করিম যে মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করছে তার দুটি অবস্থা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, করিম যে মতবাদের কথা উল্লেখ করেছে তা হলো ভারসাম্য মতবাদ। ভারসাম্য মতবাদে দুটি অবস্থা রয়েছে। যথা-১। ভারসাম্য পূর্ণ অবস্থা ও ২। ভারসাম্যহীন অবস্থা। নিচে অবস্থা দুটি বিশ্লেষণ করা হলো- ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা: চিত্রে প্রথম ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় (১) ব্যক্তি (P) অন্যব্যক্তিকে (১) পছন্দ করে এবং তাদের দুজনেরই একটি বিষয়ের (X) প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই এটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা। দ্বিতীয় পরিস্থিতিতে (২) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে এবং দুজনেরই একটি বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। তাই এখানেও ভারসাম্য রয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৩) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং যে বিষয়টির প্রতি তার ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে অন্য ব্যক্তিটির তার প্রতি নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কাজেই ভারসাম্য রক্ষা পেয়েছে। চতুর্থ অবস্থায় (৪) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং অন্য ব্যক্তিটি যে বিষয়টিকে পছন্দ করে তার প্রতি ব্যক্তির নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সুতরাং এখানেও ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে। [চিত্র] চিত্র: ব্যক্তি (P). অন্যব্যক্তি (০) এবং একটি বিষয়বস্তুর (X) মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভারসাম্যহীন অবস্থা। ভারসাম্যহীন অবস্থা: ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রথমটিতে (৫) ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির এবং কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু অন্য ব্যক্তির এ বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকায় অবস্থানটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়টি (৬) ভারসাম্যহীন অবস্থায় ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে অথচ ব্যক্তি যে বিষয়টিকে অপছন্দ করে অন্য ব্যক্তি সেটিকে পছন্দ করে। তাই ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৭) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং সে যে বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে অন্য ব্যক্তিও সেই বিষয়ের প্রতি অনুরূপ মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং এটি একটি ভারসাম্যহীন অবস্থা। চতুর্থ অবস্থায় ব্যক্তির (৮) অন্যব্যক্তি ও কোনো একটি বিষয়ের প্রতি প্রতিকূল মনোভাব রয়েছে এবং অন্য ব্যক্তিরও ঐ বিষয়টির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব থাকাতে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। উপরে বর্ণিত ভারসাম্যহীন অবস্থাগুলো ব্যক্তির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এজন্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি তৎপর হয়। এতে করে অন্য ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির মনোভাবের পরিবর্তন হবে অথবা বিষয়বস্তুটির প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন হবে যাতে করে ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং মানসিক চাপও দূর হবে। ত্রিভুজাকার সম্পর্কের তিনটিই ইতিবাচক হলে বা দুটি নেতিবাচক এবং একটি ইতিবাচক হলে ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ত্রিভুজাকার সম্পর্কের একটি বা তিনটিই নেতিবাচক হলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।
HSC Psychology 2nd Paper Chapter 3 : মনোভাব CQ — Prosthuti প্রশ্নব্যাংক
HSC · Psychology 2nd Paper · Chapter 3 : মনোভাব · সৃজনশীল
করিম যে মতবাদের প্রতি ইঙ্গিত করছে তার দুটি অবস্থা বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপক
Dhaka · 2019
উত্তর
উত্তর
উত্তর
উত্তর
চিত্র: ব্যক্তি (P). অন্যব্যক্তি (০) এবং একটি বিষয়বস্তুর (X) মধ্যে ভারসাম্যপূর্ণ এবং ভারসাম্যহীন অবস্থা। ভারসাম্যহীন অবস্থা: ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রথমটিতে (৫) ব্যক্তির অন্য ব্যক্তির এবং কোনো বিষয়বস্তুর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। কিন্তু অন্য ব্যক্তির এ বিষয়ের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকায় অবস্থানটি ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়টি (৬) ভারসাম্যহীন অবস্থায় ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে অথচ ব্যক্তি যে বিষয়টিকে অপছন্দ করে অন্য ব্যক্তি সেটিকে পছন্দ করে। তাই ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। তৃতীয় অবস্থায় (৭) ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে পছন্দ করে না এবং সে যে বিষয়ের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে অন্য ব্যক্তিও সেই বিষয়ের প্রতি অনুরূপ মনোভাব পোষণ করে। সুতরাং এটি একটি ভারসাম্যহীন অবস্থা। চতুর্থ অবস্থায় ব্যক্তির (৮) অন্যব্যক্তি ও কোনো একটি বিষয়ের প্রতি প্রতিকূল মনোভাব রয়েছে এবং অন্য ব্যক্তিরও ঐ বিষয়টির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব থাকাতে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। উপরে বর্ণিত ভারসাম্যহীন অবস্থাগুলো ব্যক্তির উপর চাপ সৃষ্টি করে। এজন্য ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তি তৎপর হয়। এতে করে অন্য ব্যক্তির প্রতি ব্যক্তির মনোভাবের পরিবর্তন হবে অথবা বিষয়বস্তুটির প্রতি মনোভাবের পরিবর্তন হবে যাতে করে ভারসাম্য ফিরে আসবে এবং মানসিক চাপও দূর হবে। ত্রিভুজাকার সম্পর্কের তিনটিই ইতিবাচক হলে বা দুটি নেতিবাচক এবং একটি ইতিবাচক হলে ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ত্রিভুজাকার সম্পর্কের একটি বা তিনটিই নেতিবাচক হলে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়।