খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসনকাল ছিল আব্বাসীয় খিলাফতের স্বর্ণযুগ।
খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসনামলকে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ দমন, বৈদেশিক নীতির সঠিক বাস্তবায়ন, বার্মাকিদের ধ্বংস সাধন, শাসন ব্যবস্থার সংস্কার সাধন, বাগদাদের প্রাচুর্য বৃদ্ধি, শিক্ষা-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা প্রভৃতি কারণে স্বর্ণযুগ বলা হয় ।
খলিফা আল-হাদীর মৃত্যুর পর ৭৮৬ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদের সিংহাসনে খলিফা হারুন-অর-রশীদ আসীন হন। তিনি সাড়ে তেইশ বছর আব্বাসীয় রাজবংশের খলিফা ছিলেন। তিনি অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ মুসলমান ছিলেন। ন্যায়বিচার ও দানশীলতার জন্য তিনি জগদ্বিখ্যাত ছিলেন। এ শাসকের শাসনকালে খারেজি বিদ্রোহ দমন, মুদারীয় ও হিমারীয় বিদ্রোহ দমন, মসুলসহ বিভিন্ন বিদ্রোহ দমনের মাধ্যমে আব্বাসীয় খিলাফতে শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হয়। খলিফা হারুন-অর-রশীদ চীনের সম্রাট ফাগফুর, ফ্রান্সের সম্রাট শার্লিম্যান, বাইজান্টাইন সম্রাট আইরিন জাই।স ফোরাসের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন। ফলে আব্বাসীয় শাসকদের কর্তৃত্ব বিশ্বময় হয়ে ওঠে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, সাহিত্য, চিকিৎসাবিদ্যা, সংগীত, জ্যোতিবিদ্যা প্রভৃতি ক্ষেত্রে মুসলমানগণ অসামান্য অবদান রেখে যেতে সক্ষম হয় । এই সময় বৈয়াকরন আসমাই, চিকিৎসক জিব্রিল, অনুবাদক হাজ্জাজ, ঐতিহাসিক ওয়াকিদি, কবি আবু নোয়াস, পণ্ডিত আব্দুল্লাহ, ঈসা প্রমুখের জ্ঞান চর্চায় বাগদাদ বিশ্বের জ্ঞানসমুদ্রে পরিণত হয় ।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, খলিফা হারুন-অর-রশীদের শাসনকাল শান্তি, সংহতি, ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যে ভরে উঠে। আর এসব কারণে যৌক্তিকভাবেই খলিফা হারুন-অর-রশিদকে আব্বাসি বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক বলা হয়। শুধু তাই নয় তার শাসনামল ইতিহাসে স্বর্ণযুগ হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।