রহিম যে ধারণার কথা বলছে তা ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে রহিম যে ধারণার কথা বলেছে তা হলো মনোভাব। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো- কোনো বিশেষ সামাজিক পরিস্থিতি, বিশেষ কোনো শ্রেণিভুক্ত ব্যক্তি অথবা বিশেষ কোনো গোষ্ঠী, সামাজিক কোনো সমস্যা ইত্যাদি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা, অনুভূতি এবং প্রতিক্রিয়ার পূর্বাপর সঙ্গতিসম্পন্ন রীতিকেই মনোভাব বলা হয়। চিন্তা, বিশ্বাস, অনুভূতি ও প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা নিয়েই মনোভাব গঠিত হয়। কাজেই মনোভাব হলো বিশেষ অবস্থায় বিশেষ ধরনের প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা। ক্ষুধা ও তৃষ্ণা যেমন প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আছে, তেমনই প্রত্যেক মানুষেরই কোনো না কোনো মনোভাবও আছে। মা, বাবা, বন্ধু-বান্ধব, কবি, সাহিত্যিক, বিশ্বশান্তি, সন্ত্রাস প্রভৃতির প্রতি বিশেষ বিশেষ মনোভাব রয়েছে। মনোভাবকে আমরা ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ বলতে পারি। কেউ হয়তো চা পান করতে খুব ভালোবাসে, কেউ আবার চা একেবারেই পছন্দ করে। না। এক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি, প্রথম ব্যক্তির চায়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব এবং দ্বিতীয় ব্যক্তির নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। পরিবেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার মনোভাব গড়ে উঠে এবং তা তার জীবনকে প্রভাবিত করে।
HSC Psychology 2nd Paper Chapter 3 : মনোভাব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Psychology 2nd Paper · Chapter 3 : মনোভাব · সৃজনশীল
রহিম যে ধারণার কথা বলছে তা ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক
Dhaka · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
চিত্র: ব্যক্তি (P). অন্যব্যক্তি (০) এবং একটি বিষয়বস্তুর (X) মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভারসাম্যহীন অবস্থা। ভারসাম্যহীন অবস্থা: ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রথমটিতে (৫) ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির এবং কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু অন্য ব্যক্তির এ বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকায় অবস্থানটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়টি (৬) ভারসাম্যহীন অবস্থায় ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে অথচ ব্যক্তি যে বিষয়টিকে অপছন্দ করে অন্য ব্যক্তি সেটিকে পছন্দ করে। তাই ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৭) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং সে যে বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে অন্য ব্যক্তিও সেই বিষয়ের প্রতি অনুরূপ মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং এটি একটি ভারসাম্যহীন অবস্থা। চতুর্থ অবস্থায় ব্যক্তির (৮) অন্যব্যক্তি ও কোনো একটি বিষয়ের প্রতি প্রতিকূল মনোভাব রয়েছে এবং অন্য ব্যক্তিরও ঐ বিষয়টির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব থাকাতে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। উপরে বর্ণিত ভারসাম্যহীন অবস্থাগুলো ব্যক্তির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এজন্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি তৎপর হয়। এতে করে অন্য ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির মনোভাবের পরিবর্তন হবে অথবা বিষয়বস্তুটির প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন হবে যাতে করে ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং মানসিক চাপও দূর হবে। ত্রিভুজাকার সম্পর্কের তিনটিই ইতিবাচক হলে বা দুটি নেতিবাচক এবং একটি ইতিবাচক হলে ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ত্রিভুজাকার সম্পর্কের একটি বা তিনটিই নেতিবাচক হলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।