উদ্দীপকে সেতুর পঠিত আমিরের চেয়ে আমার পঠিত খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার।দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও শাসক হিসেবে খলিফা মনসুর ছিলেন সেই যুগে অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাজ্যজয় অপেক্ষা রাজ্য শাসনে খলিফা মনসুর অধিকতর প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন। শাসনকার্যাদি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে তদারক করার জন্য তিনি সাম্রাজ্যের মধ্যস্থলে তার নতুন রাজধানী বাগদাদ নগরী স্থাপন করেন। মনসুর একজন শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী নরপতি ছিলেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে আব্বাসিগণ বিশ্বখ্যাতি অর্জন করে, খলিফা মনসুরই এর গোড়াপত্তন করেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে, রাজ্য বিস্তার অপেক্ষা প্রজাসাধারণকে শিক্ষিত করাই অধিকতর প্রয়োজনীয় এবং এতদুদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি খিলাফতে বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করেন। খলিফা নিজেও বিজ্ঞান ও গণিতশাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন। তার দরবারে অনেক জ্ঞানী-গুণীজনের সমাবেশ ঘটেছিল। খলিফা তাদের সাহায্যে একটি অনুবাদ বিভাগ স্থাপন করে গ্রিক, পারসিক, সংস্কৃত প্রভৃতি ভাষায় লিখিত বহু মূল্যবান গ্রন্থ আরবি ভাষায় অনুবাদ করার ব্যবস্থা করেন। তার খিলাফতকালে আরবীয়, ভারতীয়, গ্রিক এবং ইরানি সভ্যতার সংমিশ্রণে যে একটি নতুন সভ্যতাও গড়ে ওঠে তা বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে একটি বিশিষ্ট স্থান দখল করতে সক্ষম হয়েছিল। এছাড়াও কুফা ও বসরা নগরীর প্রাচীর, বাবুল জাহাব, কাসর আল খুলদ এবং রুসাফা রাজপ্রাসাদসমূহ নির্মাণ করে তিনি তার শিল্পীসুলভ মনের পরিচয় দিয়েছেন। উল্লিখিত আলোচনা এটিই প্রমাণ করে যে উদ্দীপকের আমিরের চেয়ে খলিফা আবু জাফর আল মনসুর অধিক কৃতিত্বের দাবিদার কথাটি যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।