উদ্দীপকের নাদির শাহের সাথে মানিক চাঁদের সংঘর্ষের মতোই হারুন-অর-রশীদ বাইজান্টাইনদের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন ।
৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে হারুন-অর-রশীদ সিংহাসনে আরোহণ করেই বাইজান্টাইনদের বিরুদ্ধাচারণের সম্মুখীন হন। পূর্ববর্তী খলিফা মাহদীর রাজত্বকালে বাইজান্টাইন সম্রাজ্ঞী আইরিনের সাথে যে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তারা তা ভঙ্গ করে। ৭৯১ খ্রিষ্টাব্দে তারা মুসলিম রাজ্য আক্রমণ করে। এ আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য খলিফা হারুনও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। উদ্দীপকেও এমনটি দেখা যায় ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, পার্শ্ববর্তী শক্তিধর রাজ্যের শাসক মানিক চাঁদ একবার নাদির শাহের রাজ্য আক্রমণ করেন । নাদির শাহ এ আক্রমণের এমন দাঁতভাঙা জবাব দেন যে, মানিক চাঁন তার আনুগত্য স্বীকার করে কর প্রদানে বাধ্য হন । খলিফা হারুন-অর-রশীদও আইরিনকে এমনভাবে আক্রমণ করেন যে আইরিন অবশেষে কর প্রদানে সম্মত হয়ে চার বছরের জন্য শান্তিচুক্তি সম্পাদন করেন। তবে আইরিনকে ক্ষমতাচ্যুত করে নাইসিফোরাস ক্ষমতা দখল করে মুসলিমদের সাথে করা পূর্বের সন্ধি ভঙ্গ করেন। তিনি ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা হারুনকে এক অপমানজনক পত্র লিখে সম্রাজ্ঞী আইরিন কর্তৃক প্রদত্ত, কর ফেরত পাঠাবার দাবি জানান। এ পত্র পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ৮০৩ খ্রিষ্টাব্দে খলিফা রোমান সম্রাটকে আক্রমণ করেন । রোমান সম্রাট শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে সন্ধি স্বাক্ষর করেন।
উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায়, উদ্দীপকের নাদির শাহের মতো হারুন-অর-রশীদও পার্শ্ববর্তী শাসকের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিলেন।