আরশ-এর কৃতিত্বের মাধ্যমে আব্বাসীয় খলিফা হারুন-অর-রশীদের কৃতিত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে ।
খলিফা হারুন-অর-রশীদ তেইশ বছর (৭৮৬-৮০৯) বাগদাদের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার সুদীর্ঘ রাজত্বকাল আরব ইতিহাসের সর্বাপেক্ষা গৌরবোজ্জ্বল যুগ। তিনি অসামান্য প্রতিভা ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে খেলাফতকে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন করেছিলেন। উদ্দীপকের আরশের মধ্যেও এর প্রতিফলন লক্ষ করা যায় 1
উদ্দীপকের শাসক আরশ ও তার রাজত্বকালে একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা করে। বৈদেশিক নীতি, অভ্যন্তরীণ নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করে তিনি সফলতা অর্জন করেন। এভাবে খলিফা হারুন-অর-রশীদ ও সিংহাসনে আরোহণ করে একের পর এক অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের সম্মুখীন হন। তিনি সাফল্যের সঙ্গে সেগুলো দমন করেন। হারুন-অর-রশীদের রাজত্বকালে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের বহু রাজা বাদশাহ তার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী হন। তিনি চীনের সম্রাট, ফ্রান্সের সম্রাট এবং বাইজান্টাইন সম্রাটের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। খলিফা হারুন বিভিন্ন প্রদেশে যোগ্য কর্মচারী নিয়োগ এবং তাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করেন। তিনি ইসলামি শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করতেন। পৃথক দিওয়ান বিভাগ; বিশেষভাবে সৈন্যবাহিনী, রাজস্ব, আয়কর, ডাক এবং প্রদেশসমূহ নিয়ে হারুন একটি সুপরিকল্পিত শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করেন । তার সময়ে বাগদাদ ঐশ্বর্যপূর্ণ ও সুষমামন্ডিত এক নগরে পরিণত হয়। খলিফার পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, সাহিত্য, চিকিৎসাবিদ্যা, সংগীত, জ্যোতির্বিদ্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানরা অসামান্য অবদান রাখেন। এ সময় বিশিষ্ট গবেষক ও ব্যক্তিবর্গের জ্ঞানচর্চায় বাগদাদ বিশ্বের অন্যতম সেরা জ্ঞান কেন্দ্রে পরিণত হয় । প্রজারঞ্জক, জনদরদি এবং মহানুভব খলিফা হিসেবেও হারুনের খ্যাতি ছিল। তিনিই সর্বপ্রথম আরব সাম্রাজ্যে হাসপাতাল নির্মাণ করেন। তার সময়ে সমগ্র রাজ্যে ৩৪টি হাসপাতাল ছিল। তিনি বার্মাকিদের ধ্বংস সাধন করে নিজের অবস্থানকে ঝুঁকিমুক্ত করেন।
পরিশেষে বলা যায়, খলিফা হারুনের সাড়ে তেইশ বছরের রাজত্বকাল এশিয়ার সারাসিনীয় শাসনের সর্বাপেক্ষা গৌরবময় যুগের সাক্ষ্য বহন করে। এ হিসেবে খলিফা হারুন-অর-রশিদকে একজন সফল ও কৃতিত্বপূর্ণ শাসক হিসেবে অভিহিত করা যায়।.