উদ্দীপকের রাজা ফিউডালের ন্যায় খলিফা আল-মনসুর সেনাপতি আবু মুসলিমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত রোমান রাজা ফিউডালের সেনাপতির সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা রাজার ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে ভেবে রাজা কৌশলে তাকে হত্যা করেন। অনুরূপ ঘটনা আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল-মনসুরের ক্ষেত্রেও পরিলক্ষিত হয়। আবু মুসলিম, একজন বিখ্যাত কূটনীতিবিদ, সংগঠক, রণকৌশলী এবং জনপ্রিয় সেনাপতি ছিলেন। তিনি নিজ মেধা ও সাংগঠনিক শক্তিতে আব্বাসি রাজবংশকে প্রতিষ্ঠিত করতে প্রভৃত ভূমিকা ভূমিকা রেখেছিলেন। করে মুসলিমের জনপ্রিয়তা আবু জাফর নিজের জন্য বিপজ্জনক মরে প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা ইত্যাদি কারণে আবু জাফর তাকে বশে রাখা চ্যালেঞ্জ মনে করে হত্যা করার কৌশল গ্রহণ করেন। আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তার ঘাঁটি খোরাসান থেকে তাকে দূরে রাখার জন্য মিশর কিংবা সিরিয়ার গভর্নর হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। আবু মুসলিম খোরাসানের গভর্নর হিসেবে বহাল থাকার পক্ষে মত প্রকাশ করেন। পরিস্থিতি প্রতিকল হওয়ায় আবু মুসলিমকে খলিফার সাথে সাক্ষাতের জন্য রাজদরবারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমদিনে আবু মুসলিমকে রাজকীয় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরের দিন তার বিরুদ্ধে কতকগুলো অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো- ১. হজ উপলক্ষে মক্কায় গমনের পথে মনসুরের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনে স্বার্থতা, ২. খোরাসানের গভর্নর হিসেবে বহাল থাকার ইচ্ছা, ৩. দাম হয়েও নিজেকে আব্বাসি বংশোদ্ভূত হিসেবে দাবি করা ও ৪ হাব্বাসিদের বিশ্বস্ত কর্মী ইবনে কাথিরকে হত্যা করা। অতঃপর ৭৫৫ খ্রি. আবু মুসলিমকে তরবারির আঘাতে হত্যা করা হয়।