উদ্দীপক-১-এ দাঙ্গাকারী ও মিছিলকারী জনতার আচরণ গবেষণার পদ্ধতি হলো নিয়মতান্ত্রিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি। নিচে তা বর্ণনা করা হলো-
প্রাকৃতিক (স্বাভাবিক ) পরিবেশে সংঘটিত কোনো ঘটনাকে অনুরূপভাবে পর্যবেক্ষণ করার প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি বলতে মূলত প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিকেই বোঝানো হয়ে থাকে । প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ তখনই সর্বোত্তম পর্যবেক্ষণ হবে, যখন পরীক্ষণপাত্র বুঝতে না পারে যে তাকে পার্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। স্বাভাবিক পরিবেশে যা ঘটে তার উপর খুব কম নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পর্যবেক্ষণকালে যা কিছু ঘটছে, আমরা কেবলমাত্র সেসব আচরণই অনুধাবন করতে পারি। তাছাড়া স্বাভাবিক পরিবেশে নির্দিষ্ট চলনসমূহের মধ্যকার কার্যকারণ সম্পর্ক নির্ণয় করাও খুব কঠিন। এ পদ্ধতিকে বিষয়গত পদ্ধতি বলা হয়। একে আবার পরোক্ষ পদ্ধতিও বলা হয়। কারণ এ পদ্ধতিতে অপরের বাহ্যিক আচরণ পর্যবেক্ষণ করে তার মানসিক অবস্থা ও ক্রিয়া সম্পর্কে অনুমান করা হয়। প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতিতে পরীক্ষণকারী স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রেখে প্রাণীর আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। যে সকল ঘটনাকে পরীক্ষাণাগারে তৈরি বা পুনরুৎপাদন করা যায় না, 'যেমন- বিবাহ বিচ্ছেদ, সামাজিক সংঘর্ষ, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা ইতাদি ঘটনায় কারণ নির্ধারণের জন্য মনোবিজ্ঞানী প্রকৃত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রাকৃতিক পর্যবেক্ষণ পদ্ধতির সাহায্যে ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এ পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষককে ঘটনার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ পদ্ধতি ব্যক্তিদোষে দুষ্ট। এ পদ্ধতিতে প্রাপ্ত তথ্যের যথাযর্থতা প্রতিপাদন করা কঠিন ব্যাপার ।