রুশ দেশের রাজার মতো খলিফা আল মনসুরও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্বারা মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। নিম্নে তা বিশ্লেষণ করা হলো: উদ্দীপকে আল মনসুরের রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ দমনের বিষয়টি ইঙ্গিত করা হয়েছে। খলিফা অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রাওয়ান্দিয়াদের দমন করে সাম্রাজ্যকে একটি সূদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত করে। আব্বাসি খলিফা আল মনসুর তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দ্বারা আব্বাসী শাসনকে সূদৃঢ়করণের লক্ষ্যে বিভিন্ন বিদ্রোহ-গোলযোগ দমনের জন্য বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। খিলাফত লাভের পরপরই তার চাচা ও সিরিয়ার শাসনকর্তা আব্দুল বিন আলীর বিদ্রোহ দমন করেন। কারণ আবুল আব্বাস তাকে পরবর্তী খলিফা বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এরপর আবু মুসলিম খোরাসানির অধিক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পরিকল্পনা করে তাকেও হত্যা করেন। কারণ আবু মুসলিমের জীবদ্দশায় মনসুর নিজেকে সিংহাসনে নিরাপদ মনে করেননি। এরপর তিনি পর্যায়ক্রমে সানবাদের বিদ্রোহ, রাওয়ান্দিয়া সম্প্রদায়ের বিদ্রোহ ও খোরাসানের বিদ্রোহ দমন করেন। বিদ্রোহনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রকাশ পায় এবং দেশ মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায়। সুতরাং বলা যায় যে, আল মনসুর তার অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য সাহস, দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক প্রজ্ঞার বলে সকল বিদ্রোহ দমনের মাধ্যমে নব প্রতিষ্ঠিত আব্বাসী সাম্রাজ্যের ভিত মজবুত করেন।