উদ্দীপকের রাজার সাথে আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুর কর্তৃক সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানির প্রতি বিরূপ আচরণের দিকটি ফুটে উঠেছে ।
বিশ্বের ইতিহাসে এমন অনেক সেনাপতি সম্পর্কে জানা যায়, যাদের দক্ষতা,যোগ্যতা ও উচ্চাভিলাষের বলে অনেক রাজবংশের জন্ম হয়েছে। অনেক সময় তারা নিজে ক্ষমতা না নিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। আবার এসব সেনাপতির অনেকেই পদচ্যুতি, এমনকি নিৰ্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানি এরূপ করুণ পরিণতির শিকার হয়েছিলেন । উদ্দীপকেও এরূপ ঘটনা দেখা যায় ।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, রাজা ফিউডাল খুবই ধার্মিক হলেও রাজনৈতিক স্বার্থের বিষয়ে খুব নৃশংস ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে ভেবে তিনি তার প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করেন। শুধু তাই নয়, প্রধান সেনাপতিকে হত্যার ফলে তার সমর্থকরা বিদ্রোহ করায় রাজা ফিউডাল তাদেরও কঠোর হাতে দমন করেন। একইভাবে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরও ছিলেন ধার্মিক মুসলিম। তবে শাসক হিসেবে তিনি ছিলেন নিষ্ঠুর ও বিশ্বাসঘাতক। আব্বাসি আন্দোলনের প্রধান সেনাপতি আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তাকে আল মনসুর নিজ বংশের জন্য হুমকি মনে করতেন। তাই তিনি আবু মুসলিমকে কৌশলে রাজদরবারে ডেকে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করেন । সৈয়দ আমীর আলীর ভাষায়, 'আবু মুসলিম যতদিন জীবিত ছিলেন আল মনসুর ততদিন নিজেকে নিরাপদ ভাবেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি এখন নিজেকে প্রকৃত রাষ্ট্রপ্রধান মনে করতে লাগলেন।' ৭৫৫ খ্রিষ্টাব্দে সানবাদের নেতৃত্বে পারসিকরা আবু মুসলিম খোরাসানিকে নির্মমভাবে হত্যার প্রতিবাদে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। আল মনসুর তার বিশাল সেনাবাহিনী পাঠিয়ে সে বিদ্রোহ দমন করেন । উদ্দীপকে এর অনুরূপ এক ঘটনাই বর্ণিত হয়েছে ।