চেঙ্গিস খানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে আব্বাসীয় খলিফা আবু আব্বাস আস-সাফফাহর চরিত্রের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের চেঙ্গিস খান নিষ্ঠুর ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সন্দেহের বশবর্তী হয়ে অনেক কাছের মানুষকে হত্যা করেন। চেঙ্গিস খানের সাথে আব্দুল আব্বাসের চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে। খিলাফতে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আস-সাফফাহর, প্রধান লক্ষ্য ছিল উমাইয়া বংশীয়দের ধ্বংস সাধন করা। তিনি ৭৫০ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জুন ফিলিস্তিনের আবু ফুটস-এ ৮০ জন উমাইয়া বংশের লোককে আমন্ত্রণ জানিয়ে সবাইকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে উমাইয়াদের প্রতি সহমর্মিতার ভাব পরিলক্ষিত হয় এবং ক্ষমতাচ্যুত উমাইয়া রাজবংশের পক্ষাবলম্বীগণ দামেস্কে, হিমস, কিন্নিসিরিন, ফিলিস্তিন এবং মেসোপটেমিয়ায় সাফফাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। আব্বাসি বংশের প্রথম শাসক আবুল আব্বাস আস-সাফফাহর চরিত্র ছিল নিষ্ঠুরতা ও নৃশংস এবং সচ্চরিত্রের সংমিশ্রণ। আবুল আব্বাস শুধুমাত্র নিষ্ঠুরই ছিলেন না, অঙ্গীকারের বরখেলাপকারী এমনকি বিশ্বাসঘাতকও ছিলেন। ঐতিহাসিক উইল-এর এ মন্তব্যকে অস্বীকার না করেই বলা যায় মধ্যযুগীয় রাজাদের এরূপ চরিত্র অস্বাভাবিক ছিল না। শেষোক্ত ঐতিহাসিক বলেন, "মধ্যযুগীয় রাজাদের নিকট নরহত্যা আদৌ ন্যক্কারজনক বলে বিবেচিত হতো না।” সৈয়দ আমীর আলী বলেন, "সকল নিষ্ঠুরতা সত্ত্বেও সাফফাহকে সদাশয়, কর্তব্যপরায়ণ এবং ভোগাসক্তিবিহীন নরপতি বলে মনে করা হতো। সে যুগেও সমাজে একাধিক বার পরিগ্রহ করার প্রথা বিদ্যমান থাকলেও আস-সাফফাহর সালমা নামক একজন মাত্র স্ত্রী ছিল। প্রজাদরদি, বিদ্যোৎসাহী, কর্তব্যপরায়ণ ও চরিত্রবান হিসেবেও তিনি খ্যাতির শীর্ষে ছিলেন। তিনি জ্ঞানী-গুণী ও কবি-সাহিত্যিকদের সমাদর করতেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের চেঙ্গিস খানের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সাথে আবুল আব্বাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ।