উদ্দীপকের ঘটনার সাথে আব্বাসি খলিফা আবু জাফর আল মনসুরের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিশ্বের ইতিহাসে এমন অনেক সেনাপতি সম্পর্কে জানা যায়, যাদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও উচ্চাভিলাষের বলে অনেক রাজবংশের জন্ম হয়েছে। অনেক সময় তারা নিজেরা ক্ষমতা না নিয়ে অন্য কাউকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন । আবার এসব সেনাপতির অনেকেই পদচ্যুতি, এমনকি নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। আব্বাসি খিলাফত প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালনকারী সেনাপতি আবু মুসলিম খোরাসানি এরূপ করূণ পরিণতির শিকার হয়েছিলেন; যেমনটি উদ্দীপকের ঘটনায়ও দেখা যায়।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, সেনাপতি ফুয়াদ পাশা অটোমান সুলতান আব্দুল হামিদের ক্ষমতারোহণের পশ্চাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছিলেন। কিন্তু ফুয়াদ পাশার সাহসিকতা, জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা সুলতানের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ালে সুলতান কৌশলে তাকে হত্যা করেন । একইভাবে আব্বাসি খলিফা আল মনসুরও তার প্রধান সেনাপতিকে হত্যা করেছিলেন। আব্বাসি আন্দোলনের প্রধান সেনাপতি আবু মুসলিম যতদিন জীবিত ছিলেন আল মনসুর ততদিন নিজেকে নিরাপদ ভাবেননি আবু মুসলিমের জনপ্রিয়তাকে আল মনসুর নিজ বংশের জন্য হুমকি মনে করতেন। তাই তিনি আবু মুসলিমকে কৌশলে রাজদরবারে ডেকে এনে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। উদ্দীপকের ঘটনার সাথে খলিফা আল মনসুরের এ নিষ্ঠুর কাজেরই মিল রয়েছে ।