, "উমাইয়াদের ক্ষমতাচ্যুতির ফলে আরবদের ওপর পারসিকরা আংশিক বিজয়লাভ করে; কিন্তু আমিনের ওপর মামুনের প্রভুত্ব বিস্তার আরবদের ওপর তাদের সম্পূর্ণ বিজয় সূচিত করে। অন্যদিকে মামুনের এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাগদাদ শিক্ষা-সংস্কৃতির এক তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হয়। খলিফা আল মামুন কর্তৃক ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদানের জন্য 'বায়তুল হিকমা' প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রখ্যাত পণ্ডিত, 'অনুবাদক ও চিকিৎসক হুনাইন বিন ইসহাককে বায়তুল হিকমার পরিচালক পদে নিযুক্ত করে এ প্রতিষ্ঠানকে তিনটি ইউনিটে বিভক্ত করেন। যথা- গ্রন্থাগার, শিক্ষানিকেতন ও অনুবাদ বিভাগ। পারসিক, গ্রিক, হিন্দু, খ্রিষ্টান ইত্যাদি সম্প্রদায় ও জাতীয় পণ্ডিতগণ শিক্ষামূলক গবেষণা, জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা ও অনুবাদ কাজে নিযুক্ত থাকতেন। আল-মামুনের শাসনকাল ছিল আব্বাসি খিলাফতের এক গৌরবময় যুগ। শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নতির জন্য তার শাসনকালকে অগাস্টান যুগ। অপেক্ষাও অধিক উন্নত ও গৌরবময় ছিল। বিশ্বের ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে শাসনকর্তার পৃষ্ঠপোষকতায় এমন উদ্দীপনা, এমন জাগরণ আর দেখা যায় না। জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখার কারণে খলিফা আল মামুনের প্রতিষ্ঠিত বায়তুল হিকমা ইসলামের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় একটি ঘটনা। যা জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসারে তৎকালীন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। তাই বলা যায়, ভ্রাতৃযুদ্ধের ফলস্বরূপ আল মামুন বিজয়ী হলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে।