দৃশ্যকল্প-২ এ পত্রিকার খবরে যে ধারণার প্রকাশ পেয়েছে তা হলো পূর্ব সংস্কার। জাতিগত, ধর্মগত, সংখ্যাগতভাবে ভিন্ন কোনো সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি বিদ্বেষ বা পক্ষপাতমূলক মনোভাবই পূর্বসংস্কার।
নিচে পূর্বসংস্কার হ্রাস করার উপায়সমূহ উল্লেখ করা হলো-
১. পূর্বসংস্কার হ্রাসকরণের জন্য নিজ দল ও ভিন্ন দলের মধ্যে পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য উভয় দলের ইতিবাচক মনোভাব বৃদ্ধি করে এরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. পূর্বসংস্কার হ্রাস করার জন্য আইন প্রণয়ন করা যেতে পারে। আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ ও নিগ্রোদের আবাসিক সংমিশ্রণ সংক্রান্ত পদক্ষেপ এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য। দেখা গেছে যে, একই এলাকায় বসবাসের ফলে শ্বেতাঙ্গ ও নিগ্রোদের পূর্বসংস্কার তীব্রতা অনেকটা কমে গেছে।
৩. কতকগুলো লোক যখন একই লক্ষ্য অর্জনের জন্য যৌথভাবে প্রচেষ্টা চালায় তখন তাদের পরস্পরের প্রতি পরস্পরের পূর্বসংস্কার হ্রাস পায়।
৪. পূর্বসংস্কার কমিয়ে আনতে আন্তঃকৃষ্টিমূলক শিক্ষার প্রচলন করার দরকার।
৫. পূর্বসংস্কার হ্রাসকরণে গণমাধ্যম খুবই জোরালো ভূমিকা পালন করে। রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, সংবাদপত্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন- ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদির মাধ্যমে মানুষ পূর্বসংস্কার অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে।
পরিশেষে বলা যায় যে, সমাজ মনোবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গণমাধ্যম কর্মীরা এবং সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সম্মিলিতভাবে যৌথ কার্যক্রম গ্রহণ করলে এবং একত্রে উদ্যোগ নিলে পূর্বসংস্কার সহজেই কমিয়ে আনা সম্ভব।