উদ্দীপকে চৌধুরী সাহেবের মনোভাবে যে বিষয়টি লক্ষ্য করা যায় তা হলো পূর্বসংস্কার। পূর্বসংস্কার যেভাবে গঠিত হয় তা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
১. সামাজিক অভিজ্ঞতার ফলে শিশু অন্য গোষ্ঠীর ব্যক্তিদের সম্পর্কে পূর্বসংস্কারাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে। শিশুদের মধ্যে জাতি ও বর্ণ ভেদ জ্ঞান থাকে না বলে তারা অন্যান্য গোষ্ঠীর শিশুদের সাথে মিলেমিশে খেলা করে। এমনকি তাদের ভাষা পৃথক হবার জন্য তারা পরস্পরের কথাবার্তা বুঝতে না পারলেও একত্রে খেলাধুলা করতে তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু বয়োবৃদ্ধির সাথে সাথে শিশু অন্যান্য গোষ্ঠীর শিশুর সাথে তার পার্থক্য অনুধাবন করতে পারে। সামাজিকীকরণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রচলিত বিভিন্ন পূর্বসংস্কার মানুষ তার বিভিন্ন মাধ্যমের সংস্পর্শে থেকে অর্জন করে। পরিবার, বিদ্যালয় ও অন্যান্য সামাজিক দলের সদস্যদের সাথে আন্তঃক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে অন্যান্য আচরণের মতো পূর্বসংস্কারও অর্জন করে।
২. পূর্বসংস্কার শিক্ষণে মুখ্য দলের সদস্যরা প্রধান ভূমিকা পালন করে। শিশুর পূর্বসংস্কার বিকাশে বিশেষ করে মা বাবা বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে থাকেন।
৩. ছোট্ট শিশু অনুকরণের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে পূর্বসংস্কার অর্জন করে। যেমন-ঝাড়ুদার বা মেথরকে মা যখন ছোঁয়া বাঁচিয়ে তাকে কোনো কিছু দেন বা ভিন্ন পাত্রে খাবার দেন, তখন শিশু বুঝতে শেখে যে সে তাদের থেকে ভিন্ন এবং শিশু মায়ের আচরণ অনুকরণ করে।
৪. প্রচলিত প্রথা ও জীবন নির্বাহ পদ্ধতির পার্থক্যের জন্যও পক্ষপাতদুষ্ট ধারণার উদ্ভব হয়ে থাকে।
৫. অনেক পূর্বসংস্কার জাতিকেন্দ্রিক মনোভাব থেকে উৎপন্ন হয়।। জাতিকেন্দ্রিক মনোভাবের দরুন আমরা মনে করি, আমাদের গোষ্ঠীই শ্রেষ্ঠ, অন্যান্য গোষ্ঠী আমাদের গোষ্ঠী অপেক্ষা নিকৃষ্ট। জাতিকেন্দ্রিক মনোভাবের দরুন প্রত্যেক গোষ্ঠী নিজেদের সম্পর্কে গর্ব অনুভব করে, নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বে কোনো সন্দেহ পোষণ করে না, অন্যান্য গোষ্ঠীকে অবজ্ঞার দৃষ্টিতে দেখে।
৬. গণমাধ্যম, পারস্পরিক যোগাযোগ প্রভৃতিও পূর্বসংস্কারকে দৃঢ়বন্ধ করতে সহায়তা করে। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় শ্রেণিবৈষম্য লালনের মাধ্যমে পূর্বসংস্কার ধীরে ধীরে কৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যে রূপান্তরিত হয়। শিশুরা সামাজিকীকরণের মাধ্যমে কৃষ্টির সাথে অঙ্গীভূত এসব পূর্বসংস্কার বংশ পরম্পরায় অর্জন করে।