উদ্দীপকে উল্লেখিত পবন চৌধুরীর সাথে আব্বাসি বংশের অন্যতম খলিফা আল মামুনের মিল রয়েছে।
খলিফা আবদুল্লাহ আল মামুন ছিলেন আব্বাসি খলিফা হারুন-অর-রশীদের জ্যেষ্ঠ পুত্র। ৮১৩ খ্রিষ্টাব্দে ভাই আমিনের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে জয়লাভ করে তিনি আব্বাসি সিংহাসনে আরোহণ করেন। শিক্ষিত, রুচিশীল, ন্যায়বান চরিত্রের অধিকারী মামুন বাগদাদ নগরীকে সুরক্ষিত করা এবং সাম্রাজ্যের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে বিশেষ মনোযোগী হন। আর এ লক্ষ্যে ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদে গড়ে তোলেন বিশ্বখ্যাত বায়তুল হিকমা (বিজ্ঞানাগার)। এখানে বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের অনুবাদ, গবেষণাসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করা হতো, যেমনটি উদ্দীপকের পবন চৌধুরীর উদ্যোগের ক্ষেত্রেও দেখা যায়।
জমিদার পরিবারের সন্তান পবন চৌধুরী এলাকার মানুষের শিক্ষার উন্নতির জন্য একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশের বহু গ্রন্থ সংগ্রহ করে তিনি এটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন । এই গ্রন্থাগার পরিচালনায় প্রচুর টাকা খরচ করা হয়। খলিফা আল মামুনও আব্বাসি খিলাফতে শিক্ষা বিস্তারের জন্য বাগদাদে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি শিক্ষাগ্রহণের জন্য এ প্রতিষ্ঠানটিকে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহের জন্য খলিফা প্রচুর নগদ অর্থ ও লা-খারাজ সম্পত্তি দান করেন। এছাড়া তিনি বায়তুল হিকমা প্রতিষ্ঠা করে জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রসারের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন। বায়তুল হিকমা গ্রিক, রোমান, পারসিক প্রভৃতি ভাষার 'প্রাচীন ও সমকালীন গ্রন্থাবলি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণার কাজে বিশেষ অবদান রেখেছিল। সেখানে বিভিন্ন প্রাচীন পাণ্ডুলিপি অনুবাদের ব্যবস্থা করা হয়। বায়তুল হিকমায় তিনটি বিভাগ ছিল— গ্রন্থাগার, মিলনায়তন ও অনুবাদ কার্যালয়। হুনায়ন ইবনে ইসহাক নামে একজন পণ্ডিতকে এ প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত করা হয়। তার চেষ্টায় এরিস্টটল, প্লেটো, কোস্টার, গ্যালেন, ইউক্লিড, টলেমি প্রমুখ ইউরোপীয় পণ্ডিতের বিখ্যাত প্রাচীন গ্রন্থগুলো আরবি ভাষায় অনূদিত হয় । এর মাধ্যমে আরব ও বহির্বিশ্বের মধ্যে জ্ঞানের বিনিময় হয়, যা উভয়কে উপকৃত করে। কুরআন, হাদিস, তাফসির, তর্কশাস্ত্র, গণিত, রসায়ন, ভূগোল, পদার্থ, চিকিৎসা প্রভৃতি শিক্ষার প্রসারে তিনি ব্যাপক পৃষ্ঠপোষকতা করেন। এ সব দিক দিয়ে উদ্দীপকের পবন চৌধুরীর সঙ্গে আব্বাসি খলিফা আল মামুনের সাদৃশ্য রয়েছে।