উদ্দীপকের ২ হলো বদ্ধমূল ধারণা। নিচে বদ্ধমূল ধারণার বৈশিষ্ট্যসমূহ উল্লেখপূর্বক বিশ্লেষণ করা হলো-
১ শ্রেণিভুক্তকরণ: ব্যক্তি বা দলের অনেক গুণাবলির মধ্যে বিশেষ কিছু শারীরিক বা 'জাতিগত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে গুণাবলিকে শনাক্ত করার জন্য নির্বাচিত করা হয় এবং অন্য গুণাবলিকে অবজ্ঞা করা হয়।
২. গুণাবলি আরোপে মতৈক্য বদ্ধমূল ধারণার শ্রেণিভুক্তকরণের সাথে সাথে একই শ্রেণির অন্তর্গত ব্যক্তিবর্গ কতকগুলো বিশেষ সংলক্ষণের অধিকারী বলে প্রত্যক্ষণকারীদের মধ্যে একটা মতৈক্য গড়ে ওঠে। যেমন- বাঙালিরা ভোজনপ্রিয়, অলস, সঙ্গীতপ্রিয়, অতিথিপরায়ণ জাতি হিসেবে চিহ্নিত। নিগ্রোরা অলস, কুসংস্কারাচ্ছন্ন, অপরিষ্কার জাতি। কিছু গুণাবলি আরোপের ভিত্তিতে এভাবে ঐকমত্য সৃষ্টি করা হয়।
৩. প্রকৃত ও আরোপিত গুণাবলির মধ্যে পার্থক্য: বদ্ধমূল ধারণা প্রায় সময়ই ভ্রান্ত হয়ে থাকে। কারণ এগুলো ব্যক্তির প্রকৃত বৈশিষ্ট্যের অতি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। কতিপয় বিশেষ গুণের আড়ালে ব্যক্তির প্রত্যক্ষণে অন্যান্য গুণাবলি আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ কারণে অতি সংক্ষিপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ বর্ণনাটি প্রাধান্য পায়। কোনো জোলা (তাঁতী) বোকামি করেছে বলেই ঐ সম্প্রদায়ের সকলকে বোকা ভাবা ঠিক নয়। কিন্তু এ ভুলটিই অর্থাৎ প্রকৃত ও আরোপিত গুণাবলির পার্থক্যই বন্ধমূল ধারণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।