উদ্দীপকের ঘটনার আলোকে আমার পঠিত আব্বাসি শাসনামলের উত্তরাধিকারী বিরোধের পরিণতি কিছুটা নেতিবাচক হলেও এর ইতিবাচক দিকও বিদ্যমান ছিল।
আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদ উত্তরাধিকারী সমস্যার ফলে সৃষ্ট গৃহযুদ্ধ এড়ানোর জন্য তার জীবদ্দশাতেই তিন পুত্রের অধীনে সাম্রাজ্যকে তিনটি অঞ্চলে ভাগ করে দেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর তার পুত্র আল আমিন এবং মামুনের মধ্যে উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। এই দ্বন্দ্ব ৮১২ খ্রিষ্টাব্দে সশস্ত্র সংঘর্ষে রূপ লাভ করে। যার অনুরূপ ঘটনা উদ্দীপকেও লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকের জনাব আজিম উদ্দিন তার বড় পুত্রকে পরবর্তী জমিদার মনোনীত করলে, তার বড় পুত্র জমিদারি লাভ করেন। কিন্তু এরপর তিনি পিতা কর্তৃক উত্তরাধিকারী মনোনয়ন চুক্তি বাতিল করে নিজেকে একমাত্র জমিদার হিসেবে ঘোষণা করলে অন্য একজন ভ্রাতার সাথে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এরূপ ঘটনা দেখা যায় আল আমিন এবং মামুনের মধ্যে। পিতার মনোনয়ন অনুযায়ী আল আমিন পরবর্তীতে খলিফা হয়ে মামুনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ফলে তাদের মধ্যে একটি সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে আল আমিন পরাজিত হয় এবং নিহত হয়। তবে এই সংঘর্ষের কিছু ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক রয়েছে। আমিন ও মামুনের মধ্যকার গৃহযুদ্ধের ফলে ইসলামের ইতিহাসে আরব প্রাধান্য তথা আরব জাতীয়তাবাদের বিলুপ্তি ঘটে। আব্বাসি খিলাফতে আরবি ভাষা ও তাদের ইসলাম ধর্মই কেবল বেঁচে থাকে। প্রশাসনের সর্বত্র পারসিক চিন্তা-চেতনা ও রীতি-নীতির প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এস এম ইমামুদ্দীন বলেন, “উমাইয়াদের ক্ষমতাচ্যুতির ফলে আরবদের ওপর পারসিকরা আংশিক বিজয়লাভ করে; কিন্তু আমিনের ওপর মামুনের প্রভুত্ব বিস্তার আরবদের ওপর তাদের সম্পূর্ণ বিজয় সূচিত করে।” অন্যদিকে মামুনের এ জয়ের মধ্য দিয়ে বাগদাদ শিক্ষা-সংস্কৃতির এক তীর্থকেন্দ্রে পরিণত হয় । পরিশেষে বলা যায়, আব্বাসীয় খলিফা আল-আমিন ও মামুনের মধ্যকার গৃহযুদ্ধের ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় পরিণতিই বিদ্যমান ছিল।