ঝর্ণার গান বাংলা ১ম পত্র

SSC বাংলা ১ম পত্র এর ঝর্ণার গান অধ্যায়ের বোর্ড প্রশ্ন ও MCQ অনুশীলন করো।

১০০

প্রশ্ন

বাংলা ১ম পত্র

বিষয়

SSC

ক্লাস

সাম্প্রতিক প্রশ্ন

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

'আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এই কথাগুলিতে শিল্পকলার মূল সত্যটি প্রকাশ পেয়েছে। সব মানুষই জীবনের এই আনন্দকে পাওয়ার জন্যে কত রকম চেষ্টা করে যাচ্ছে। আনন্দ প্রকাশ জীবনীশক্তির প্রবলতারই প্রকাশ। আনন্দকে আমরা বুঝি রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে, ইন্দ্রিয়সকলের সাহায্যে। মানুষ যখন আনন্দ পায় তখন সে তার মনকে প্রকাশ করতে চায়- নানা রূপে। তাই সৃষ্টি হলো চিত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক।
ক
ঝাঁঝি কী?

উত্তর

ঝাঁঝি হচ্ছে একপ্রকার জলজ গুল্ম।
খ
"বিজন দেশ, কূজন নাই"- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

"বিজন দেশ কূজন নাই"- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কলরবহীন জনশূন্য স্থানে যেখানে নীরব প্রকৃতির রাজত্ব সেখানকার নৈঃশব্দ্য-নিস্তব্ধতায় ঝরনার বয়ে চলাকে বুঝিয়েছেন। নীরব-নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে ঝরনার উৎপত্তি। প্রাণচঞ্চল আনন্দের উচ্ছ্বাস নিয়ে ঝরনা উপর থেকে নিচে প্রবাহিত হয়। গভীর অরণ্য, নির্জীব-নিস্তব্ধ-নৈঃশব্দ্য নীরব প্রকৃতির কোল ঘেঁষে ঝরনা এগিয়ে যায়। যেখানে নেই মানুষ, নেই কণ্ঠস্বর- শুধু নীরবতা আর প্রবাহিত জলের একটানা বয়ে চলার ঐকতান। এরূপ নিসর্গময় জায়গাটিকেই কবি প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটির সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ভাবার্থের সাদৃশ্য বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

পৃথিবীজুড়ে আনন্দের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে যা মানবমনকেও আনন্দপিপাসু করে তুলছে- উ দীপকের এই ভাবটিই 'ঝরনার গান' কবিতাটির ভাবার্থের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি জীবনের উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও গতিময়তার জয়গান গেয়েছেন। ঝরনার ঝিলমিল আলো, ছন্দময় শব্দ ও দৌড়ের ভঙ্গিতে কবি পেয়েছেন চিরনবীন সৃষ্টির স্পন্দন। 'ঝরনার গান' কবিতাটিতে ঝরনার পুলকের অন্তরালে মূলত কবির আনন্দময় চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে। কবি নীরব-নির্জন-নৈসর্গিক প্রকৃতি অবলোকন করে মুগ্ধ। ঝরনার বয়ে চলার মাঝে কবি সংগীত শুনতে পান, নৃত্যের ঝংকার অনুভব করেন। সেই আনন্দময় অনুভব থেকেই তিনি কবিতা রচনা করে যান। অন্যদিকে উদ্দীপকে কবির এ আনন্দময় অনুভব থেকেই যে তাঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মের সূচনা, এখানে সেই দিকটিই উদ্ভাসিত হয়েছে। আনন্দধারা ভুবনময় বইছে। সব মানুষই আনন্দপিপাসু। তবে যারা আনন্দকে উপভোগ করতে পারে তারাই হয়ে উঠতে পারে সৃষ্টিশীল। উদ্দীপকটিতেও মানবমনের সৌন্দর্য চেতনার দিকটিই ফুটে উঠেছে। সুতরাং পূর্বোল্লিখিত ভাবটিই উদ্দীপকটিকে 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি মল্যায়ন করো।

উত্তর

"উদ্দীভপকের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে"-কবিতার ভাববস্তু ও কবির মানসিকতা বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার নিরুদ্বেগ স্বভাব কবিকে মুগ্ধ করেছে। তার 'খিলখিল' হাসি ও দৌড় যেন শৈশবের আনন্দের স্মারক। যার মধ্য দিয়ে কবি নিজস্ব ভাবনা তথা জীবনের মুক্ত, নির্ভীক ও উদ্দাম দিকটি তুলে ধরেছেন। 'ঝরনার গান' কবিতাটিতে স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন কবি। পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, যে জায়গা নীরব-নিভৃত সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি তাঁর অনুভব দিয়ে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতেও ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকটিতে বিবৃত আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মানুষের সৃষ্টিশীলতারই প্রকাশ। মানুষ আনন্দকে অনুভব করে রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে। আর মানুষ নিজের আনন্দ সবসময়ই প্রকাশ করতে চায়। মানুষের এই আনন্দের বিবিধ প্রকাশই ফুটে ওঠে নানা শিল্পকর্মে। উদ্দীপকটিতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত আনন্দ উপভোগের প্রকাশই নান্দনিক ও অপূর্ব হয়ে ওঠে তাদের সৃষ্টিকর্মে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার সাদা জলরাশির যে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা তো ভাষিকভাবে মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। কিন্তু কবি ঝরনার সেই আনন্দকে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ কবি নিজেই প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আনন্দে বিভোর হয়েছেন। তাই উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটা বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

'আনন্দ ধারা বহিছে ভুবনে'- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানের এই কথাগুলিতে শিল্পকলার মূল সত্যটি প্রকাশ পেয়েছে। সব মানুষই জীবনের এই আনন্দকে পাওয়ার জন্যে কত রকম চেষ্টা করে যাচ্ছে। আনন্দ প্রকাশ জীবনীশক্তির প্রবলতারই প্রকাশ। আনন্দকে আমরা বুঝি রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে, ইন্দ্রিয়সকলের সাহায্যে। মানুষ যখন আনন্দ পায় তখন সে তার মনকে প্রকাশ করতে চায়- নানা রূপে। তাই সৃষ্টি হলো চিত্রশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, সংগীতশিল্পী, কবি, সাহিত্যিক।
ক
ঝাঁঝি কী?

উত্তর

ঝাঁঝি হচ্ছে একপ্রকার জলজ গুল্ম।
খ
"বিজন দেশ, কূজন নাই"- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর

"বিজন দেশ কূজন নাই"- পঙ্ক্তিটি দ্বারা কবি কলরবহীন জনশূন্য স্থানে যেখানে নীরব প্রকৃতির রাজত্ব সেখানকার নৈঃশব্দ্য-নিস্তব্ধতায় ঝরনার বয়ে চলাকে বুঝিয়েছেন। নীরব-নির্জন পাহাড়ি অঞ্চলে ঝরনার উৎপত্তি। প্রাণচঞ্চল আনন্দের উচ্ছ্বাস নিয়ে ঝরনা উপর থেকে নিচে প্রবাহিত হয়। গভীর অরণ্য, নির্জীব-নিস্তব্ধ-নৈঃশব্দ্য নীরব প্রকৃতির কোল ঘেঁষে ঝরনা এগিয়ে যায়। যেখানে নেই মানুষ, নেই কণ্ঠস্বর- শুধু নীরবতা আর প্রবাহিত জলের একটানা বয়ে চলার ঐকতান। এরূপ নিসর্গময় জায়গাটিকেই কবি প্রশ্নোক্ত পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।
গ
উদ্দীপকটির সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ভাবার্থের সাদৃশ্য বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর

পৃথিবীজুড়ে আনন্দের ধারা প্রবাহিত হচ্ছে যা মানবমনকেও আনন্দপিপাসু করে তুলছে- উ দীপকের এই ভাবটিই 'ঝরনার গান' কবিতাটির ভাবার্থের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি জীবনের উচ্ছ্বাস, আনন্দ ও গতিময়তার জয়গান গেয়েছেন। ঝরনার ঝিলমিল আলো, ছন্দময় শব্দ ও দৌড়ের ভঙ্গিতে কবি পেয়েছেন চিরনবীন সৃষ্টির স্পন্দন। 'ঝরনার গান' কবিতাটিতে ঝরনার পুলকের অন্তরালে মূলত কবির আনন্দময় চেতনারই প্রকাশ ঘটেছে। কবি নীরব-নির্জন-নৈসর্গিক প্রকৃতি অবলোকন করে মুগ্ধ। ঝরনার বয়ে চলার মাঝে কবি সংগীত শুনতে পান, নৃত্যের ঝংকার অনুভব করেন। সেই আনন্দময় অনুভব থেকেই তিনি কবিতা রচনা করে যান। অন্যদিকে উদ্দীপকে কবির এ আনন্দময় অনুভব থেকেই যে তাঁর নান্দনিক সৃষ্টিকর্মের সূচনা, এখানে সেই দিকটিই উদ্ভাসিত হয়েছে। আনন্দধারা ভুবনময় বইছে। সব মানুষই আনন্দপিপাসু। তবে যারা আনন্দকে উপভোগ করতে পারে তারাই হয়ে উঠতে পারে সৃষ্টিশীল। উদ্দীপকটিতেও মানবমনের সৌন্দর্য চেতনার দিকটিই ফুটে উঠেছে। সুতরাং পূর্বোল্লিখিত ভাবটিই উদ্দীপকটিকে 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘ
"উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি মল্যায়ন করো।

উত্তর

"উদ্দীভপকের পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে"-কবিতার ভাববস্তু ও কবির মানসিকতা বিবেচনায় মন্তব্যটি যথার্থ। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার নিরুদ্বেগ স্বভাব কবিকে মুগ্ধ করেছে। তার 'খিলখিল' হাসি ও দৌড় যেন শৈশবের আনন্দের স্মারক। যার মধ্য দিয়ে কবি নিজস্ব ভাবনা তথা জীবনের মুক্ত, নির্ভীক ও উদ্দাম দিকটি তুলে ধরেছেন। 'ঝরনার গান' কবিতাটিতে স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন কবি। পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, যে জায়গা নীরব-নিভৃত সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি তাঁর অনুভব দিয়ে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতেও ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকটিতে বিবৃত আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মানুষের সৃষ্টিশীলতারই প্রকাশ। মানুষ আনন্দকে অনুভব করে রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে। আর মানুষ নিজের আনন্দ সবসময়ই প্রকাশ করতে চায়। মানুষের এই আনন্দের বিবিধ প্রকাশই ফুটে ওঠে নানা শিল্পকর্মে। উদ্দীপকটিতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত আনন্দ উপভোগের প্রকাশই নান্দনিক ও অপূর্ব হয়ে ওঠে তাদের সৃষ্টিকর্মে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার সাদা জলরাশির যে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা তো ভাষিকভাবে মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। কিন্তু কবি ঝরনার সেই আনন্দকে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ কবি নিজেই প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আনন্দে বিভোর হয়েছেন। তাই উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটা বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের সামনের জলমগ্ন স্থানে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরা আনন্দে মেতেছেন।
ক
শিলার গায় কীসের রং ধরে?

উত্তর

শিলার গায় ডালচিনির রং ধরে।
খ
'উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,/ দুল দোলাই মন ভোলাই,/ ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,/ দুল দোলাই মন ভোলাই,/ ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।'- এ কথার মাধ্যমে কবি পাথরে আঘাত লেগে ঝরনার জলের ঝিলিক দিয়ে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি আপন ছন্দে ঝরনার ছুটে চলার দিকনির্দেশ করেছেন। পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরনা নিচে নেমে আসে এবং প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়ায়। পাহাড় থেকে নেমে এসে ঝরনার জলরাশি পাথরের উপর আছড়ে পড়ে। পাথরের বুকে আঘাত হেনে সেই জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ছড়িয়ে পড়ার সময় সাদা জলরাশি ঝিলমিল করে ওঠে। এতে সৃষ্টি হয় অপরূপ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যের কথাই কবি প্রশ্নোক্ত চরণের মধ্য দিয়ে বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার কোন প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার মুগ্ধ চোখের প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'ঝরনার গান' কবিতায় সৌন্দর্যের সন্ধান কবির জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। কবিতাটি জীবন, সৌন্দর্য ও শিল্প- সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক চিরন্তন সংগীত হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকের ছবিতে সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের অনুরাগ ও মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের সামনে মানুষের নির্মল আনন্দ উপভোগ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে অবগাহন করে তারা সবাই একই রকম আনন্দে মেতে উঠেছে। উদ্দীপকের ছবির এই সৌন্দর্য উপভোগকারী দর্শনার্থীদের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার 'সৌন্দর্য-মুগ্ধ চোখ' প্রত্যাশার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় ঝরনা অনুরূপ সৌন্দর্যপিপাসুদেরই প্রত্যাশা করেছে। কারণ সে নিজের সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে তৃপ্ত করতে চায়। ঝরনা চায় কেউ তার রূপসৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে প্রশংসা করুক। তাতেই তার রূপ বিস্তার সার্থক হয়।
ঘ
উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময়তা ও নিজের রূপ বর্ণনা কি একই রক তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

আমার মতে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময়তা ও নিজের রূপ বর্ণনা পুরোপুরি একই রকম নয়, কারণ উদ্দীপকে সৌন্দর্য উপভোগের বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি প্রকৃতিকে ব্যক্তিরূপে কল্পনা করেছেন। ঝরনা হাসে, খেলে, গান গায়- যেন এক চঞ্চল পরী। কবি এখানে ঝরনার দৌড়, দোল, ঝিলিকের মধ্য দিয়ে আনন্দের রূপক রচনা করেছেন। ঝরনা স্থির নয়- চিরগামী, চিরচঞ্চল। এই চলন মানুষের জীবনের গতি ও অগ্রগতির প্রতীক। যা প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে মানুষের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে। তবে ঝরনার ছন্দময় ছুটে চলা বা পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসার সময়ে প্রকৃতির চমৎকার বর্ণনাটি অনুপস্থিত। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার নিজে চপল পায়ে ধেয়ে চলার যে কথা বলেছে তা উদ্দীপকের ছবিতে প্রকাশ পায়নি। ঝরনার স্বচ্ছন্দ গতি, বুলবুলির বোল সেধে পরির গান গাওয়ার মধ্যে তার আনন্দময় জীবনের যে প্রতিচ্ছবি 'ঝরনার গান' কবিতায় ফুটে উঠেছে সে কথাও উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ এবং ঝরনার সৌন্দর্য-মুগ্ধ চোখ প্রত্যশার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা তার সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য যে প্রত্যাশা করেছে তারই পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের ছবিতে। কিন্তু ঝরনা তার চলার পথের যে বর্ণনা এবং সৌন্দর্য বিস্তারের যে উপমা দিয়েছে তা আলোচ্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সেখানে শান্ত ও নীরব প্রকৃতির কথাও প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময় ছুটে চলা ও রূপ বর্ণনা পুরোপুরি এক নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের সামনের জলমগ্ন স্থানে সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা দর্শনার্থীরা আনন্দে মেতেছেন।
ক
শিলার গায় কীসের রং ধরে?

উত্তর

শিলার গায় ডালচিনির রং ধরে।
খ
'উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,/ দুল দোলাই মন ভোলাই,/ ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।'- ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

'উপল-ঘায় দিই ঝিলিক,/ দুল দোলাই মন ভোলাই,/ ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।'- এ কথার মাধ্যমে কবি পাথরে আঘাত লেগে ঝরনার জলের ঝিলিক দিয়ে দিগ্বিদিক ছড়িয়ে যাওয়াকে বুঝিয়েছেন। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি আপন ছন্দে ঝরনার ছুটে চলার দিকনির্দেশ করেছেন। পাহাড়ের গা বেয়ে ঝরনা নিচে নেমে আসে এবং প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়ায়। পাহাড় থেকে নেমে এসে ঝরনার জলরাশি পাথরের উপর আছড়ে পড়ে। পাথরের বুকে আঘাত হেনে সেই জলরাশি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। ছড়িয়ে পড়ার সময় সাদা জলরাশি ঝিলমিল করে ওঠে। এতে সৃষ্টি হয় অপরূপ সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যের কথাই কবি প্রশ্নোক্ত চরণের মধ্য দিয়ে বুঝিয়েছেন।
গ
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার কোন প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার মুগ্ধ চোখের প্রত্যাশার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'ঝরনার গান' কবিতায় সৌন্দর্যের সন্ধান কবির জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। কবিতাটি জীবন, সৌন্দর্য ও শিল্প- সব মিলিয়ে প্রকৃতির এক চিরন্তন সংগীত হয়ে উঠেছে। উদ্দীপকের ছবিতে সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের অনুরাগ ও মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের সামনে মানুষের নির্মল আনন্দ উপভোগ করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যে অবগাহন করে তারা সবাই একই রকম আনন্দে মেতে উঠেছে। উদ্দীপকের ছবির এই সৌন্দর্য উপভোগকারী দর্শনার্থীদের সঙ্গে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার 'সৌন্দর্য-মুগ্ধ চোখ' প্রত্যাশার বিষয়টি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় ঝরনা অনুরূপ সৌন্দর্যপিপাসুদেরই প্রত্যাশা করেছে। কারণ সে নিজের সৌন্দর্য দিয়ে অন্যকে তৃপ্ত করতে চায়। ঝরনা চায় কেউ তার রূপসৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাকে প্রশংসা করুক। তাতেই তার রূপ বিস্তার সার্থক হয়।
ঘ
উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময়তা ও নিজের রূপ বর্ণনা কি একই রক তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

উত্তর

আমার মতে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময়তা ও নিজের রূপ বর্ণনা পুরোপুরি একই রকম নয়, কারণ উদ্দীপকে সৌন্দর্য উপভোগের বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি প্রকৃতিকে ব্যক্তিরূপে কল্পনা করেছেন। ঝরনা হাসে, খেলে, গান গায়- যেন এক চঞ্চল পরী। কবি এখানে ঝরনার দৌড়, দোল, ঝিলিকের মধ্য দিয়ে আনন্দের রূপক রচনা করেছেন। ঝরনা স্থির নয়- চিরগামী, চিরচঞ্চল। এই চলন মানুষের জীবনের গতি ও অগ্রগতির প্রতীক। যা প্রকৃতি ও মানুষের মধ্যে এক মেলবন্ধন সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে জলপ্রপাতকে কেন্দ্র করে মানুষের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে। তবে ঝরনার ছন্দময় ছুটে চলা বা পাহাড়ের গা বেয়ে নিচে নেমে আসার সময়ে প্রকৃতির চমৎকার বর্ণনাটি অনুপস্থিত। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার নিজে চপল পায়ে ধেয়ে চলার যে কথা বলেছে তা উদ্দীপকের ছবিতে প্রকাশ পায়নি। ঝরনার স্বচ্ছন্দ গতি, বুলবুলির বোল সেধে পরির গান গাওয়ার মধ্যে তার আনন্দময় জীবনের যে প্রতিচ্ছবি 'ঝরনার গান' কবিতায় ফুটে উঠেছে সে কথাও উদ্দীপকে নেই। উদ্দীপকে কেবল ঝরনার সৌন্দর্য উপভোগ এবং ঝরনার সৌন্দর্য-মুগ্ধ চোখ প্রত্যশার দিকটি প্রকাশ পেয়েছে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা তার সৌন্দর্য অবলোকনের জন্য যে প্রত্যাশা করেছে তারই পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে উদ্দীপকের ছবিতে। কিন্তু ঝরনা তার চলার পথের যে বর্ণনা এবং সৌন্দর্য বিস্তারের যে উপমা দিয়েছে তা আলোচ্য উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সেখানে শান্ত ও নীরব প্রকৃতির কথাও প্রকাশ পায়নি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে প্রতিফলিত সৌন্দর্য এবং 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার গতিময় ছুটে চলা ও রূপ বর্ণনা পুরোপুরি এক নয়।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
ক
কোথায় ডালিম ফাট দেখা যায়?

উত্তর

টিলার গায়ে ডালিম ফাট দেখা যায়।
খ
ঝরনা কীভাবে পাহাড় থেকে নেমে আসে?

উত্তর

ঝরনা নৃত্যের তালে তালে পাহাড় থেকে নেমে আসে। পাহাড় শিখরে ঝরনার সৃষ্টি। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রতিনিয়ত ঝরনার পানি নির্দিষ্ট ছন্দে পাহাড়ের পাদদেশে পাথরের উপর আছড়ে পড়ে। পানির আছড়ে পড়ার সাথে সাথে পানির কণা ছিটকে যায় চারদিকে। তখন এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয়। বস্তুত ঝরনার পানি পড়া সবসময় চলতে থাকে। কখনই এ পানির প্রবাহ শেষ হয় না। মনে হয় পাহাড়ের চূড়ায় যেন সাগর রয়েছে। এভাবেই ঝরনা পাহাড় থেকে নেমে আসে।
গ
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদশ্যপর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে ঝরনার আপন ছন্দে ছুটে চলার গতিময়তার দিকটিতে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা ভয়হীনভাবে পাহাড় বেয়ে নামে- সে ঝুঁকে পড়া পাহাড়কেও উপেক্ষা করে। এই চিত্রে কবি ঝরনার গতির মধ্য দিয়ে মানুষের সাহস ও অদম্য অগ্রযাত্রার প্রতীক প্রকাশ করেছেন। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। সমস্ত নীরবতা ভেঙে ঝরনা আপন ছন্দে ছুটে চলে। তার এই ছুটে চলা মানবজীবনেও গতিময়তার সৃষ্টি করে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়ের চোখ রাঙানি সবকিছুকে উপেক্ষা করে নির্ভয়ে সে ছুটে চলে। চলার পথে পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে যায়। 'ঝরনার গান' কবিতায় বর্ণিত ঝরনার এই ছন্দময় চলার গতির সঙ্গে উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ণিত নদীর গতির সাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের নদীও আপন গতিতে পাগলপারা। পথ চলতে চলতে সে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছে। এভাবে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার ছুটে চলা উদ্দীপকের নদীর ছুটে চলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ঝরনার সৌন্দর্যচেতনা অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় "মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'ঝরনার গান' কবিতায় শেষের দিকে কবি বলেন 'দুল দোলাই মন ভোলাই, ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।' এখানে ঝরনার গতিই কবির মনের গতি হয়ে ওঠে। ঝরনার আনন্দ স্বতঃস্ফূর্ত, বিনিময়হীন। তার হাসি কারও জন্য নয়, নিজের জন্য। এই আত্মনির্ভর আনন্দই কবির কাছে সত্য সৌন্দর্যের উৎস। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি ঝরনার ছন্দময় বয়ে চলাকে মানুষের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। ঝরনার চলার এই গতির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও মানুষের জীবনের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে এর মিল নেই। ঝরনা পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়ের ভয় দেখানো- সবকিছু উপেক্ষা করে ছুটে চলে; আর উদ্দীপকের নদীও আপন গতিতে আত্মহারা, পাগলপারা। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে সেই সৌন্দর্যকে পরিস্ফুট করা হয়নি। ঝরনার ছুটে চলার যে চমৎকার ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈচিত্র্য পাওয়া যায়, উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। উদ্দীপকের কবিতাংশে নদীর গতিময়তার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। সে নবীন পাতায়, ফুলের ধারায় আপন গতিতে ছুটে চলে। তার পথ চলার ছন্দ মানুষকে কর্মচঞ্চল করে না। কিন্তু ঝরনা তার চলার ছন্দে মানুষের মনে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। নতুনভাবে জেগে উঠে কাজের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাওয়ার অনুপ্রেরণা দান করে। ঝরনা নির্জন পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে যে সৌন্দর্য বিস্তার করে ছুটে চলে তা উদ্দীপকে নদীর চলায় দেখা যায় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো

SSCবাংলা ১ম পত্রসৃজনশীল

উদ্দীপক

question image
ক
কোথায় ডালিম ফাট দেখা যায়?

উত্তর

টিলার গায়ে ডালিম ফাট দেখা যায়।
খ
ঝরনা কীভাবে পাহাড় থেকে নেমে আসে?

উত্তর

ঝরনা নৃত্যের তালে তালে পাহাড় থেকে নেমে আসে। পাহাড় শিখরে ঝরনার সৃষ্টি। পাহাড়ের চূড়া থেকে প্রতিনিয়ত ঝরনার পানি নির্দিষ্ট ছন্দে পাহাড়ের পাদদেশে পাথরের উপর আছড়ে পড়ে। পানির আছড়ে পড়ার সাথে সাথে পানির কণা ছিটকে যায় চারদিকে। তখন এক অপরূপ দৃশ্যের অবতারণা হয়। বস্তুত ঝরনার পানি পড়া সবসময় চলতে থাকে। কখনই এ পানির প্রবাহ শেষ হয় না। মনে হয় পাহাড়ের চূড়ায় যেন সাগর রয়েছে। এভাবেই ঝরনা পাহাড় থেকে নেমে আসে।
গ
উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে কীভাবে সাদশ্যপর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

উত্তর

উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার সঙ্গে ঝরনার আপন ছন্দে ছুটে চলার গতিময়তার দিকটিতে সাদৃশ্যপূর্ণ। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনা ভয়হীনভাবে পাহাড় বেয়ে নামে- সে ঝুঁকে পড়া পাহাড়কেও উপেক্ষা করে। এই চিত্রে কবি ঝরনার গতির মধ্য দিয়ে মানুষের সাহস ও অদম্য অগ্রযাত্রার প্রতীক প্রকাশ করেছেন। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। সমস্ত নীরবতা ভেঙে ঝরনা আপন ছন্দে ছুটে চলে। তার এই ছুটে চলা মানবজীবনেও গতিময়তার সৃষ্টি করে। পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়ের চোখ রাঙানি সবকিছুকে উপেক্ষা করে নির্ভয়ে সে ছুটে চলে। চলার পথে পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন রেখে যায়। 'ঝরনার গান' কবিতায় বর্ণিত ঝরনার এই ছন্দময় চলার গতির সঙ্গে উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ণিত নদীর গতির সাদৃশ্য বিদ্যমান। উদ্দীপকের নদীও আপন গতিতে পাগলপারা। পথ চলতে চলতে সে নিজেকে যেন হারিয়ে ফেলেছে। এভাবে 'ঝরনার গান' কবিতার ঝরনার ছুটে চলা উদ্দীপকের নদীর ছুটে চলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ
"মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়।"- মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

উদ্দীপকে ঝরনার সৌন্দর্যচেতনা অনুপস্থিত থাকায় বলা যায় "মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ। 'ঝরনার গান' কবিতায় শেষের দিকে কবি বলেন 'দুল দোলাই মন ভোলাই, ঝিলমিলাই দিগ্বিদিক।' এখানে ঝরনার গতিই কবির মনের গতি হয়ে ওঠে। ঝরনার আনন্দ স্বতঃস্ফূর্ত, বিনিময়হীন। তার হাসি কারও জন্য নয়, নিজের জন্য। এই আত্মনির্ভর আনন্দই কবির কাছে সত্য সৌন্দর্যের উৎস। 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ঝরনার গতিময়তা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরেছেন। কবি ঝরনার ছন্দময় বয়ে চলাকে মানুষের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখেছেন। ঝরনার চলার এই গতির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য থাকলেও মানুষের জীবনের কর্মচঞ্চলতার সঙ্গে এর মিল নেই। ঝরনা পাখির ডাকহীন নির্জন দুপুর, ভয়ংকর পাহাড়ের ভয় দেখানো- সবকিছু উপেক্ষা করে ছুটে চলে; আর উদ্দীপকের নদীও আপন গতিতে আত্মহারা, পাগলপারা। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার অপরূপ সৌন্দর্যের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে সেই সৌন্দর্যকে পরিস্ফুট করা হয়নি। ঝরনার ছুটে চলার যে চমৎকার ধ্বনিমাধুর্য ও বর্ণবৈচিত্র্য পাওয়া যায়, উদ্দীপকের নদীর ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। উদ্দীপকের কবিতাংশে নদীর গতিময়তার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। সে নবীন পাতায়, ফুলের ধারায় আপন গতিতে ছুটে চলে। তার পথ চলার ছন্দ মানুষকে কর্মচঞ্চল করে না। কিন্তু ঝরনা তার চলার ছন্দে মানুষের মনে আনন্দ ছড়িয়ে দিয়ে তাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। নতুনভাবে জেগে উঠে কাজের মধ্যে শান্তি খুঁজে পাওয়ার অনুপ্রেরণা দান করে। ঝরনা নির্জন পাহাড়ের মৌনতা ভেঙে যে সৌন্দর্য বিস্তার করে ছুটে চলে তা উদ্দীপকে নদীর চলায় দেখা যায় না। এই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, মিল থাকলেও উদ্দীপকটি 'ঝরনার গান' কবিতার একটি বিশেষ দিকের প্রতিফলন মাত্র, সামগ্রিকতা নয়। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

সম্পূর্ণ প্রশ্ন দেখো