উদ্দীপকে A এবং B দ্বারা যথাক্রমে পরীক্ষণ এবং নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে।
মনোবিজ্ঞানে ব্যবহৃত মূল পদ্ধতি হলো পরীক্ষণ পদ্ধতি। এ পদ্ধতিতে সুব্যবস্থিত ও সুপরিকল্পিত অবস্থায় সুনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অনুসন্ধানকার্য পরিচালনা করা হয়। প্রয়োগিক সংজ্ঞা প্রদান, বস্তুনিষ্ঠতা, প্রয়োজনানুযায়ী চলের পরিবর্তন, নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি এ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। পরীক্ষণ পদ্ধতিতে বস্তুনিষ্ঠভাবে অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা করা হয় এবং নির্দিষ্ট বিষয়কে সহজে ও স্পষ্টভাবে পর্যবেক্ষণযোগ্য ভাষায় সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়। পরীক্ষণ পদ্ধতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এখানে পরীক্ষক তার ইচ্ছানুযায়ী চল নিয়ন্ত্রণ মাত্রা, পরিমাণ বা শক্তি পরিবর্তন করে গবেষণাকার্য পরিচালনা করতে পারে। সুতরাং উদ্দীপকের A পদ্ধতি পরীক্ষণ পদ্ধতিকে নির্দেশ করে ।
নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি হলো এমন একটি অনুসন্ধান প্রক্রিয়া যেখানে উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো বিষয় বা ঘটনার সামনে উপস্থিত হয়ে প্রত্যক্ষভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হয় । মূলত এমন কতগুলো আচরণ রয়েছে, যা গবেষণাগারে সৃষ্টি করা যায় না। এসব আচরণ বা ঘটনা সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে তাকে। নিয়মতান্ত্রিক পর্যক্ষেণের অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য হলো— প্ৰথমত, পর্যবেক্ষণকারী স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে পরীক্ষণপাত্রের আচরণ পর্যবেক্ষণ করে এবং দ্বিতীয়ত, পরীক্ষণ পাত্রের স্বাভাবিক আচরণ যাতে বিঘ্নিত না হয়, পর্যবেক্ষণকারী সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখেন। সুতরাং বলা যায়, B পদ্ধতিটি নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণকে নির্দেশ করে।
পরিশেষে বলা যায়, পরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পদ্ধতি।