দৃশ্যকল্প-২ এ মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক চল নিয়ন্ত্রণের জন্য তুল্যমূল্যায়ন ও দৈবচয়ন পদ্ধতি ব্যবহার করেন। নিচে এ দুটি কৌশল আলোচনা করা হলো-
১. তুল্যমূল্যায়ন বা ভারসাম্য সৃষ্টি : এমন কতকগুলো অবাঞ্ছিত চল আছে যেগুলোকে অপসারণ বা অবস্থার সমতাকরণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার অন্যতম কৌশল হলো ভারসাম্য সৃষ্টি করা। এ পদ্ধতিতে সকল বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে সমান সমান দুটি দল গঠন করা হয়। একটি দলকে পরীক্ষণ দল অন্যদলকে নিয়ন্ত্রিত দল বলা হয়। এ দুটি দল সব শর্তের দিক থেকে সমান বা সমতুল্য থাকবে; পার্থক্য শুধু এই যে, পরীক্ষণ দলে অনির্ভরশীল চল প্রয়োগ করা হয় কিন্তু নিয়ন্ত্রিত দলে উক্ত চল প্রয়োগ করা হয় না। তাই দুটি দলের নির্ভরশীল চলের মধ্যে পার্থক্য পরিলক্ষিত হলে সেজন্য শুধুমাত্র অনির্ভরশীল চলকেই দায়ী করা হয়। নির্ভরশীল চলের পার্থক্য তুলনার জন্য নিয়ন্ত্রিত চল ব্যতীত অন্যসব দিক থেকে পরীক্ষণ দল ও নিয়ন্ত্রিত দলকে সমমানে গঠন করার মাধ্যমেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা হয়।
২. দৈবচয়ন : এমন কিছু অবাঞ্ছিত চল আছে যা সুস্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না এবং পূর্বোক্ত পদ্ধতিগুলোর সাহায্যেও নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, সেক্ষেত্রে দৈবচয়ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অবাঞ্ছিত চল নিয়ন্ত্রণের জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দেশ্যবিহীন কৌশলে নমুনা নির্বাচনের পন্থা অবলম্বনকেই দৈবচয়ন পদ্ধতি বলে । দৈবচয়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষণপাত্রের নিয়োগ প্রত্যেক পর্যায়ে এমনভাবে নির্দিষ্ট করা হয় যাতে প্রত্যেক পর্যায়ে প্রত্যেক পরীক্ষণপাত্রের নির্বাচিত হওয়ার সমান এবং নিরপেক্ষ সম্ভাবনা থাকে। দৈব নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো, সংশ্লিষ্ট চলসমূহ দ্বারা পরীক্ষণের ফলাফল কেবলমাত্র জৈব ঘটনার মাধ্যমে প্রভাবিত হতে পারে। দৈবচয়ন চল নিয়ন্ত্রণের একটি সহজ ও উত্তম পদ্ধতি ।