আবু জাফর আল-মনসুর রাজ্যের ভিত্তি সুসংহত করার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যের শান্তি-সমৃদ্ধি আনেন। এজন্য তাকে আব্বাসি বংশের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা বলা হয় ।
আবুল আব্বাস আস-সাফ্ফাহ শুধু আব্বাসি বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন। রাজ্যবিস্তার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তার ভাই আবু জাফর আল-মনসুর এ বংশের ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন।
দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাজনীতিবিদ ও শাসক হিসেবে খলিফা আল মনসুর ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তার অক্লান্ত চেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আব্বাসি খিলাফতের গৌরবের পটভূমি রচিত হয়েছিল । সানবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া বিদ্রোহ, খোরাসান ও তাবারিস্তানের বিদ্রোহ, হিরাতের শাসন বিদ্রোহ, বার্বার এবং খারিজিদের বিপ্লব দমন করে তিনি যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তিনি শুধু অভ্যন্তরীণ বিপদাপদ থেকে সাম্রাজ্যকে রক্ষা করেননি, সাম্রাজ্য সম্প্রসারণ ও এর সংহতি বিধান করেছিলেন। একজন প্রজারঞ্জক শাসক হিসেবে তিনি সাম্রাজ্যের বহু নগর, সরাইখানা, সড়ক ও চিকিৎসালয় নির্মাণ করেন। ব্যবসা, বাণিজ্য ও কৃষি কাজের জন্যও তিনি নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব উদ্যোগ সাম্রাজ্যের জনগণের সমৃদ্ধি করে। জ্ঞানবিজ্ঞানের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক হিসেবেও তার সুখ্যাতি ছিল। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতির লক্ষ্যে তিনি বহু স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ নির্মাণ করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় উৎকর্ষ সাধিত হয়েছিল । তার আমলে গণিতশাস্ত্রের উৎকর্ষ ব্যাপক বৃদ্ধি পায়। তার আমলে সংস্কৃত ভাষায় লিখিত জাতীয় জ্যোতির্বিদ্যার প্রভাবে সর্বপ্রথম আরব জ্যোতিষশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ প্রণীত হতে থাকে । এছাড়া তিনি পারস্য স্থাপত্যের প্রভাবে আব্বাসি স্থাপত্যশিল্পের উন্মেষ ঘটান। ৭৬২- ৭৬৪ খ্রিষ্টাব্দে ৪৮,৮৩,০০০ দিরহাম ব্যয়ে সুরম্য বাগদাদ নগরী নির্মাণ তার অবিস্মরণীয় কীর্তি। তিনি কাসর-আল-খুলদ এবং রাজকুমার মাহদির জন্য রুসাফা নামে আরো দুটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং রাক্কায় একটি রাজপ্রাসাদ ও মসজিদ নির্মাণ করেন ।
উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, আব্বাসি খলিফা আল-মনসুর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন যুগশ্রেষ্ঠ শাসক। সর্বশ্রেষ্ঠ নৃপতি বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত ।