উদ্দীপকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সত্য কথা বললে প্রায় পুরস্কার দেওয়া হতো, পরবর্তীতে দেখা যায় স্কুলের সকলেই সত্য বলছে। শিক্ষার্থীদের মনোভাব গঠনে এক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার প্রভাব লক্ষণীয়। নিচে ব্যাখ্যা করা হলো-
বাস্তব জীবনে মনোভাব গঠনের ক্ষেত্রে করণ সাপেক্ষীকরণ অন্যতম শিক্ষণ প্রক্রিয়া। স্কিনার সর্বপ্রথম করণ সাপেক্ষীকরণের ব্যাখ্যা দেন। করণ সাপেক্ষীকরণের মূল কথা হলো, যে আচরণের জন্য শিশু পুরষ্কৃত হয় সেটি তার মধ্যে বারবার দেখা যায়। আর যদি কোনো আচরণের জন্য তিরস্কৃত হয় তবে সেটি করা থেকে সে বিরত থাকে। যেমন , শিশুরা সত্য কথা বললে বাবা-মা, ভাই-বোনেরা যদি প্রশংসা করে তবে সত্যি কথার প্রতি শিশুর ইতিবাচক মনোভাব গড়ে ওঠে। অন্যদিকে মিথ্যা কথা বললে শিশু যদি শান্তি পায় তবে মিথ্যার প্রতি তার নেতিবাচক মনোভাবের সৃষ্টি হয়।
ইনস্কো (১৯৬৫) তাঁর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পরীক্ষণপাত্র নির্বাচন করে বসন্ত উৎসবের জন্য টেলিফোনে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন। অর্ধেক পরীক্ষণপাত্রকে তাদের পরিকল্পনা বর্ণনাকালে ইতিবাচক মন্তব্য দ্বারা পুরষ্কৃত করা হয় এবং অর্ধেকের উত্তরের নেতিবাচক মন্তব্য করা হয়। এক সপ্তাহ পর একটি প্রশ্নমালায় বসন্ত উৎসব সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করা হয়। ফলাফলে দেখা যায় যে. ইতিবাচক মন্তব্যপ্রাপ্ত ধারণার প্রাধান্য এ মতামতে প্রতিফলিত হয়েছে। এভাবে মনোভাব গঠনে পুরষ্কৃত আচরণের প্রবণতা অর্থাৎ করণ সাপেক্ষীকরণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা দেখা যায়।