উদ্দীপকে উল্লিখিত শিক্ষা সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ড আব্বাসি খলিফা আল-মামুনের খিলাফতের সাথে তুলনীয়।
আব্বাসি খলিফা আল-মামুনের নির্মিত বায়তুল হিকমা ছিল আব্বাসিদের গৌরবোজ্জ্বল যুগের অন্যতম প্রতীক। জ্ঞান-বিজ্ঞানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ প্রদানের জন্য তিনি ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে এই জগদ্বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করেন। জ্ঞান বিকাশের জন্য তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রন্থাগার, শিক্ষায়তন ও অনুবাদ ব্যুরো এই তিনটি পৃথক বিভাগ স্থাপন করেন। উদ্দীপকেও আমরা এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করি ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনাব নাজিব ইব্রাহিম তাঁর শাসনামলে জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চা, গবেষণা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজধানীতে “আধুনিক শিক্ষা ও বিজ্ঞান গবেষণাগার” প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বিজ্ঞান ও সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার দরবারে বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীদের পদচারণা ছিল। অনুরূপভাবে আব্বাসি খলিফা আল-মামুন প্রাচীন গ্রন্থাবলি সংরক্ষণ ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের গবেষণার জন্য বায়তুল হিকমা বা জ্ঞানগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। গ্রিক, সংস্কৃত, পারসিক, সিরীয় প্রভৃতি ভাষায় লিখিত পুস্তকাদির অনুবাদ কার্যকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য তিনি এটি নির্মাণ করেন। এতে তিনটি বিভাগ ছিল, যথা— গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামক একজন সুপণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। এ অনুবাদক সে আমলের সর্বাপেক্ষা 'বড় পণ্ডিত ও সর্বাপেক্ষা মহান ছিলেন। তার চেষ্টায় এরিস্টটল, গ্যালিলিও, প্লেটো প্রমুখ পণ্ডিতের গ্রন্থ অনূদিত হয় ।
সুতরাং দেখা যায়, জনাব নাজিব ইব্রাহিম এবং খলিফা আল-মামুনের কর্মকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা।