উদ্দীপক-২ এ খেলার মাঠে শিশুদের আচরণ এবং স্কুলে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের আচরণ সম্পর্কে জানার জন্য জেরিন যথাক্রমে প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ ও পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি অবলম্বন করেছে।
পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলতে মূলত প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিকেই বোঝায় । প্রাকৃতিক পরিবেশে সংঘটিত কোনো ঘটনাকে অনুরূপভাবে পর্যবেক্ষণ করার জন্য প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। এ পদ্ধতিকে বিষয়গত বা পরোক্ষ পদ্ধতিও বলা হয়। কারণ এ পদ্ধতিতে অপরের বাহ্যিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তার মানসিক অবস্থা ও ক্রিয়া সম্পর্কে অনুমান করা হয়। প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে পরীক্ষণকারী স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। যেসব ঘটনাকে পরীক্ষাগারে তৈরি বা পুনরুৎপাদন করা যায় না, যেমন— জনতার দাঙ্গা, বিবাহ বিচ্ছেদ, সামাজিক সংঘর্ষ, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি ঘটনার কারণ নির্ধারণের জন্য মনোবিজ্ঞানী প্রকৃত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
আবার যখন কোনো পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী স্বাভাবিক পরিবেশে তথ্য সংগ্রহ করা হয় তাকে পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ বলে । এ ক্ষেত্রে ঘটনার কোন কোন উপাদান পর্যবেক্ষণ করতে হবে, কখন এবং কীভাবে করতে হবে, কী কী উপস্থাপন করতে হবে তা আগে থেকেই নির্দিষ্ট করা থাকে। যেমন- উদ্দীপকের জেরিন স্কুলে তার ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের অনেক ধরনের খেলনা দিয়ে দূর থেকে তাদের আচরণ লক্ষ করতে থাকলেন।
উল্লিখিত দুই ধরনের পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির মধ্যে পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ অধিক গ্রহণযোগ্য। কেননা প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যক্তি দোষে দুষ্ট এবং তথ্যের যথার্থতা প্রতিপাদন করা কঠিন ব্যাপার। সুতরাং বলা যায়, পদ্ধতিগত পর্যবেক্ষণ অধিক গ্রহণযোগ্য ।