হ্যাঁ, উদ্দীপকের অথৈদের সমাজের মানুষের ধর্মচিন্তা প্রাচীন মিশরীয়দের ধর্মচিন্তার অনুরূপ ছিল।
উদ্দীপকের অথৈদের সমাজের মানুষ কঠিনভাবে ধর্মকর্মে বিশ্বাসী। মৃত্যুর পরে যে জীবন আছে এবং সে জীবনে বেঁচে থাকা বা সুখ-শান্তিতে কাটানোর জন্য মৃতদেহের সাথে সমাধিতে তারা রসদাদি-এমনকি ব্যবহার্য জিনিসপত্রও দিয়ে দিত। যা মিশরীয় সভ্যতার ধর্ম চিন্তার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রাচীন মিশরীয়দের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেও ধর্মের প্রভাব ছিল অপরিসীম। শুধু ধর্মীয় শাসন বা পুরোহিততন্ত্রেই নয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও ধর্মের অনুশাসনের প্রতিফলন পরিদৃষ্ট হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রাচীন জাতিগুলোর মধ্যে মিশরীয়রাই সর্বপ্রথম ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রচলন করেন। তারা পরকালের জীবনে বিশ্বাসী ছিল। মিশরীয়দের প্রধান দেবতার নাম ছিল 'আমন-রে'। নীলনদের দেবতার নাম ছিল ওসিরিস। তাদের ধর্মীয় জীবনে 'বা' (আত্মা) এবং 'কা' (কায়া)-এর প্রভাব ছিল সর্বাধিক। তারা মনে করত মৃত্যুর পর 'বা' পুনরায় তারই 'কা'তে আশ্রয় গ্রহণ করে। এভাবে তারা আত্মার অবিনশ্বরতা ও পরজন্মে বিশ্বাসী ছিল। দেহ ছাড়া আত্মা ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভে বঞ্চিত হতে পারে, এ কারণে তারা দেহকে সংরক্ষণ করার জন্য বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে সুগন্ধী দ্রব্য ও রাসায়নিক পদার্থ দ্বারা মৃতদেহকে মমিতে প্রস্তুত করত। মমিকে যুগ পরম্পরায় অক্ষত রাখার জন্য নির্মিত হয় সমাধি স্তম্ভ পিরামিড। পুনর্জন্মে গভীর বিশ্বাসের জন্য তারা মৃতদেহের সাথে নানাবিধ খাদ্যদ্রব্য কবরের পাশে রেখে দিত। তারা আরও বিশ্বাস করত যে মৃত্যুর পর অসিরিস নামক বিচারকের সম্মুখীন হয়ে জীবনের হিসাব-নিকাশ দিতে হবে। যারা সৎ ও ধর্মভীরু তাদের পুরস্কারস্বরূপ 'স্বর্গে' এবং পাপীদের 'নরকে' পাঠানো হবে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের অথৈদের সমাজের মতো মিশরীয় সমাজের মানুষ গভীরভাবে ধর্মচিন্তা দ্বারা প্রভাবিত ছিল।