উমর ফারুক বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর উমর ফারুক অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১৫০

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

গভীর রাত, দূরের একটি গ্রাম থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছেন রহমান সাহেব। সেদিন তাঁর সঙ্গে দুটি আড়ত সামগ্রী ছিল, ফলে চলাফেরায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। নীরব রাত, চারদিকে কেবল ঝিঁঝি পোকার শব্দ- আর কিছুই নেই। এমন সময় তিনি- দূর থেকে মৃদু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। কান পেতে দেখলেন, শব্দটি পাশের বাড়ি থেকে আসছে। রহমান সাহেব দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখলেন, বাড়ির কাজের মহিলা কান্না করছেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন- তার ছেলের পরীক্ষা সামনে, কিন্তু পরীক্ষার ফি দেওয়ার টাকা নেই। সহানুভূতিশীল রহমান সাহেব বিনীতভাবে ফি-এর টাকা দিয়ে চলে গেলেন।
ক
'চীর' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'চীর' শব্দের অর্থ 'ছিন্ন বস্ত্র'।
খ
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি- চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

"অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি"- কথাটি দ্বারা উমর (রা.)-এর অনাড়ম্বর জীবনযাপনের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। এজন্য তাঁর সিংহাসন ছিল ধুলোর অর্থাৎ সিংহাসন তিনি ব্যবহার করেননি। ধুলোয় বসেই তিনি, জনসাধারণের মতো থেকেছেন, রাষ্ট্র শাসন করেছেন। কবি হজরত উমর (রা.)-এর এমন উদারতা ও অনাড়ম্বরতাকে আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার কোন বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর চরিত্রের বহুমাত্রিক দিক উন্মোচন করেছেন। তার একটি হলো প্রজাবাৎসল্য। প্রজার কল্যাণে তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করে গভীর রাতে পৌঁছে দিয়েছেন অভাবী-দুঃখীর ঘরে। রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে তিনি কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। পাশের বাড়ি থেকেই কান্নার শব্দ আসছিল। তিনি সেখানে গিয়ে বিনীতভাবে তাদের সমস্যা জানতে চাইলে গৃহিণী জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষা। অথচ সেই পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। সালাম সাহেব গৃহিণীর হাতে পরীক্ষার ফি দিয়ে নিঃশব্দে চলে এলেন। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। মানুষের দুঃখ মোচন করাই ছিল তাঁর একমাত্র কাজ। এক রাতে এক দুঃখী মাকে উনুনে শূন্য হাঁড়ি চাপিয়ে কাঁদতে দেখে বায়তুলমাল থেকে খাদ্য বহন করে তিনি দিয়ে এসেছেন। এভাবে উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।" - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

"উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। খলিফা উমর (রা)-এর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য উমর ফারুককে কবি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে কবিতায় উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি পাশের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। ওই বাড়ির কাজের মহিলা জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। ফলে তার ছেলের পরীক্ষা দেওয়া হবে না। এ কথা শুনে রহমান সাহেব তাকে পরীক্ষার ফি দিয়ে চলে এলেন। এই ঘটনায় সাহেবের মানবতাবাদী মনোভাবের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুকের মহানুভবতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। তিনি ঐশ্বর্যের প্রতি বিমুখ ছিলেন। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর শাসনতন্ত্রের মূলমন্ত্র। যেমন- তিনি একবার তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে জেরুজালেম যাচ্ছিলেন। মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি যতটা সময় উটে চড়েছেন, তাঁর ভৃত্যকেও ততটা সময় চড়ার সুযোগ দিয়ে নিজে পায়ে হেঁটেছেন। বায়তুলমাল থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজ কাঁধে করে দুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। এ দিক থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

গভীর রাত, দূরের একটি গ্রাম থেকে নিজের বাড়িতে ফিরছেন রহমান সাহেব। সেদিন তাঁর সঙ্গে দুটি আড়ত সামগ্রী ছিল, ফলে চলাফেরায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। নীরব রাত, চারদিকে কেবল ঝিঁঝি পোকার শব্দ- আর কিছুই নেই। এমন সময় তিনি- দূর থেকে মৃদু কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। কান পেতে দেখলেন, শব্দটি পাশের বাড়ি থেকে আসছে। রহমান সাহেব দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখলেন, বাড়ির কাজের মহিলা কান্না করছেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি জানালেন- তার ছেলের পরীক্ষা সামনে, কিন্তু পরীক্ষার ফি দেওয়ার টাকা নেই। সহানুভূতিশীল রহমান সাহেব বিনীতভাবে ফি-এর টাকা দিয়ে চলে গেলেন।
ক
'চীর' শব্দের অর্থ কী?

উত্তর

'চীর' শব্দের অর্থ 'ছিন্ন বস্ত্র'।
খ
অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি- চরণটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

"অর্ধ পৃথিবী করেছ শাসন ধুলার তখতে বসি"- কথাটি দ্বারা উমর (রা.)-এর অনাড়ম্বর জীবনযাপনের বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন মহৎ ব্যক্তিত্ব। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হয়েও তিনি অতি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। এজন্য তাঁর সিংহাসন ছিল ধুলোর অর্থাৎ সিংহাসন তিনি ব্যবহার করেননি। ধুলোয় বসেই তিনি, জনসাধারণের মতো থেকেছেন, রাষ্ট্র শাসন করেছেন। কবি হজরত উমর (রা.)-এর এমন উদারতা ও অনাড়ম্বরতাকে আলোচ্য পঙ্ক্তি দ্বারা প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'উমর ফারুক' কবিতার কোন বিষয়ের সাথে সংগতিপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.)-এর চরিত্রের বহুমাত্রিক দিক উন্মোচন করেছেন। তার একটি হলো প্রজাবাৎসল্য। প্রজার কল্যাণে তিনি নিজের কাঁধে আটার বস্তা বহন করে গভীর রাতে পৌঁছে দিয়েছেন অভাবী-দুঃখীর ঘরে। রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে তিনি কান্নার শব্দ শুনতে পেলেন। পাশের বাড়ি থেকেই কান্নার শব্দ আসছিল। তিনি সেখানে গিয়ে বিনীতভাবে তাদের সমস্যা জানতে চাইলে গৃহিণী জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষা। অথচ সেই পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। সালাম সাহেব গৃহিণীর হাতে পরীক্ষার ফি দিয়ে নিঃশব্দে চলে এলেন। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর ফারুক (রা) ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। মানুষের দুঃখ মোচন করাই ছিল তাঁর একমাত্র কাজ। এক রাতে এক দুঃখী মাকে উনুনে শূন্য হাঁড়ি চাপিয়ে কাঁদতে দেখে বায়তুলমাল থেকে খাদ্য বহন করে তিনি দিয়ে এসেছেন। এভাবে উদ্দীপকের রহমান সাহেবের অন্য বাড়ির কাজের মহিলাকে সাহায্য করার সঙ্গে 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুক (রা)-এর দুঃখিনী মাকে সাহায্য করার সাথে সংগতিপূর্ণ।
ঘ
"উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।" - উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

"উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর (রা)-এর জীবনাদর্শ, চরিত্র মাহাত্ম্য, মানবিকতা এবং সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সুন্দরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। খলিফা উমর (রা)-এর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা ও সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। মহৎপ্রাণ ও আদর্শ মানব চরিত্র অর্জনের জন্য উমর ফারুককে কবি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে কবিতায় উপস্থাপন করেছেন। উদ্দীপকের রহমান সাহেব একজন অবস্থাপন্ন মানুষ। এক রাতে বাড়ি ফেরার সময় তিনি পাশের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলেন। সেখানে গিয়ে তিনি কান্নার কারণ জানতে চাইলেন। ওই বাড়ির কাজের মহিলা জানালেন যে, তার ছেলের পরীক্ষার ফি দেওয়ার সামর্থ্য তার নেই। ফলে তার ছেলের পরীক্ষা দেওয়া হবে না। এ কথা শুনে রহমান সাহেব তাকে পরীক্ষার ফি দিয়ে চলে এলেন। এই ঘটনায় সাহেবের মানবতাবাদী মনোভাবের পরিচয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যা কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমর ফারুকের মহানুভবতা প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শাসক। তিনি ঐশ্বর্যের প্রতি বিমুখ ছিলেন। মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর শাসনতন্ত্রের মূলমন্ত্র। যেমন- তিনি একবার তাঁর ভৃত্যকে নিয়ে জেরুজালেম যাচ্ছিলেন। মরুভূমি পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি যতটা সময় উটে চড়েছেন, তাঁর ভৃত্যকেও ততটা সময় চড়ার সুযোগ দিয়ে নিজে পায়ে হেঁটেছেন। বায়তুলমাল থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য নিজ কাঁধে করে দুঃখী মানুষের ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন। এ দিক থেকে বলা যায় যে, উদ্দীপকে 'উমর ফারুক' কবিতার আংশিক ভাবের প্রতিফলন ঘটেছে।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আসাদুজ্জামান সাহেব অফিস থেকে ফেরার পথে দেখলেন একজন বৃদ্ধ ঠেলাগাড়ি চালক রাস্তার চড়াই দিয়ে একা গাড়ি উঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আসাদুজ্জামান দ্রুত চালকের সাথে, ধাক্কা দিয়ে ঠেলাগাড়িটি রাস্তায় উঠাতে সাহায্য করলেন। বাড়ি ফিরে দেখলেন, তার ছোটো ভাই কামরান সামান্য কারণে গৃহপরিচারকের সাথে দুর্ব্যবহার করছে। গৃহপরিচারক অভিযোগ করে, তাকে কামরান প্রায়ই মারধর করে। শুনে আসাদুজ্জামান ভাইকে তিরস্কার করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।

Dinajpur · 2026

ক
উমর ফারুক কাকে সিপাহসালার থেকে মামুলি সেনা করেছিলেন?

উত্তর

উমর ফারুক মহাবীর খালিদকে সিপাহসালার থেকে মামুলি সেনা করেছিলেন।
খ
"পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে"- চরণটিতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

“পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে” বলতে খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বোঝানো হয়েছে। অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
গ
উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদ চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের নানা গুণের কথা কবি তুলে ধরেছেন। উমর ফারুকের অজস্র গুণের মধ্যে অন্যতম গুণ হলো ন্যায়পরায়ণতা ও সাহসিকতা। যে-ই অন্যায় করুক না কেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেন। উদ্দীপকের কামরান আসাদুজ্জামানের ভাই। আসাদুজ্জামান সৎ লোক হলেও কামরান একজন হীন আচরণের মানুষ। সে তার গৃহপরিচারকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি মারধরও করে। আসাদুজ্জামান এটি জানার পর তাকে সাবধান করে দেন। উদ্দীপকের কামরানের এই ঘটনাটি 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মহাবীর খালিদকে মানুষ একসময় এমন এক উচ্চাসনে নিয়ে যায় যাতে মনে হয় মানুষ বুঝি তাকে আরাধনা করতে শুরু করে। এটি উমর (রা.) লক্ষ করে মহাবীর খালিদকে তিনি শাস্তিস্বরূপ সিপাহসালার থেকে একজন মামুলি সৈনিকে পরিণত করেন। খালিদের আচরণ এবং তার সঙ্গে হওয়া বিচার প্রক্রিয়াটি উদ্দীপকের কামরানের আচরণ ও তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার শামিল। এভাবে উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

উমর ফারুক চরিত্রের বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদী আদর্শের দিকগুলো ধারণ না করায়, উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতনিধিত্ব করেন না। 'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। আইনের ব্যাপারে তিনি যেমন কঠোর ছিলেন প্রজাদরদে তেমনই ছিলেন কোমল। উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান একজন দরদি ও পরোপকারী মানুষ। তিনি অফিস থেকে ফেরার পথে এক বৃদ্ধ ঠেলাগাড়িওয়ালাকে সাহায্য করেন। আবার তার ছোটো ভাই কামরান গৃহপরিচারকের ওপর অত্যাচার করে বলে তাকেও বোঝান। উদ্দীপকের আসাদুজ্জামানের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উমর ফারুকের প্রজাবাৎসল্য ও সাম্যবাদী মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও তাঁর চরিত্রে আরও নানা গুণের মিশেল ঘটেছে। 'উমর ফারুক' কবিতার বর্ণনায় উঠে এসেছে- উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি কঠোর শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হয়েও খুবই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তাঁর এসব গুণের কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। সেখানে কেবল তাঁর ন্যায়পরায়ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করেন না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

আসাদুজ্জামান সাহেব অফিস থেকে ফেরার পথে দেখলেন একজন বৃদ্ধ ঠেলাগাড়ি চালক রাস্তার চড়াই দিয়ে একা গাড়ি উঠাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আসাদুজ্জামান দ্রুত চালকের সাথে, ধাক্কা দিয়ে ঠেলাগাড়িটি রাস্তায় উঠাতে সাহায্য করলেন। বাড়ি ফিরে দেখলেন, তার ছোটো ভাই কামরান সামান্য কারণে গৃহপরিচারকের সাথে দুর্ব্যবহার করছে। গৃহপরিচারক অভিযোগ করে, তাকে কামরান প্রায়ই মারধর করে। শুনে আসাদুজ্জামান ভাইকে তিরস্কার করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করে দেন।

Dinajpur · 2026

ক
উমর ফারুক কাকে সিপাহসালার থেকে মামুলি সেনা করেছিলেন?

উত্তর

উমর ফারুক মহাবীর খালিদকে সিপাহসালার থেকে মামুলি সেনা করেছিলেন।
খ
"পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে"- চরণটিতে কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

“পড়েছে কুটির, তুমি পড়নি ক'নুয়ে” বলতে খলিফা উমরের ঘর নুয়ে পড়লেও তিনি যে আদর্শচ্যুত হয়ে পড়েননি তা বোঝানো হয়েছে। অর্ধ-পৃথিবীর শাসনকর্তা হজরত উমর (রা) ছিলেন ন্যায়ের প্রতি কুসুম-কোমল আর অন্যায়ের প্রতি বজ্রসম কঠিন। তাঁর দরবার ছিল সাধারণ কুটিরের মতো। মরুভূমির সাইমুম ঝড়ে তা ভূলুণ্ঠিত হলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব সামান্য আদর্শচ্যুত কিংবা দুর্বল হয়নি বা নুয়ে পড়েনি। এখানে উমরের দৃঢ়চেতা মানসিকতাকে কবি রূপকাকারে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন।
গ
উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদ চরিত্রের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের নানা গুণের কথা কবি তুলে ধরেছেন। উমর ফারুকের অজস্র গুণের মধ্যে অন্যতম গুণ হলো ন্যায়পরায়ণতা ও সাহসিকতা। যে-ই অন্যায় করুক না কেন, তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেন। উদ্দীপকের কামরান আসাদুজ্জামানের ভাই। আসাদুজ্জামান সৎ লোক হলেও কামরান একজন হীন আচরণের মানুষ। সে তার গৃহপরিচারকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে। এমনকি মারধরও করে। আসাদুজ্জামান এটি জানার পর তাকে সাবধান করে দেন। উদ্দীপকের কামরানের এই ঘটনাটি 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। মহাবীর খালিদকে মানুষ একসময় এমন এক উচ্চাসনে নিয়ে যায় যাতে মনে হয় মানুষ বুঝি তাকে আরাধনা করতে শুরু করে। এটি উমর (রা.) লক্ষ করে মহাবীর খালিদকে তিনি শাস্তিস্বরূপ সিপাহসালার থেকে একজন মামুলি সৈনিকে পরিণত করেন। খালিদের আচরণ এবং তার সঙ্গে হওয়া বিচার প্রক্রিয়াটি উদ্দীপকের কামরানের আচরণ ও তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার শামিল। এভাবে উদ্দীপকের কামরান 'উমর ফারুক' কবিতার মহাবীর খালিদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করে কি? তোমার মতের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

উমর ফারুক চরিত্রের বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা, সাম্যবাদী আদর্শের দিকগুলো ধারণ না করায়, উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতনিধিত্ব করেন না। 'উমর ফারুক' কবিতায় কবি ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা.)-এর গুণাবলি বর্ণনা করেছেন। তাঁর চরিত্রে একাধারে বীরত্ব, কোমলতা, নিষ্ঠা এবং সাম্যবাদী আদর্শের অনন্য সমন্বয় ঘটেছিল। আইনের ব্যাপারে তিনি যেমন কঠোর ছিলেন প্রজাদরদে তেমনই ছিলেন কোমল। উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান একজন দরদি ও পরোপকারী মানুষ। তিনি অফিস থেকে ফেরার পথে এক বৃদ্ধ ঠেলাগাড়িওয়ালাকে সাহায্য করেন। আবার তার ছোটো ভাই কামরান গৃহপরিচারকের ওপর অত্যাচার করে বলে তাকেও বোঝান। উদ্দীপকের আসাদুজ্জামানের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উমর ফারুকের প্রজাবাৎসল্য ও সাম্যবাদী মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু এগুলো ছাড়াও তাঁর চরিত্রে আরও নানা গুণের মিশেল ঘটেছে। 'উমর ফারুক' কবিতার বর্ণনায় উঠে এসেছে- উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তিনি কঠোর শাস্তি দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি অর্ধ-পৃথিবীর শাসক হয়েও খুবই অনাড়ম্বর জীবনযাপন করতেন। তাঁর এসব গুণের কোনো ইঙ্গিত উদ্দীপকে নেই। সেখানে কেবল তাঁর ন্যায়পরায়ণ মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের আসাদুজ্জামান কবিতায় বর্ণিত উমর ফারুকের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করেন না।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i): আঁধারের চাঁদ তুমি- জুলুমের বিচার সাম্যের স্বর্গভূমি- সত্যের প্রচার। (ii): আজি শিশু কাঁদিছে অনাহারে- মরিছে মানুষ নির্বিচারে সত্যের পতাকা খায় বসে খোদ পতাকাধারী

Barisal · 2026

ক
অনাগত কাল কী গেয়েছিল?

উত্তর

অনাগত কাল গেয়েছিল, 'জয় জয় হে মানব।'
খ
"সেদিন গিয়াছে” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

"সেদিন গিয়াছে"- বলতে হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসন ব্যবস্থার সময়কে নির্দেশ করা হয়েছে। হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসনকাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে শাসন ব্যবস্থার সর্বোজ্জ্বল সময়। সেই সময় মানুষের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য ছিল না। রাজা-প্রজায় বিদ্বেষ ছিল না। সমাজে অন্যায়ের অবাধ বিচরণ ছিল না। মানুষ সহজেই নিজের প্রকৃত অধিকার ভোগ করতে পারত। কিন্তু বর্তমান সময় অন্ধকারাচ্ছন্নতা, শ্রেণিবৈষম্য সমাজ আর রাষ্ট্রকে আঁকড়ে ধরেছে। রাজায়-প্রজায় চরম বিদ্বেষ। সাধারণ মানুষ সহজে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আলোচ্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
গ
উদ্দীপক (i)-এর আলোকে 'উমর ফারুক' কবিতার প্রতিফলিত দিক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, ন্যায়বান শাসনকার্য, সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সত্য প্রচারের মাহাত্ম্যের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে। 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। একজন ন্যায়নিষ্ঠা শাসক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি সত্য প্রচারে ছিলেন নির্ভীক। উদ্দীপকে একজনের চারিত্রিক জীবনাদর্শের কথা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি জুলুমের বিচার করেন। এছাড়া তিনি সাম্যবাদ ও সত্যের প্রচারে একনিষ্ঠতার ধারক। 'উমর ফারুক' কবিতায়ও হজরত উমর (রা.)-এর চারিত্রিক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক হয়েও তিনি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। নিজ ভৃত্যকেও তিনি সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে নিজ পুত্রকেও কঠোর শাস্তি দিয়েছেন। তিনি সত্যের পথে নির্ভীক একজন দৃঢ়চিত্ত উপাসক ছিলেন। উমর ফারুকের চারিত্রিক মাহাত্ম্যের দিকগুলো উদ্দীপর্কেও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুকের জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপক (ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত 'উমর ফারুক' (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- 'উমর ফারুক' কবিতা অবলম্বনে যৌক্তিক মতামত দাও।

উত্তর

উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন আদর্শবান শাসক, তাই "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'উমর ফারুক' কবিতায় 'একজন ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে হজরত উমরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। একজন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি প্রজাদের দুঃখে ব্যথিত হতেন। উদ্দীপকে-(ii)-এ অনাহারে শিশু কাঁদছে। নির্বিচারে মানুষদের মারা হচ্ছে। সত্যের পতাকা হয়েছে অবনমিত। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর (রা.)-এর মতো ন্যায়বান, প্রজাহিতৈষী শাসক যদি থাকত তাহলে উদ্দীপকের করুণ চিত্র দেখা যেত না। তাঁর মতো শাসকের অনুপস্থিতিই এরূপ করুণ দশার কারণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা, নির্ভীকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তিনি বায়তুল মাল থেকে আটার বস্তা পিঠে করে দুঃখিনী মায়ের ঘরে পৌঁছে দেন। তিনি সত্যের প্রচারে দৃঢ়চিত্তের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মতো মানবিক চরিত্রের শাসক দ্বারা সমাজ পরিচালিত হলে উদ্দীপকের মতো সমাজে কোনো অন্যায়-অবিচার থাকত না। তাই বলা যায়, "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

(i): আঁধারের চাঁদ তুমি- জুলুমের বিচার সাম্যের স্বর্গভূমি- সত্যের প্রচার। (ii): আজি শিশু কাঁদিছে অনাহারে- মরিছে মানুষ নির্বিচারে সত্যের পতাকা খায় বসে খোদ পতাকাধারী

Barisal · 2026

ক
অনাগত কাল কী গেয়েছিল?

উত্তর

অনাগত কাল গেয়েছিল, 'জয় জয় হে মানব।'
খ
"সেদিন গিয়াছে” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর

"সেদিন গিয়াছে"- বলতে হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসন ব্যবস্থার সময়কে নির্দেশ করা হয়েছে। হজরত উমর ফারুক (রা)-এর শাসনকাল ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে শাসন ব্যবস্থার সর্বোজ্জ্বল সময়। সেই সময় মানুষের মধ্যে শ্রেণি বৈষম্য ছিল না। রাজা-প্রজায় বিদ্বেষ ছিল না। সমাজে অন্যায়ের অবাধ বিচরণ ছিল না। মানুষ সহজেই নিজের প্রকৃত অধিকার ভোগ করতে পারত। কিন্তু বর্তমান সময় অন্ধকারাচ্ছন্নতা, শ্রেণিবৈষম্য সমাজ আর রাষ্ট্রকে আঁকড়ে ধরেছে। রাজায়-প্রজায় চরম বিদ্বেষ। সাধারণ মানুষ সহজে কোনো অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। আলোচ্য পঙ্ক্তিটি দ্বারা এটাই বোঝানো হয়েছে।
গ
উদ্দীপক (i)-এর আলোকে 'উমর ফারুক' কবিতার প্রতিফলিত দিক ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, ন্যায়বান শাসনকার্য, সাম্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি এবং সত্য প্রচারের মাহাত্ম্যের দিকটির প্রতিফলন ঘটেছে। 'উমর ফারুক' কবিতায় উমর ফারুকের জীবনাদর্শ, তুলে ধরা হয়েছে। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হয়েও তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। একজন ন্যায়নিষ্ঠা শাসক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি সত্য প্রচারে ছিলেন নির্ভীক। উদ্দীপকে একজনের চারিত্রিক জীবনাদর্শের কথা ব্যক্ত হয়েছে। তিনি জুলুমের বিচার করেন। এছাড়া তিনি সাম্যবাদ ও সত্যের প্রচারে একনিষ্ঠতার ধারক। 'উমর ফারুক' কবিতায়ও হজরত উমর (রা.)-এর চারিত্রিক মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে। বিশাল মুসলিম রাষ্ট্রের শাসক হয়েও তিনি সহজ-সরল ও অনাড়ম্বর জীবনযাপন করেছেন। নিজ ভৃত্যকেও তিনি সমান মর্যাদা দিতে কুণ্ঠাবোধ করেননি। তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে নিজ পুত্রকেও কঠোর শাস্তি দিয়েছেন। তিনি সত্যের পথে নির্ভীক একজন দৃঢ়চিত্ত উপাসক ছিলেন। উমর ফারুকের চারিত্রিক মাহাত্ম্যের দিকগুলো উদ্দীপর্কেও ফুটে উঠেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপক-(i)-এ 'উমর ফারুক' কবিতার উমর ফারুকের জীবনাদর্শ প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ
"উদ্দীপক (ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত 'উমর ফারুক' (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- 'উমর ফারুক' কবিতা অবলম্বনে যৌক্তিক মতামত দাও।

উত্তর

উমর ফারুক (রা.) ছিলেন একজন আদর্শবান শাসক, তাই "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'উমর ফারুক' কবিতায় 'একজন ন্যায়নিষ্ঠ শাসক হিসেবে হজরত উমরের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। একজন ন্যায়পরায়ণ, প্রজাদরদি ও গণতন্ত্রমনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল। তিনি প্রজাদের দুঃখে ব্যথিত হতেন। উদ্দীপকে-(ii)-এ অনাহারে শিশু কাঁদছে। নির্বিচারে মানুষদের মারা হচ্ছে। সত্যের পতাকা হয়েছে অবনমিত। 'উমর ফারুক' কবিতার হজরত উমর (রা.)-এর মতো ন্যায়বান, প্রজাহিতৈষী শাসক যদি থাকত তাহলে উদ্দীপকের করুণ চিত্র দেখা যেত না। তাঁর মতো শাসকের অনুপস্থিতিই এরূপ করুণ দশার কারণ। 'উমর ফারুক' কবিতায় হজরত উমরের জীবনাদর্শ, চরিত্র-মাহাত্ম্য, মানবিকতা, নির্ভীকতার অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। তিনি বায়তুল মাল থেকে আটার বস্তা পিঠে করে দুঃখিনী মায়ের ঘরে পৌঁছে দেন। তিনি সত্যের প্রচারে দৃঢ়চিত্তের অধিকারী ছিলেন। তাঁর মতো মানবিক চরিত্রের শাসক দ্বারা সমাজ পরিচালিত হলে উদ্দীপকের মতো সমাজে কোনো অন্যায়-অবিচার থাকত না। তাই বলা যায়, "উদ্দীপক-(ii)-এ বর্ণিত প্রেক্ষাপটে হজরত উমর ফারুক (রা.)-এর আবির্ভাব প্রত্যাশিত।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো