উক্ত বংশ অর্থাৎ বুয়াইয়া বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক আজদুদ্দৌলা সাম্রাজ্য পরিচালনায় ব্যাপক কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন ।
বুয়াইয়া বংশের নয়জন আমির-উল-উমারার মধ্যে আজদুদ্দৌলাহ ছিলেন শ্রেষ্ঠ। তার সময়েই বুয়াইয়ার শক্তি সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত হয়। আজদুদ্দৌলা শুধু বুয়াইয়াদের মধ্যেই শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন না; বরং সেই সময়ের বিখ্যাত শাসক ছিলেন ।
আজউদ্দৌলার পূর্ববর্তী আমিররা শুধু 'সুলতান' উপাধি গ্রহণ করে সন্তুষ্ট থাকলেও তিনি সর্বপ্রথম 'সুলতান যিনি 'সুলতান ও 'শাহানশাহ' উভয়ই উপাধি গ্রহণ করেন । ক্ষমতালিপ্সু সুলতান আজদুদ্দৌলা খিলাফত, মনি-মুক্তা খচিত মুকুট, রাষ্ট্রীয় পতাকা, তরবারি, ব্রেসলেট প্রভৃতি তাকে প্রদানের জন্য খলিফাকে বাধ্য করেন। তিনি শুক্লবারের খুতবাতে আজদুদ্দৌলাহ নাম পাঠের আদেশ দেন । তিনি স্বার্থপর ও ক্ষমতালোভী হলেও প্রজারঞ্জক শাসক ছিলেন। তিনি বহু মসজিদ, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট নির্মাণ ও খাল খনন করেন। তিনি ইরাকের সেচব্যবস্থার সংস্কার সাধন করেন। জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রেও তিনি যথেষ্ট উদার ছিলেন। তার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল চিকিৎসা শাস্ত্রে। বাগদাদের সর্বশ্রেষ্ঠ হাসপাতাল 'আল-বিমারিস্তান আল-আজুদি' তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন। এ সময়ের কয়েকজন পণ্ডিত ও জ্ঞানী, গুণী হলেন— আবু ফরিসী, ঐতিহাসিক আবুল হাসান আল-মাসুদি। আল-ফারাবি প্রমুখ। আজদুদ্দৌলা স্থাপত্য শিল্পেরও একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। হযরত আলি (রা) এর কবরস্থান বলে কথিত নাজাফে তিনি একটি অপূর্ব সমাধিসৌধ নির্মাণ করেন। তার খ্রিষ্টান উজির নসর ইবন হারুন রাজ্যে অনেক দৃষ্টিনন্দন গির্জা ও মঠ নির্মাণ করেন।
উপরের আলোচনা শেষে বলা যায়, বুয়াইয়া সুলতান আজদুদ্দৌলা সাম্রাজ্যের উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ অবদান রাখেন । এ জন্যই তিনি তার বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ।