খলিফা আল মনসুর নানা দূরদর্শী পদক্ষেপ গ্রহণ করে সাম্রাজ্যকে একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন, যা উদ্দীপকে বর্ণিত সাদ্দাম হোসেনের চেয়ে অধিক বিচক্ষণতার পরিচায়ক।
খলিফা আল মনসুর ৭৫৪ খ্রিষ্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করে আব্বাসি আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ নেতা আব্দুল্লাহ এবং আবু মুসলিম খোরাসানিকে হত্যা করেন। তিনি খারেজি ও আলি (রা)-এর সমর্থকদের বিদ্রোহসহ অন্যান্য বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে রাজ্য বিস্তারে মনোনিবেশ করেন। আল মনসুরের সময় তাবারিস্তান, গিলান, এশিয়া মাইনর ও আফ্রিকার বিশাল অঞ্চলে আব্বাসি শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ তিনি আব্বাসি খিলাফতকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সাম্রাজ্য বিস্তার করেন। কিন্তু সাদ্দাম হোসেনের ক্ষেত্রে সঙ্গত কারণেই রাজ্য বিস্তারের দিকটি অনুপস্থিত।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দেন। তিনি অনেক কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরাকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন। এসব বিষয় খলিফা আল মনসুরের গৃহীত পদক্ষেপেও রয়েছে। তবে আব্বাসি খলিফা আল মনসুর এক্ষেত্রে আরও বাস্তবধর্মী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন তিনি অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ ও বিরোধিতার মূলোৎপাটন করে তার বংশকে শত্রুমুক্ত করেন । প্রশাসনিক কাঠামোকে সুবিন্যস্ত ও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তিনি ৭৬২ খ্রিষ্টাব্দে দামেস্ক থেকে বাগদাদে রাজধানী স্থানান্তর করেন। সামরিক শক্তিই সাম্রাজ্যের মূলভিত্তি— এ ধারণাকে নীতি হিসেবে গ্রহণ করে আল মনসুর একটি প্রশিক্ষিত ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন করেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের বিশ্বাস সুন্নি মতাদর্শকে তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেন। এছাড়া জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে আল মনসুর উদার ছিলেন। তার রাজত্বকালে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ সাধিত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিকাজের উন্নয়নে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বহু নগর, সরাইখানা, রাজপথ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। এভাবে আব্বাসি শাসনামলে মুসলিম সভ্যতার যে অপূর্ব বিকাশ ঘটেছিল, আল মনসুর তার শুভসূচনা করেন ।
উপরের আলোচনায় প্রমাণিত হয়, খলিফা আল মনসুর ঠাণ্ডা মাথায় তার সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমন করেছিলেন। এর ফলেই আব্বাসি শাসন প্ৰায় ৫০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল। আল মনসুর আধুনিক ইরাকের নেতা সাদ্দাম হোসেনের মতো এত অস্থিরচিত্ত ছিলেন না। সুতরাং বলা যেতে পারে, দীর্ঘমেয়াদি শাসন কায়েমের বিষয়ে সাদ্দামের চেয়ে আল মনসুর অনেক বেশি দূরদর্শী ছিলেন।